পাচার কালে ঝুট বোঝাই ট্রাক থেকে বিপুল পরিমান কাপড় উদ্ধার

0
1313

আশুলিয়ার ঢাকা রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকার(ডিইপিজেড) একটি কারখানা থেকে অবৈধভাবে পাচার কালে ঝুট বোঝাই ট্রাক থেকে বিপুল পরিমান কাপড় উদ্ধার করেছে বেপজা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে আশুলিয়ার রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ নতুন জোন এলাকা থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।
বেপজার সিকিউরিটি ইনর্চাজ সোয়েব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক, কাভার ভ্যান, পিকআপে করে প্রক্রিয়াকরণ এলাকা থেকে কারখানার মালামাল নিয়ে আসা যাওয়া করে। সেগুলো নিয়মিত ভাবে তল্লাশী করা হয়। এর আগেও তথ্য ছিল লাইসেন্স কৃত ব্যবসায়ীরা ঝুটের আড়ালে অবৈধভাবে কাপড় বা মূল্যবান জিনিসপত্র অবৈধভাবে পাচার করে নিয়ে যায়। আজকে বিকেলে নিয়মিত তল্লাশীর সময় একটি ট্রাক নজরে আসে। পরে ট্রাকটি তল্লাশী করে ঝুট কাপড়ের নিচে কারখানার বিপুল পরিমান অবৈধ কাপড় পাওয়া যায়। এসময় মালামাল গুলো উদ্ধার করা হয়। তবে কৌশলে ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নতুন জোনের ইওএস কারখানার ঝুট এই ট্রাকে করে বের হচ্ছিল। আরও যাচাই বাছাই করে কে বা কারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সে সর্ম্পকে বলা যাবে। তদন্ত করে কারখানা ও লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে কাস্টমসের সহাকরী রাজস্ব কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার হালদার জানান, নতুন ডিইপিজেডের ইওএস টেক্সটাইল লিমিটেডের ৬৭০০কেজি কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। ঝুটের ট্রাকে অবৈধভাবে পাচার কালে উদ্ধার করা হয়। কাস্টমস বাদী হয়ে ঐ কারখানার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পণ্য পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া জরিমানান বাবদ এক লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি কাপড়ের সবোচ্চ মূল্যও পরিশোধ করতে হবে। এদিকে আলিফ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে বেপজা কর্তৃপক্ষ লাইন্সেস বাতিলের করার সম্ভবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি বেজপার কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।
ইওএস টেক্সটাইল লিমিটেড এর কারখানার মহাব্যবস্থাপক জেনেডিক জানান, আলিফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মাধ্যমে কারখানার ঝুট নেয়।আজকেও কারখানা থেকে একটি ট্রাকে করে ঝুট নিয়ে যায়। তবে ঝুটের ভিতর কাপর নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেপজার কাছে ধরা পরে। এব্যাপারে কারখানার যেই জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ওই কারখানার ঝুট লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নাম আলিফ এন্টারপ্রাইজ । যার স্বত্তাধীকারী হচ্ছেন আশুলিয়া থানার যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শাহাদাত হোসেন খান। সে ইপিজেডের বাইরেও কয়েকটি কারখানায় ঝুট ব্যবসা রয়েছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আলিফ এন্টার প্রাইজের মালিক শাহাদাত হোসেন খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আলিফ এন্টারপ্রাইজ তার নিজ প্রতিষ্ঠান স্বীকার করেন। তবে ডিইপিজেডের প্রধান ফটকে ঝুট ব্যবসার আড়ালে কাপড় অবৈধভাবে পাচার সময় জব্দের বিষয়টি জানতে চাইলে ব্যবস্থা দেখিয়ে সংযোগটি কেটে দেন। পরে একাধীক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেননি।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here