ভুল অপারেশনে রোগির মৃত্যু সাভারের এমপি এনামুর রহমানের এনাম মেডিকেল যেন মরণ ফাঁদ

7
32520

মোঃ আহসানউল্লাহ হাসানঃ
অসুস্থ্য মানুষের সুস্থ্য হওয়ার শেষ ভরসাস্থল হলো মেডিকেল আর ডাক্তার। কিন্তু সেই মেডিকেল যদি হয় মরণ ফাঁদ আর ডাক্তার যদি হয় কসাই তাহলে কবরস্থান ছাড়া মানুষের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকেনা। তার উপরে মেডিকেলের মালিক যদি হয় ক্ষমতাসীন এমপি তাহলে সব কিছুই থাকে জবাবদিহিতার উর্দ্ধে। কার বুকের পাটা থাকে যে এমপি কাছে তার অন্যায়ে জবাব চাইবে। সমস্ত জবাবদিহিতার উর্দ্ধে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ এনামুর রহমানে এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল সেবার নামে সাধারন মানুষে বুকে কসাইয়ের মতো নির্দয়ভাবে ছুরি চালিয়ে এভাবেই হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা আর টাকা। কে মরলো আর কে বাচঁলো তাতে কোন কিছুই আসে যায়না এমপি সাহেবের। দিন শেষে ক্যাশ বাক্স ভর্তি টাকা হলেই হলো।

এক রোগে দশ রকমের টেষ্ট, প্রয়োজন ছাড়াই অপারেশন, ঔষধের লম্বা প্রেসক্রিপশন সহ রোগিকে দীর্ঘদিন জিম্মি করে চলে সেবার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অপচিকিৎসা। প্রতিনিয়তই ঘটে রোগির মৃত্যু। এমপির রোষানল থেকে বাঁচতে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন শুধুই পালন করে নিরব দর্শকের ভূমিকা। এই নিয়ে সাধারন মানুষের ক্ষোভের যেন অন্ত নেই। জানা গেছে, ৫ সেপ্টম্বর সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর পর তিনবার ভুল অপারেশনের ফাঁদে পড়ে রোকসানা নামের এক প্রসুতির মৃত্যু ঘটেছে। মৃত্যুর পরে রোকসানার লাশ আটকে রেখে তার পরিবারের নিকট থেকে ৩ লাখ টাকা বিল বাবদ আদায় করে নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে রোকসানার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। রোকসানা ধামরাই উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের জলশীন গ্রামের মোঃ লাল মাহমুদের স্ত্রী। ৫ সেপ্টম্বর প্রসব বেদনার হলে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করানো পরে তার সিজার অপারেশন করা হয়। এতে সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। রোকসানার অভিভাবকরা জানান, অপারেশনের পর রোকসানার পেটের ভেতরের স্তরে সেলাই না করে শুধু উপরের স্তরে সেলাই করে তাকে কেবিনে দেয়া হয়। কিন্তু এত তার প্রচুর পরিমানে রক্তক্ষরণ হলে গাইনি ডাঃ ফরিদার পারভিনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। ফলে ওই দিন রাত ১০ টার দিকে তার দিতীয় দফায় অপারেশন করা হয়। এতেও তার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে অভিভাবকের সাথে কোন পরামর্শ ছাড়াই রোগিকে বৃহস্পতিবার সকালে ৩য় দফায় আবারো অপারেশন করা হলে রোগির মৃত্যু ঘটে অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি রোকসানার অভিভাবকদের না জানিয়ে মৃত রোকসানাকে আইসিওতে রাখা হয়। এতে অভিভাবকদের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। তার শুক্রবার সকালে প্রসুতি ও নবজাতককে রিলিজ দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতে কোন কিছুই মনে করে না। বরং তারা হাসপাতালের বিল বাবদ ৩ লক্ষ টাকার জন্য নবজাতক ও মৃত রোকসানার লাশ আটক রাখলে রোকসানার পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৩ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিলে তারা তাদেরকে রিলিজ দেয় এবং এই ঘটনাকে নিয়ে যেন কোন প্রতিবাদ করা না হয় তার জন্য তাদেকে কঠোর হুশিয়ারী দেয়া হয়। রোকসানার ভগ্নিপতি শওকত খান বলেন ডা. ফরিদা পারভিনের ভুল অপারেশনের কারনে রোকসানার মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া এনাম মেডিকেলের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ সাধারন জনগন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মালিক ডা. এনামুর রহমান। তিনি বর্তমানে আমাদের এমপি। তার হাসপাতালে কসাইখানার মতো সেবা প্রধান করা হয়। যা কখনোই মেনে নেয়া যায়। অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় এখানে ৫ গুন বেশী টাকা নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রশাসনিক লোকজন পার্শ্ববতী হাসপাতাল গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও এনাম হাসপাতালটি এমপির হওয়াতে সবাই চোখ বন্ধ করে রাখে। কেউ কোন প্রতিবাদ করে না। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবধি হাজারো অনিয়ম করে বার বারই পার পেয়ে যাচ্ছে। এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ গুলো পর্যবেক্ষন করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

7 মন্তব্য

  1. শালারে গরম পানিতে চুবানো দরকার। আর এমন লোক দলে থাকলে এটা দলের জন্য অনেক বিপদ জনক এবং দলের ও অনেক বদনাম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 3 =