Site icon Aparadh Bichitra

গণধর্ষণের পর ভয়াবহ নির্যাতন করে হত্যা

ভারতের হরিয়ানায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর ভয়াবহ নির্যাতন করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গাসহ বিভিন্ন জায়গায় ১৯টি গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র জেলার ঝানসা গ্রামের ওই কিশোরী গত সপ্তাহে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। গত শনিবার (১৩ জানুয়ারি) জিন্দ জেলায় একটি খালের পাশ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত অর্ধনগ্ন লাশ পাওয়া যায়।

পিজিআই রোহতকের চিকিৎসক এস কে দত্তরওয়াল বলেন, “তার মুখ, ঘাড়ে, গলা ও বুকে ক্ষত ছিল। ওর যকৃৎ ও ফুসফুসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার গোপনাঙ্গে শক্ত কিছু ঢুকিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়। সে যে যৌন নির্যাতনের শিকার তা স্পষ্ট। তার ক্ষত দেখে মনে হচ্ছে, তিন-চারজন এ ঘটনায় জড়িত।” ওই চিকিৎসক আরো বলেন, “মরদেহ দেখে এটা স্পষ্ট যে কিশোরিটি পালাতে লড়াই করেছিল। কিন্তু আবার তাকে ধরা হয় এবং তার বুকের ওপর চেপে বসেছিল কেউ।” মেয়েটির বাবার অভিযোগ, “আমার মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়। ওকে নির্যাতন করা হয়…প্রশাসন যদি তার কাজ ঠিকমতো করত, তাহলে আমার মেয়ের এমন ঘটনা ঘটত না।” এদিকে এই ঘটনায় দুটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জিন্দ পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর ঝাঁসা থানায় মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ডায়েরি করা হয়েছিল। যেদিন মেয়েটি নিখোঁজ হয়, ওই দিনই এলাকার একটি ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। এই ঘটনার পেছনে ওই ছেলেটির হাত থাকতে পারে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন মেয়েটির বাবা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। কুরুক্ষেত্র জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক গার্গ বলেন, “সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে কাউকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত এখনও চলছে। এফআইআরে উল্লিখিত ছেলেটির ভূমিকা যাচাই করছি। আমরা তার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।” লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে শুরু হয়েছে ‘বেটি বাঁচাও’ কর্মসূচি। আর এরই মধ্যে রাজ্যে এ ঘটনাসহ তিনটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। গত শনিবার হরিয়ানার পানিপাত জেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। গতকাল রোববার ফরিদাবাদে ধর্ষণের শিকার হন ২২ বছরের এক তরুণী। গত মাসে হিশার জেলায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে দিল্লিতে ২০১২ সালের চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার ‘নির্ভয়া’ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় ভারতজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে।