প্রতিটি খাতে সংস্কার করতে হবে, সংস্কারের বিকল্প নেই : অর্থমন্ত্রী

0
120

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ের সময় আত্মীয়স্বজন চেনা যাবে না। পাশাপাশি ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা দিতে হবে।

 

বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার ও স্প্রেড বেশি- এটা কমাতে হবে। বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতিটি খাতে সংস্কার করতে হবে, সংস্কারের বিকল্প নেই। রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কম কর ধার্য করে বেশি পরিমাণে আদায় করতে হবে। সোমবার বঙ্গভবনে শপথ শেষে তিনি চলে আসেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নয়া অর্থমন্ত্রী দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে কথা বলেন। ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ কালচার অনেক পুরনো। গত দশ বছরের আগের সরকারের সময় থেকে এটা শুরু হয়েছে। খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে ১৩ শতাংশ। যা অনেক বেশি। এটি ৭-৮ শতাংশ হলে ঠিক ছিল। এখন এ হার নিচের দিকে নামিয়ে আনতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অনেক শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ। এ ক্ষেত্রে আমরা আত্মীয়স্বজন কাউকে চিনি না। চেনার দরকার নেই। যে ঋণ পরিশোধ করছে সে ভালো গ্রাহক, তাদের উৎসাহিত করা হবে। ভালো ঋণগ্রহীতাকে প্রণোদনা দেয়া হবে। এটি হলে খারাপ ঋণ গ্রহীতারাও এগিয়ে আসবে। মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো কখনও বেসরকারি ব্যাংকের মতো কাজ করতে পারবে না। বেসরকরি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হবে বেশি মুনাফা করা। ব্যাংকের সবাইকে খারাপ বলব না। আমি বলব, যে কাজটি করা উচিত সেটি করতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমেই হবে উন্নয়ন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের চুক্তি ভালোভাবে দেখতে ব্যাংকগুলোকে পেশাদার আইনজীবী ও ফার্ম নিয়োগ দিতে বলেন। একই সঙ্গে মানুষের আস্থা সৃষ্টি করারও পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাত ভালো অবস্থানে আছে। যেটুকু খারাপ তা সব দেশেই আছে। আর্থিক খাতের সমস্যা শনাক্ত করে সংস্কার করতে হবে। সংস্কারের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আর্থিক খাত আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ টাকা লাভ হলে সেখানেও বিনিয়োগ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। তবে খারাপদের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তবে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা বা জেলে পাঠানো যাবে না। তবে আমরা চাই, সরকারের কাছ থেকে যে টাকা নেবে তাকে সেই টাকা ফেরত দিতেই হবে। ব্যাংক ঋণের সুদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের সুদ ও স্প্রেড অনেক বেশি। সুদের কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সহনীয় হতে হবে। ব্যাংকগুলো নানা কারণে স্প্রেড (ঋণের সুদের হার ও আমানতের সুদের হারের মধ্যে পার্থক্য) কমাতে পারছে না। এদিকে মনোযোগ দিতে হবে। এখন বিদেশ থেকেও ঋণ দেয়া হচ্ছে। এ সুযোগ নেয়া যেতে পারে। বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, গত দশ বছরে রাজস্ব আদায় গড়ে ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। এ বছর আরও বাড়াতে হবে। এ জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আমরা এলএনজি ও নিজস্ব গ্যাস ব্লেন্ডিং করতে কিছু ট্যাক্স কমিয়েছি। ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এসব ব্যবসা সঠিকভাবে চললে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় জিডিপির তুলনায় ১৬-১৭ শতাংশ হওয়া উচিত। বর্তমানে আদায় হচ্ছে ৮-৯ শতাংশ। এতে প্রমাণ হয়, মানুষ যথাযথভাবে কর দিচ্ছে না। বেশি কর ধার্য করা হলেও মানুষ তা দেবে না। এ জন্য কার্যকর রেট নির্ধারণ করতে হবে। আমরা আগে কার্যকর রেট নির্ধারণের মাধ্যমে কর আদায়ের চেষ্টা করি নাই। এখন সে চেষ্টা করতে হবে। ভ্যাট আরোপ করতে হবে। এতে কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটি আগে বের করতে হবে। নতুন অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে দশ বছর আগে লজ্জা পেতাম। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির মূল্যায়ন হয় শুধু ৫০টি দেশ নিয়ে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থাকত না। কিন্তু গত দশ বছরে বাংলাদেশের অনেক অর্জন হয়েছে, দেশ এগিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 5 =