সাভারে মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন কৌশল, ঠেকাও পুলিশ

1
851
কামরুল হাসান রুবেলঃ সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলছে নিয়মিত অভিযান। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন কঠোর ভূমিকায় ঠিক তখনই সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নে এক চিহ্নিত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী তাকে গ্রেপ্তার করতে আসা পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করেছে। আর এক্ষেত্রে এই কুখ্যাত মাদকব্যবসায়ী ব্যবহার করেছে গণমাধ্যমকে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ঢাকার অদূরে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নে।
পুলিশকে চাপের মুখে ফেলে গ্রেপ্তার ও বাড়িতে পুলিশি অভিযান এড়াতে সাভার মডেল থানার ভাকুর্তা পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের কাছে স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লক্ষ টাকা লুটপাটের অভিনব অপ-কৌশল করেছে ওই ইউনিয়নের মোগড়াকান্দা এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী  মোঃ আবু বক্কর (৩৬) এর পরিবার। এব্যাপারে উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাতে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের মোগড়াকান্দা এলাকায় মোঃ আবু বক্কর (৩৬) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত (প্রসেস নং-৮৮২/১৯) চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালাই। তবে ঐ রাতে বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে ঘরের জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যায় ঐ মাদক ব্যবসায়ী বক্কর। এদিকে মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যাওয়ার পর আমরা ঐ বাড়ি থেকে ফিরে আসার ঠিক পরের দিন বুধবার সকালে বাড়িতে পুলিশি অভিযানের কারন জানতে হাজ্বী আব্দুল বাতেন নামে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সাহায্য নেয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পলাতক আবু বক্কর। এবিষয়ে হাজ্বী আব্দুল বাতেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বুধবার সকালে আবু বক্কর আমার বাড়ীতে এসে জানায় যে গত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে বাড়িতে পুলিশ এসেছিলো। এসময় আবু বক্কর তার সবগুলো মামলায় জামিনে আছে জানিয়ে ফাঁড়িতে খবর নিয়ে পুলিশ আসার কারন নিশ্চিৎ হতে অনুরোধ করলে আমি পুলিশের সাথে কথা বলি এবং একটি মামলায় আবু বক্করের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে বলেও জানতে পারি। ওয়ারেন্টের বিষয়টি জানার পর আবু বক্কর এখান থেকে চলে যায়।” পরবর্তীতে  আবু বক্কর ও তার পরিবার স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে খবর দিয়ে তাদের কাছে মাদক ব্যবসায়ী আবু বক্করের ছোট স্ত্রী অভিযোগ করে বলে, পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আবু বক্করকে না পেয়ে বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এমনকি তার কানের দুল, বিভিন্ন স্বর্ণালংকারসহ ঘরে থাকা নগদ দেড় লক্ষ টাকা লুট করারও অভিযোগ আনা হয় পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে সরেজমিনে ঐ মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গেলে বাড়ির কোন সদস্যই গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী মো. আবু বক্করের বিরুদ্ধে ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় দায়ের হওয়া হত্যাসহ মোট ৭টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাভার মডেল থানায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত ৭টি মামলা এবং মিরপুর মডেল থানায় একটি মাদকের মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আবু বক্করের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মাদকের মামলাটি দায়ের হয় ২০১৮ সালের ১৮ই নভেম্বর। এছাড়া একই বছরের ১৮ই মার্চ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপর একটি মাদকের মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মাদক ব্যবসায়ী আবু বক্কর পলাতক থাকায় এই অভিযোগের ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাভার মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ  এ.এফ.এম সায়েদ এই প্রতিবেদককে জানান, অপরাধীদের কোন অপকৌশলই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পিছু হটাতে পারবে না। এই প্রতিবেদকের নিকট তিনি আরও বলেন, অপরাধীরা যত অপ কৌশলই অবলম্বণ করুক, আমরাও প্রস্তুত আছি তাদের মোকাবেলা করতে।
Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three − 2 =