ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

0
1828

মো. এনামুল হক লিটন
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সামরিক বাহিনীর বিপদগামী কর্মকর্তারা বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করে। ১৫ আগস্টের শোকাবহ এই দিনটি বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিরুর রহমান ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ বাঙালি জাতির জনক। তাঁর জীবনের বেশীরভাগ সময়ই কাটে কারাগারে। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সালে একজন বীর সাহসী তরুণ রাজনীতিবীদ শেখ মুজিবের সংগ্রামী জীবনের মূল অধ্যায় শুরু হয়েছিল এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে। ওই সময়টি ছিল এই উপমহাদেশের গণজাগরণের সময়। অবশ্য বাংলাদেশের মুসলিম রাজনীতির গোড়াপত্তন হয় ১৯০৫ সালে। এ সময় পূর্ববঙ্গের মুসলিম লীগও মুসলিম জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিলনা। নবাব জমিদার ও উচ্চবিত্তরা ছিলেন নেতেৃত্বে। যাদের রাজনীতি ছিলনা নিপীড়িত জনসাধারণের জন্য। এ মুসলিম নেতৃত্বে ১৯১১ সালের বঙ্গবঙ্গ রদ মেনে নিয়েছিলেন। ‘নাইট’ ‘নবাব’ উপাধি দিয়েই যাদের সন্তুষ্ট করা গিয়েছিল। তৎসময়ে তরুণ রাজনৈতিক গ্র“প ছিল তা থেকে ব্যতিক্রম। ব্রিটিশ রাজনীতির বিরুদ্ধে আনুগত্যের পরিবর্তে এ রাজনীতিকরা প্রতিবাদী রাজনীতির দিকে এগিয়ে গেলেন। এ রাজনীতির প্রধান প্রবক্তা ছিলেন বাংলার সংগ্রামী সন্তান আইনজীবি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং এদের আরেকজন হলেন পেশাজীবি পরিবারের অক্সফোর্ড থেকে আইনে বিসিএস ডিগ্রী নেয়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। রাজনীতিতে প্রবেশ করেই তিনি কলকাতার ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশিম নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান অনুসারী কামরুদ্দিন আহমদ তাঁর লিখিত ‘বাংলার মধ্যবিত্তের আতœপ্রকাশ’ গ্রন্থে বলেন, ‘তিনি (সোহরাওয়ার্দী) খুঁজছিলেন একজন সাহসী তরুণ নের্তৃত্ব, রাজনৈতিক সংগঠনে যার প্রতিভা আছে, যে তার সঙ্গে কাজ করবে আমরণ।’ বঙ্গবন্ধুন শেখ মুজিব ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সেই আমরণ সঙ্গী। নবাব জমিদার বিত্তের বন্দীদশা থেকে বাংলার মুসলিম রাজনীতিকে লোকজ রাজনীতিতে পরিণত করা, গণমূখী করে তোলার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে যে কয়েকজন ছাত্র, যুবক মাঠে নেমেছিলেন মুসলিম লীগ রাজনীতির যুবনেতা হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠেছিলেন-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। এ সময় ছাত্ররাজনীতিতে এগিয়ে আসা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪২ সালে ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হয়ে বেকার হোস্টেলে অবস্থানকালে তাঁর নিজ নের্তৃত্ব গুণে সেই রাজনীতির মূলস্রোতে চলে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাতারাতি যাদুর বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে নেতা বনে যাননি শেখ মুজিব। অস্ত্রের জোরেও ক্ষমতারোহণ করেননি তিঁনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গড়েছিলেন এক রক্তাক্ত আদর্শের পতাকা। ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহে ১৯৭১ সালে বিশ্বের মানচিত্রে প্রথমবারের মতো অঙ্কিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম ও একটি স্বাধিনতাযুদ্ধ। সমগ্র বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই মুক্তিসংগ্রামে। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা প্রাপ্তি বাঙ্গালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। যার নের্তৃত্বে ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিঁনি সৃষ্টি করেছিলেন ইতিহাস। তাই ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম অক্ষয়-অম্লান হয়ে থাকবে চিরকাল। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের হত্যাকারিরা তাকে হত্যা করে তাঁর নাম মুছে ফেলার যে চেষ্টা চালিয়েছিল, তা কেবল অপচেষ্টায় পর্যবসিত হয়েছে। কোটি-কোটি মানুষের মনে তিনি তাই চিরভাস্বর, ইতিহাসের মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here