শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা ছাড়া উপায় নেই

0
14358

সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের বিকল্প নেই
দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে টপ টেন এ উন্নীত করাই আমাদের লক্ষ্য
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। সুন্দর সমাজ  বিনির্মাণ, সভ্যজাতি ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সু-শিক্ষায় শিক্ষিত সুনাগরিক গড়ার কারিগর হল শিক্ষক। সুনাগরিক গড়তে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার শিক্ষা বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখেন। ফলে দিন দিন শিক্ষার হার এবং সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষার মানোন্নয়ন হচ্ছে। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে আসছে। শিক্ষার পরিবেশ ও উন্নত শিক্ষা দান পদ্ধতির ফলে নকল প্রবণতা হ্রাস  পাচ্ছে। অভিভাবকগণ সন্তানের সু-শিক্ষার জন্য উন্নত স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোঁজেন তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই কোমলমতি শিশু কিশোরদের সঠিক পদ্ধতিতে উত্তম শিক্ষায় শিক্ষিত সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষকগণ। শিক্ষককে হতে হবে সৎ, চরিত্রবান, দায়িত্বশীল এবং শিক্ষাদানে যতœশীল হতে হবে। শিক্ষকতা শুধু একটি চাকুরী নয়, সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশলী বা কারিগরের ভূমিকা পালনে মানসিকতা থাকতে হবে বলে অপরাধ বিচিত্রার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ তুহিনের সাথে এক সাক্ষাৎকালে একথাগুলো বলেন- চাঁদপুর জেলাধীন মতলব উত্তর উপজেলার দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনসুর আহাম্মদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনসুর আহাম্মদ আরো বলেন-চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত মতলব উত্তর উপজেলার ঐ তিহ্যবাহী জনপদ মোহনপুরে দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ। যে সকল প্রয়াত ক্ষণজন্মা মহতী মানুষের অবদানে আজকের এই বিদ্যালয়, আমি তাঁদেরকে সশ্রদ্ধ চিত্তে ষ্মরণ করছি এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। তথ্যপ্রযুত্তির এ যুগে পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশসহ সার্বিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ অবদান রাখার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীরবিক্রমকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। এ বিদ্যালয়ে জেএসসি এবং এস.এস.সি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের অবদান চিরস্বণীয়। চাঁদপুর জেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি মহোদয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সভাপতি অত্র বিদ্যালয়ের  ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি জনাব সামছুল হক চৌধুরী (বাবুল) কে জানাই আমার অজস্র শ্রদ্ধা ও সালাম। কারণ আমার দেখা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের  মধ্যে তিনি-ই অন্যতম একথা নির্দ্ধিধায় বলতে পারি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার বলেন- বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলাটি একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। শিক্ষা-দীক্ষায় জনপদটির পরিচিতি সু-প্রাচীন। একসময় এই এলাকার মানুষ স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা অর্জনে যেত দূর-দূরান্তে। চাঁদপুর, ঢাকা অথবা কলকাতায়। সচেতন ও নেতৃস্থানীয় এলাকাবাসী নিজ এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন অনুভব করতে থাকেন। আজ থেকে প্রায় ৭০ বৎসর পূর্বে এক মাহেন্দ্রক্ষণে ১৯৪৫ সালে এই এলাকাকে আলোকিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয় দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানটি জন্মলগ্ন হতে এ দেশের মানব সম্পদের ও মানবীয় গুণাবলি বিকাশে তথা শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কৃষ্টি, সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেমে বলীয়ান সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার কারিগর হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঐতিহ্য ও গর্বের উপাখ্যান ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম তৎকালীন মোহনপুর বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে সবুজ ছায়াবীথি পরিবেষ্টিত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে টিনের চৌচালা ঘরে শুরু হয় এবং ১৯৮৬ খ্রি. পর্যন্ত ঐ স্থানেই শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকে। তবে শেষদিকে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙ্গগন, বন্যা, জলোচ্ছাস, ইত্যাদি কারণে বিদ্যালয় ভবনের প্রভুত  ক্ষতি সাধিত হয়। বিদ্যালয় ভবনের দৈন্যদশা দেখে ১৯৭৩-৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়ের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মরহুম আলী আহমেদ মিয়া (নাছিরার কান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মাননীয় মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীরবিক্রমের পিতা) বিদ্যালয়ের জন্য নিজস্ব অর্থে ১০০*৩০ পাকা দালান নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদে নামাজ পড়াকালীন দুর্বৃত্ত কর্তৃক তিনি অপহৃত ও নিহত হবার পর দালানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা আর সম্ভব হয়নি।
১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে আমাদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয়টি মেঘনা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হবার উপক্রম হলে সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু ও বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত বাবু নারায়ণ চন্দ্র দাস ও এলাকার কৃতী সন্তান মরহুম কাজী আব্দুল মজিদ ( সাবেক চেয়ারম্যান) এর নেতৃত্বে এবং মরহুম আমির হোসেন হাওলাদার, মরহুম আব্দুল মান্নান মিয়া (সাবেক চেয়ারম্যান), মরহুম ডা. আমির হামজা সরকার, মরহুম আব্দুল আজিজ তপাদার, মরহুম আব্দুল হান্নান তপাদার, প্রয়াত বাবু প্রিয় বল্লভ সাহা, মরহুম কাজী সিরাজুল হক, মরহুম আলাউদ্দিন প্রধান, মরহুম ডা. সোলায়মান মৃধা, মরহুম আজহারুল ইসলাম, জনাব সামছুল হক চৌধুরী (বাবুল বর্তমান চেয়ারম্যান), মরহুম সোলায়মান ঢালী (সাবেক মেম্বার), মরহুম গোলাম মাওলা মাষ্টার, মরহুম দেওয়ান মোঃ ছানাউল্লাহ, আব্দুল মতিন (তৎকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক), মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার (শিক্ষক) প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ এবং মোহনপুর যুব সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন সাথীমহল, বন্ধুমহল ও জাগরণী ক্লাবের সদস্যবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সার্বিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি বর্তমান অবস্থানে পুনঃ স্থাপিত হয়। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরের পর বিদ্যালয়ের জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থা থেকে সুদৃশ্য অবকাঠামোয় উন্নয়ন ও যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশ বিনির্মাণসহ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে যিনি বলিষ্ঠ অবদান রেখেছেন তিনি হলেন মোহনপুরের আর এক কৃতী সন্তান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীরবিক্রম, এমপি। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও সহযোগিতায় এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সুযোগ্য নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে ২০১০  খ্রিষ্টাব্দে জেএসসি ও ২০১১ সালে এস.এস.সি পরীক্ষার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি গৌরবময় ঘটনা হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ বিদ্যালয়ে পদাচারণ। ১৯৬৯ এর মহান গণঅভ্যুত্থানে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে চাঁদপুর যাওয়ার পথে স্বাধীনতার স্থপতি এই মহানায়ক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাফেজ হাবিবুর রহমান ও চাঁদপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরীকে নিয়ে লঞ্চ থেকে নেমে বিদ্যালয় মাঠে পদার্পন করেন এবং বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। বঙ্গবন্ধুর এ ঐতিহাসিক পদাচারণ দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বর্তমানে দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিদ্যালয় হতে বৃত্তি প্রদান, বিনা মূল্যে বই বিতরন ও বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ সহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ৪ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করে চাঁদপুর জেলার মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলে  দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে টপ টেন এ উন্নীত করার জন্য সর্বাতœক চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। বিদ্যালয়ের পড়া লেখার মান উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষিাগন ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্যগন।এবং এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্ঠা এখনো অব্যাহত আছে।
আমাদের কথা-শিক্ষকরাই আমাদের শক্তি তারা একটি সুন্দর দেশ গড়ার কারিগর। নতুন প্রজন্মকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হিসেবে তৈরি করতে শিক্ষকদের বিকল্প নেই। এই প্রজন্মোর ভবিষ্যৎ শিক্ষকদের হাতেই ন্যস্ত। আমরা ও চাই দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান উন্নয়নের ভালো ফলা ফলের পাশা-পাশি চাঁদপুর জেলার মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − eight =