দু’পা হারা বেলালের জীবন সংগ্রাম

0
1532

মো. এনামুল হক লিটন
দুই পা পুরোপুরী নেই। প্রবল মনের শক্তি আর দুই হাতের সাহায্যে আর দশজন শ্বয়ংসম্পন্ন মানুষের মতোই সব কাজকর্ম সাড়ছেন, বেলাল হোসেন (৩৩)। পেশায় একজন মোবাইল, টিভিসহ যে কোনো ইলেক্ট্রনিক্স মেকানিক। বাহির থেকে বেলালকে দেখে কখনোই বুঝা যাইনি, যে বেলালের দুটি পা নেই। প্রায় ১ বছর পূর্বে চট্টগ্রামের একটি পত্রিকায় বেলালকে নিয়ে করা একটি প্রতিবেদন দেখে কৌতুহল জাগে তাঁকে খুঁজে বের করার। যথারীতি বেলালের সন্ধান পেলাম। চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ কলোনীর প্রবেশ মুখে খাজা ইলেক্ট্রিক এন্ড মোবাইল সার্ভিসিং নামে তার দোকান। দোকানের সামনে গিয়ে দাড়ালে, বেলাল সালাম দিয়ে বসতে বলে। তখনো হাস্যজ্জল বেলালকে দেখে বুঝা যায়নি যে, তার দুটি পা নেই। এক পর্যায়ে তাকেই জিজ্ঞাসা করে ফেলি প্রতিবন্ধি বেলাল কে? স্বভাবসূলভ হাসি দিয়ে বলেন, আমিই বেলাল। দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেল, চেয়ারের উপর বসা বেলালের দুটি পা পুরোপুরীই নেই। পা ছাড়া চলাফেরা করতে সমস্যা হয় কিনা জিজ্ঞাসা করতেই সে বলে, সমস্যাতো একটু হবেই। তবুওতো চালিয়ে নিতে হবে। মানুষের কাছে হাত না পেতে কর্ম করে খাওয়াটা অনেক ভালো। ছোট বেলায় খেলার ছলে ট্রেনে চড়তে গিয়ে দু’পা হারানোর বর্ণনা করেন তিনি। বেলালের মা, স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে থাকেন, বায়েজিদ থানার  আতুরার ডিপো সংলগ্ন তুলা কোম্পানী এলাকায়। মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান পরিচালনা করে যা পাওয়া যায়, তা দিয়ে কোনমতে বাসা ভাড়া দিয়ে সংসার চলে তার। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার খরচ চালাতে হয় বেলালের। মানুষের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতার অভ্যাস না থাকায়, বেলাল সেই সকাল থেকে রাত অবধি দোকানে বসে থেকে দু’হাতের জোরে সব কাজকর্ম সম্পাদন করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ব্যবসা এখন অনেকটা মন্দা। আমার যদি দুটি পা থাকতো তাহলে, অন্য পেশায় চলে যেতাম। সরকারি কোনো সহযোগিতা পায় কিনা জানতে চাইলে, তিনি জানান শারিরীক প্রতিবন্ধি হিসেবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে বাৎসরিক ভাতা পায়। তবে শারিরীক প্রতিবন্ধি হয়েও বেলাল কর্ম করে সমাজে যে দৃষ্টান্ত স্থাপণ করেছে, তা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। তাই বেলালের ব্যবসার আরো প্রশার ঘটাতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here