জ্ঞানের অনুুশীলন

0
169

এম এ বার্ণিক: আরহাব জ্ঞানী হতে চায়। তাই জ্ঞানের অনুশীলন শুরু করেছে। এজন্যে সে নিজস্ব অধ্যয়ন, গবেষণা ছাড়াও জ্ঞানী লোকদের সান্নিধ্যে গিয়ে নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন করার প্রক্রিয়া করতে দেখা যায়। একদিন শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলো, “জ্ঞান বলতে আমরা কি বুঝি ।” শিক্ষক উত্তর দিলেন, “তোমার মাতা-পিতা তোমাকে বানিয়েছিলো ভূত, বিদ্যাশিক্ষা দিয়ে আমরা তোমাকে বানিয়ে দিলাম পুত; বিদ্যালয়ে তোমার অর্জনটাই জ্ঞান।” আরহাব বললো, “যারা বিদ্যালয়ে আসার সুযোগ পায় না, তারা কি জ্ঞানী নয়?” শিক্ষক বললেন, “না, তারা মূর্খ।”

 

শিক্ষকের যুক্তি মানতে চাইলো না আরহাব। সে যেনো অন্ধকারে পড়ে গেলো। তার কাছে মনে হলো, জ্ঞান মানুষকে অন্ধকারে ফেলে দেয়, অধ্যয়ন করেই মানুষ পথের আলোর সন্ধান পায়। তার কাছে মনে হলো, মানুষের অনুভূতি শক্তি বা চেতনাবোধই তার জ্ঞান। তাই যার লেখাপড়া নেই, তারও জ্ঞান আছে। মানুষ মাত্রই কিছু না কিছু জ্ঞানের অধিকারী। আরহাবের কাছে আরো মনে হলো, “জ্ঞান ও বুদ্ধির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে।” তার মতে, সেক্রেটিস জ্ঞানী ছিলেন, বুদ্ধিমান ছিলেন না। বুদ্ধিমান হলে বিষের পেয়ালা মুখে দিতেন না। বুদ্ধি মানুষকে কৌশলী করে। তাই বুদ্ধি দ্বার উদ্ভাবিত হয় নতুন নতুন কৌশল। বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আরহাব উদাহরণ দিলো, “দুষ্ট বুদ্ধি হয়, কিন্তু দুষ্ট জ্ঞান হয় না।”

একবার আরহাবদের বাড়ি থেকে সতেরো কিলোমিটার দূরে এক জ্ঞানী ব্যক্তির সন্ধান পেলো সে। জ্ঞান শেখার জন্য আরহাব তার কাছে গেলো। লোকটি বললো, “কে বললো আমি জ্ঞানী?” “লোকে বলে?” আরহাব উত্তর দিলো। লোকটি বললো, “আমি নিজেকে জ্ঞানী মনে করি না। তবে জ্ঞানের অনুশীলন করি।” আরহাব বললো, “ আমার জন্য আপনার কোনো উপদেশ থাকলে দয়া করে বলুন।” লোকটি বললো, “নিজেকে জানো। তবেই প্রকৃত জ্ঞানী হতে পারবে। নিজের উপর অধ্যয়ন করে তিন মাস পর আমার সাথে দেখা কর।”

নিজের উপর অধ্যয়ন নিয়ে আরহাব চিন্তায় পড়ে গেেেল। বার বার নিজের শরীরের দিকে তাকায়। ভাবতে থাকে, তিন মাসের মধ্যে নিজ শরীরের উপর পুরোপুরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রথমে ছয়টি জ্ঞানেন্দ্রিয়ের নাম শিখলোÑচক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জ্হ্বিা, ত্বক ও মন। অতঃপর শরীরের নয়টি দরজা বা নবদ্বারের নাম শিখলোÑ দু’চোখ, দু’কান, দু’নাসারন্ধ্র, মুখ, পায়ু ও উপস্থ। পাঁচ আঙ্গুলের নাম শিখলো – কনিষ্ঠা, অনামিকা, মধ্যমা, তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠ। শরীরে ২০৬ খানা অস্থি, নাড়িস্পন্দন, ধমনী, শিরা, রক্তসঞ্চালন তন্ত্র, হৃদপিন্ড, যকৃত, বৃক্ক, কিডনি, অন্ত্র ইত্যাদি যাবতীয় শরীরবৃত্তীয় বিদ্যা আয়ত্ত করলো আরহাব।

তিন মাস পর আবার জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে হাজির হলো আরহাব। সে একে একে শরীরের সবগুলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাম ও এগুলোর কার্যাবলি মুখস্ত বলতে উদ্যত হল। কারণ, সে নিজের সবকিছু জেনে এসেছে। জ্ঞানী ব্যক্তি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “ আসলে তোমাকে এসব শেখার কথা বলিনি। তোমাকে যা বলেছিলাম, তা হলো কবির ভাষায়,‘আমাকে দেখিয়ে আমার অদেখা জন্মদাতারে চিনি’। আল্লাহ পাক মানুষকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষ যদি তার সৃষ্টির ইতিহাস জানতো, তা হলো আল্লাহর অবাধ্য হতো না। মানুষ জন্মের প্রাক্কালে কিছুই ছিলো না, এখন তার অনেক পরিচিতি, অনেক সুনাম। আবার মৃত্যুর পর তার কি অবস্থা হবে তাও সে জানে না। মানুষের শরীরের ভেতরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো কিভাবে এসেছে, কে বসিয়ে দিয়েছে, কিভাবে কার্যক্ষম থাকছে, কিছুই তার নিয়ন্ত্রণে নয়। এত মূল্যবান চক্ষু, হার্ট, কিডনিসহ প্রতিটি অঙ্গ-উপাঙ্গ তার অজান্তেই তার নিজের হয়ে কাজ করছে। এমনকি মানুষ কেন বেঁচে আছে, কেন মারা যাবে, তার প্রাণটাই বা কি কিছুই সে জানে না। তাই মানুষ কেবল নিজের দিকে তাকালেই তার জ্ঞানের চক্ষু খুলে যায় এবং সে তার সঠিক পথের সন্ধান পেয়ে যায়।

জ্ঞানী ব্যক্তির কথার সাথে সাথে আরহাব আল-কুরআনের একটি আয়াত উচ্চারণ করলো “ইন্না ফি খালকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াকতিলা ফিল লাইলি ওয়ান-নাহার লা-আয়াতুল লি-উলিল আলবাবÑ অর্থাৎ আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে, দিবা-রাত্রির পরিক্রমায় জ্ঞানবোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে আল্লাহর নিদর্শণ বিদ্যমান।” অতঃপর জ্ঞানী ব্যক্তি উচ্চারণ করলো, “রাব্বানা মা খালাকতা হাজা বাতিলান”Ñ অর্থাৎ হে আমার রব, এসব কিছু তুমি খামাকা সৃষ্টি করনি।” এই সৃষ্টির পেছনে, এমনকি প্রতিটি মানুষ সৃষ্টির পেছনে আল্লাহর প্ল্যান রয়েছে। একটু পরেই জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, “ইলম বা জ্ঞান থাকলে আলেম বা জ্ঞানী হওয়া যায়; জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করলেই সে উলুল আলবাব বা জ্ঞানবোধসম্পন্ন ব্যক্তিতে পরিণত হয়।

আরহাব বললো, “আমাকে এটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিন।” জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, “ভাই গিরিশ চন্দ্রসেন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন, তাই প্রথম বাংলাভাষায় আল কুরআনের অনুবাদ করেন; কিন্তু কুরআনের নির্দেশাবলি তিনি মানেননি, তাই তিনি উলুল আলবাব (জ্ঞানবোধসম্পন্ন) হতে পারেননি।” এবার জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, “আরহাব, তুমি একটা উদাহরণ দাও? আরহাব বললো, “আমি অক্সিজেন তৈরির ফর্মুলা জানি, তাই আমি জ্ঞানী। আমি যখন ল্যাবরেটরিতে গিয়ে ফর্মুলা অনুযায়ী অক্সিজেন তৈরি করবো, তখনই আমি উলুল আলবাব বা জ্ঞানবোধসম্পন্ন ব্যক্তিতে পরিণত হবো।” জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, “শাবাস, আরহাব শাবাস! তোমার জবাব সঠিক হয়েছে। তুমিই জ্ঞানের অনুশীলন করতে পারবে।”

কিছুক্ষদিন পর আরহাব জানতে পারলো যে, প্রায় দু’শ কিলোমিটার দূরে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি থাকেন। অনেক লোক জ্ঞান অন্বেষায় তার কাছে যায়। আরহাব এমন একজন লোকের সান্নিধ্যে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠলো। বহু খোঁজাখুঁজি করে জ্ঞানী লোকটির কাছে গিয়ে সে হাজির হতে সক্ষম হয়। আরহাব লক্ষ্য করলো, লোকটি ঠায় মাটিতে শুয়ে আছে। আরহাব জিজ্ঞেস করলো, ‘‘ভাই, আপনি এতো জ্ঞানী মানুষ, আমি জ্ঞান শিখতে আপনার কাছে এসেছি, আর আপনি কিনা, মাটিতে শুয়ে আছেন!’’ লোকটি উত্তর দিলো, ‘‘মাটিকে আমি বড় ভালোবাসি তাই।’’ আরহাব বললো ‘‘কেন মাটিকে এতো ভালোবাসেন?’’ লোকটি বললো, ‘‘ আমাকে মাটি হতে সৃষি‘ট করা হয়েছে, মাটি থেকেই সকল অন্ন-পানি খেয়ে বেঁচে আছি, মৃত্যুর পর মাটিই হবে আমার ঠিকানা। তাই যে কটা দিন বেঁচে থাকি, সে ক’টা দিন মাটির সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে।’’ আরহাব বললো ‘‘বুঝেছি, আপনার জ্ঞানের একটা দর্শন আছে, আপনার দর্শনের একটা আদর্শ আছে, তাই আপনি সত্যিকারের জ্ঞানী। আমাকে দোয়া করবেন।’’ জ্ঞানী লোকটি বললো, ‘‘ফি-আমানিল্লাহ।’’

অবশেষে আরহাব জানতে পারলো যে, বহুদূরে এক পন্ডিতলোকের বসবাস। জ্ঞানের অনুশীলন করেন তিনি। আরহাব তার সন্ধনে বের হলো। জ্ঞানের অনুশীলনে তার দ্বারপ্রান্তে হাজির হলো। আরহাবকে দেখে লোকটি জিজ্ঞেস করলো, ‘‘তুমি কে? কেন এসেছো?’’ আরহাব উত্তর দিলো, ‘‘আমার নাম সৈয়দ আরহাব আজম। আপনার কাছে জ্ঞানের অনুশীলন করতে এসেছি।’’ পন্ডিত লোকটি বললো, ‘‘তুমি আমার সান্নিধ্যে কয়েকদিন থাকতে হবে। আমি তোমাকে কিছু অ্যাসইনমেন্ট দিয়ে কাজ করবো। তুমি ধৈর্য সহকারে কাজগুলো করতে হবে। তুমি যদি আমার উপদেশ পুরোপুরি অনুসরণ কর, তবে তুমি জ্ঞানী ও জ্ঞানবোধসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে ওঠতে পারবো।’’ আরহাব বললো, ‘‘আমি রাজি।’’

পন্ডিত ব্যক্তি বললেন, ‘‘জ্ঞানের অনুশীলনের আগে জ্ঞানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তোমার ধারণা থাকা দরকার।’’ আরহাব বললো, “জ্ঞানের বিষয়বস্তুসমূহ কি কি?’’ লোকটি বললেন, ‘‘কোন একটা বিষয়ে মানুষের বোধ বা অনুভব শক্তি জাগ্রত হওয়াকেই জ্ঞান বলে।’’ আরহাব বললো, ‘‘আমার খাওয়া অথবা ঘুমানোর ইচ্ছে হলো, সেটাই কি আমার জ্ঞান।’’ লোকটি বললো ‘‘হ্যাঁ, বাহ্যত তাই। কোনো মানুষ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে আমরা বলি লোকটা অজ্ঞান হয়ে গেছে। এ অবস্থায় তাঁকে খোঁচা দিলেও টের পায় না। চেতনা ফিরলে আমরা বলি লোকটির জ্ঞান ফিরেছে।’’ আরহাব বললো, “তা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় তো মানুষের জ্ঞান থাকে না।’’ লোকটি বললেন, “জ্ঞানও সুপ্ত বা ঘুমন্ত থাকে। বোঝবার, বোঝাবার বা বিচার করার ক্ষমতাও জ্ঞান।’’ আরহাব বললো, “মানুষ তো হলে জ্ঞান দিয়েই বিচার করে।।’’ প-িত ব্যক্তি বললেন, “ঠিক আছে। বিচারের সাথে বিবেচনায় বিষয়টিও জ্ঞানের মধ্যে পড়ে।’’ আরহাব বললো, “আমি কাউকে পিতার মতো বিবেচনা করছি, সেটাকি বিবেচনাপ্রসূত জ্ঞান।’’ লোকটি বললেন, তোমার উদাহরণ সঠিক হয়েছে। তবে মনে রাখবে, অবগত থাকাটাও জ্ঞান।’’ আরহাব বললো, “যেমনটা উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, আমার জ্ঞানে এমন হয়নি।’’ লোকটি বললেন, “উত্তর যথার্থ হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, বিদ্যাশিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান অর্জন ঘটে।’’ আরহাব বললো, যেমন শাস্ত্র জ্ঞান, ব্যাকরণগত জ্ঞান, ইত্যাদি”। লোকটি বললো, “তুমিক ধরতে পেরেছো। তবে অভিজ্ঞতা অজর্নও জ্ঞানের অংশ।’’ আরহাব বললো, “তা হলে উদাহারণ হিসেবে বলবো, আমার শিক্ষকতার জ্ঞান রয়েছে।’’

প-িত লোকটি বললো, “তুমি ঠিক বলেছো। তবে মানুষের একটা জ্ঞানচক্ষু রয়েছে, যা দিয়ে সে উপলব্ধি করতে পারে। এটাকে অন্তর্দৃষ্টিও বলতে পারব।’’ আরহাব বললো, “অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে মানুষ অনেককিছু কল্পনা করতে পারে। যেমন- আমি মনে মনে নিজকে রাজা ভাবছি।’’ পন্ডিত ব্যক্তি বললেন, “আসলে সেরকম নয়। জ্ঞানচক্ষু দিয়ে মানুষ যা ভাবে সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়ই হয়ে থাকে। যেমন কোথাও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হতে দেখে কেউ জ্ঞানচক্ষু দিয়ে বলে দিতে পারে যে, এ গ্যাস মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে, এমনকি মানুষ মারাও যেতে পারে।’’

প-িত ব্যক্তি আরহাবকে লক্ষ্য করে আরও বললেন, “কোন কাজের মাধ্যমে মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করে, সেটাকে সম্যক জ্ঞান বলে। সম্যক্ জ্ঞান লাভের জন্য মানুষ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনুসিদ্ধান্তে উপনীত হয়।’’ লোকটি আরও বললেন, “জ্ঞানের চর্চা যদি বাঁকা পথে হয়, তবে মানুষ জ্ঞানী না হয়ে জ্ঞানপাপীও হতে পারে। যে জ্ঞান মানুষকে মানুষ করে না, সে জ্ঞান আসলে জ্ঞান নয়, সেটা হতে পারে শয়তানি জ্ঞান। আল্লাহ্ মানবসৃষ্টির শুরতেই আদমকে জ্ঞানদান করেন। ফেরেশতারা মানবসৃষ্টির বিরোধিতা করলেও, আদমের জ্ঞান দেখে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।’’

আরহাব বললো, “শয়তানি জ্ঞান বলতে কি বুঝিয়েছেন।’’ লোকটি বললেন, “আল্লাহ্তায়ালা শয়তানকেও অনেক জ্ঞানদান করেছিলেন। জ্ঞানকে সে দুষ্টবুদ্ধিতে রূপান্তরিত করেছিলো। তাই সে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ অমান্য করেই ক্ষান্ত হয়নি, অমান্য করার পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেছিলো। এটাই শয়তানি জ্ঞান।’’ আরহাব বললো, “যাওয়ার আগে আমাকে একটি উপদেশ দিন।’’ লোকটি বললো, “জ্ঞানের অনুশীলন করবে মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে, মানুষের ক্ষতির জন্য নয়।’’ আরহাব বললো, “কথা দিলাম গুরু, আমি তাই করবো শুরু।’’

[লেখক: এম এ বার্ণিক, সভাপতি, ইতিহাস গবেষণা সংসদ]

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven − seven =