বলিউডের ছবি বিতর্কিত মুক্তির আগেই

0
788

শিল্পিঃ বলিউডে  প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের ছবি নির্মিত হয়। রোমান্টিক, অ্যাকশন, ভিন্ন ধারার সব ছবিই দেখা যায় বলিউডে। তবে ইতিহাস বলে, বলিউডের অনেক ছবি মুক্তির আগেই বিতর্কিত হয়েছে।  রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কিছু কারণে অনেক ছবি মুক্তির আগেই সেন্সর বোর্ডের তোপের মুখে পড়েছে। আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীও অনেক ছবি মুক্তির আগে বিরোধিতা করেছে। কিছু ক্ষেত্রে সেসব বিতর্কিত ছবি পরবর্তী সময়ে মুক্তি পাওয়ার পর সুপারহিট ব্যবসাও করেছে। সম্প্রতি সঞ্জয় লীলা বানসালির বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বলিউডে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়।

আলোচিত পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির ১৯০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত ইতিহাসনির্ভর ছবি ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। বলা হচ্ছে দীপিকা পাডুকোন, রণবীর সিং ও শাহীদ কাপুর অভিনীত এই ছবিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। রাজস্থানের রাজপুত গোত্রের লোকেরা এই ছবি শুটিংয়ের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। যদিও ইতিহাসে ‘পদ্মাবতী’ নামে কোনো রানি ছিলেন কি না তাও অনেকটা বিতর্কিত বিষয়। তুমুল বিতর্ক, বিক্ষোভের কারণে ডিসেম্বরে ছবিটি মুক্তির কথা থাকলেও তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালে বানসালির আরেকটি ছবি ‘গোলিও কা রাসলীলা: রামলীলা’ ছবিটি কট্টরপন্থী হিন্দুদের তোপের মুখে পড়ে। প্রথমে ছবির নাম ‘রামলীলা’ রাখা হয়। অবতার রামের নাম জড়িত থাকায়, ছবির পরিচালক, অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে নাম পাল্টে ছবিটি মুক্তি দেয়া হয়।
তবে ছবি নিয়ে বিতর্ক এমনকি সহিংস ঘটনা নতুন নয়। সেই ১৯৭৩ সালের ছবি ‘গরম হাওয়া’ ছবিটি আটকে দেওয়া হয়েছিল। ভারত বিভক্তির পর একটি মুসলিম পরিবারের ভারতে টিকে থাকার সংগ্রাম দেখানো হয় ছবিটিতে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কায় ছবিটি ৮ মাস নিষিদ্ধ ছিলো। পরে মুক্তির পর ছবিটি বেশ কিছু পুরস্কারও জিতে নেয়। গুলজার পরিচালিত ১৯৭৫ সালের ছবি ‘আঁধি’ নিয়ে বিতর্ক ছিলো অনেক। সুচিত্রা সেন ও সঞ্জীব কুমার অভিনীত ছবিটিতে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির জীবন কাহিনী উঠে এসেছে বলে অভিযোগ ছিলো। যে কারণে নিষিদ্ধ ছিলো ছবিটি। পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ছবিটি মুক্তি দিলে ঘটে উল্টো ঘটনা। সবাই ছবিটির প্রশংসা করে। ফলাফল ‘আঁধি’ হিট।
বলিউডের অন্যতম সেরা ছবি ‘ব্যান্ডিট কুইন’ ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। দস্যু ফুলন দেবির জীবনী নিয়ে ছবিতে অতিরিক্ত অশালীন ভাষা ও  যৌনতার অভিযোগ ছিলো। ছবিটি নিয়ে দস্যু ফুলনও অভিযোগ করেছিলেন। নব্বইয়ের দশকের আরেকটি তুমুল সমালোচিত ছবি ‘ফায়ার’। ১৯৯৬ সালে শাবানা আজমী ও নন্দিতা দাস অভিনীত এই ছবিতে সমকামিতা দেখানো হয়, যা বলিউডের ছবিতে আগে দেখা যায়নি। আমীর খান অভিনীত, রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ২০১৪ সালের ছবি ‘পি কে’-তে ধর্মের নামে ভারতে কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দেয়া হয় বলে যে বার্তা দেয়া হয়, তা বিতর্কের ঝড় তোলে। সব ধর্মীয় গোষ্ঠী ছবিটির সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। তবে এরপরও সুপার-ডুপার হিট হয় ছবিটি।
অভিষেক চৌবে পরিচালিত গত বছরের  ছবি ‘উড়তা পাঞ্জাব’ এ পাঞ্জাবের তরুণদের মাঝে অতি মাত্রায় ড্রাগ আসক্তির কথা তুলে ধরায়, ছবিটি বিতর্কের জন্ম দেয়। প্রদেশটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে- এই অভিযোগ তোলা হয় ভারতীয় সেন্সর বোর্ড থেকে। পরে ৯৪টি দৃশ্য বাদ দিয়ে ছবিটি মুক্তি পায়। করণ জোহর পরিচালিত ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিটি ভিন্ন এক কারণে বিতর্কের জন্ম দেয়। গত বছর জম্মু কাশ্মিরে পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলায় ভারতীয় সেনাদের মৃত্যুর প্রতিবাদে পাকিস্তানি কোনো শিল্পীর ছবি মুক্তি না দিতে বিক্ষোভ করেন সিনেমা হল মালিকরা। পরে অনেক আলোচনার পর মুক্তি দেয়া হয় ছবিটি। ছবিতে পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খান ও ইমরান আব্বাস অভিনয় করেছিলেন।

চলতি বছরের ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’ ছবিটিতে মেয়েদের যৌন জীবনকে প্রাধান্য দেয়া হয়। প্রথমে সেন্সর বোর্ড ছবিটি নিষিদ্ধ করে। পরে বেশ কিছু দৃশ্য বাদ দেয়ার পর অবশ্য মুক্তি পায় ছবিটি। আর বোদ্ধাদের প্রশংসার পাশাপাশি ব্যবসায়িক সাফল্যও পায়। এছাড়া ২০০৫ এর ছবি ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’, ‘ওয়াটার’সহ বেশ কয়েকটি ছবি সংবেদনশীল কাহিনীর জন্য মুক্তির আগেই  বিতর্কিত হয়ে পড়ে।

 

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × three =