উজিরপুরে বিএনপির একক আধিপত্য বিস্তারের কারণে ঝিমিয়ে পড়ছে রাজনীতি দলে দ্বিধাবিভক্তি, কোন্দল প্রকট

0
487

উজিরপুর প্রতিনিধি ঃ উজিরপুরে বিএনপির একক আধিপত্য বিস্তারের কারণে দলীয় কোন্দল দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দ্বন্ধ আরো প্রকট আকার ধারণ করে। উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু ঐ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় যোগদান ও কেক কাটার কথা ছিল। কিন্তু ঐ অনুষ্ঠানে হঠাৎ উপস্থিত হন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক উজিরপুরের সন্তান কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু। তিনি অবশ্য সভায় বক্তব্য প্রদান করেন। এ ঘটনাটি প্রধান অতিথি জানতে পেরে পথিমধ্যে রহমতপুর থেকে ঘুরে বরিশালে চলে যান। এমনকি সাংবাদিকদের প্রেস লিস্টেও কাজী রওনাকুল ইসলামের নাম দেওয়া হয়নি, এ কারণে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন। আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উজিরপুর-বানারীপাড়ার বিএনপির একাধিক নেতা নিজেদেরকে জানান দিতে বিভিন্ন সভা সমাবেশে উপস্থিত হতে চাইলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা পড়েন মহা বিপাকে। কেননা,  একমাত্র এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু ব্যতীত অন্য নেতার সাথে কোন নেতাকর্মী ঘুরলেই পড়বে মাইনাস ফর্মূলায়। এ কারণে অনেককে বহিষ্কার করাও হয়েছিল। সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পন্থিদের নেতা বিপ্লব মোল্লা, ফিরোজ হোসেন, সৈয়দ ইউসুফসহ অনেককেই দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে দেয়া হয়নি। ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সহকারী সচিব এ্যাডঃ এস.এম.এ বকরের অনুসারী বানারীপাড়া বিএনপির একাংশের সভাপতি এইচ.এম সালেহ আহম্মেদ, সম্পাদক মাহাবুব মাষ্টার, উজিরপুর পৌর বিএনপি নেতা রফিকুজ্জামান লিটন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনিরুজ্জামান লিখনসহ একটি গ্রুপকেও এর খেসারত দিতে হয়েছে। ২০১৩ সালে বিএনপি নেতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার কর্ণেল সৈয়দ আনোয়ার হোসেন এলাকার নেতাকর্মীদেরকে ঈদ শুভেচ্ছা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এস.সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর রোষানলে পড়েন। এমনকি তার ব্যানার, ফেষ্টুন খুেেল ফেলা হয়েছিল। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ দুলাল হোসেন এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে তাকেও তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল। এ ছাড়া ছাত্রদল নেতা তাওহীদ বিল লাবিদ, মাহাবুবুল ইসলাম ধলু কাজী, কালাম ফরাজী, নয়ন, আলাউদ্দিন, মাহাতাব, সোহেলসহ একাধিক নেতাকর্মী জানান, ঐ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সভায় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ সাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম গুঠিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের তোপের মুখে পড়ে এক পর্যায়ে সাইদুল ইসলাম সভাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ সকল কারণেই উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, ছাত্রদলের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি। এ ব্যাপারে উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মাজেদ তালুকদার মান্নান মাষ্টার জানান, দলের দুর্দিনে দীর্ঘ ১০টি বছর এ সকল নেতাকর্মী কোথায় ছিল ? নির্বাচন আসলেই অতিথি পাখির মত তাদের আনাগোনা দেখা যায়। এস.সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে মেধা, অর্থ, শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। দলের মধ্যে ঢুকে কতিপয় ব্যক্তি দলকে গ্রুপিং করে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এস.সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here