রৌমারীতে আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহ নির্মাণ কাজে অনিয়ম দুর্নীতি অর্থলোপাটের অভিযোগ

0
226

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ডিজিটাল দেশ বান্ধব ৪ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের জমি আছে ঘর নাই। সারাদেশের ন্যায় রৌমারীতেও গৃহহীন মানুষের জমি আছে ঘর নাই বা ঘর তৈরীর সামর্থ নেই তাদেরকে সরকারী অর্থায়নে নিজ জমিতে ঘর করে দেয়ার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ন-২ প্রকল্প চলমান রয়েছে। কিন্তু উদ্যোগ বাস্তবায়নদের বিরুদ্ধে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে গৃহনির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থলোপাটের অভিযোগ উঠেছে।
রৌমারীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর নির্মানে দালালদের মাধ্যমে অর্থলোপাট নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহার। মেঝেতে বালি বাবদ ৫ হাজার টাকা না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ সুবিধাভোগিদের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধিনে রৌমারী উপজেলায় ২০১৭/১৮ অর্থ বছরে ১২১ টি ঘরের জন্য ১ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের জন্য ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নের মাঝে যথাক্রমে দাঁতভাঙ্গা, চরশৌলমারী ও রৌমারী সদর ইউনিয়নে ১২১ টি ঘর বরাদ্দ হয়। কাজের মেয়াদ গত ২০১৮ সালের ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হলেও এখনো কোন কোন ইউনিয়নে নির্মান কাজ শেষ হয়নি। তবে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ৩০ জুনের মধ্যে ঘর নির্মানের টাকা উত্তোলন পূর্বক ইউএনও তার নিজের হাতে রেখেছেন। এখন পর্যন্ত কাজ চলমান। অভিযোগ রয়েছে ঘর দেয়ার কথা বলে দালাল মোকছেদ আলীর মাধ্যমে ঘর দেয়ার তালিকা এবং লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের ছাড়াই ইউএনও ও রেজাউল ইসলাম মিনু সাধারণ সম্পাদক উপজেলা আওয়ামী লীগ রৌমারী দু’জনের যোগসাজসে ঘর নির্মান করা হচ্ছে। নীতি মালা, ন´্রা ও শিডিউল ছাড়া নির্মান কাজে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার, যাদের ভালো ঘর বাড়ি আছে এমন পরিবারকে ঘর দেয়া, কাজ সম্পন্ন না করে বিল উত্তোলন, দরিদ্র মানুষের উপর নির্মান সামগ্রী পরিবহন খরচ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
প্রকল্প নীতি মালায় ঘরের নির্মান কাজ সম্পন্ন করতে (পিআইসি) কমিটি গঠন করে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজটি করার কথা। প্রকল্পের ৫সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি ইউএনও সদস্য সচিব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সদস্য উপজেলা প্রকৌশলী, এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ।
গত ৩০ জুনের মধ্যে প্লান ডিজাইন ও প্রাক্কলন মোতাবেক গুনগত মান বজায় রেখে নির্মান কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পযর্ন্ত কাজ সম্পন্ন হয়নি। ( কাজ সম্পাদনের পর কোন অর্থ উদ্বৃদ্ধ থাকলে তা ৩০ জুনের ২০১৮ তারিখের আগে চালানের মাধ্যমে সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে)। এসব কাজের কোনটাই সঠিক নিয়মে করা হয়নি। এতে একটি ঘর নির্মানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
১৭৫ বর্গ ফুট আয়তনের একটি ঘর ও ল্যাট্রিন নির্মানে ২১ টি পিলার। প্রতিটি পিলার তৈরীতে উন্নত মানের গ্রেডের রড ব্যাবহারের কথা থাকলেও সেখানে ব্যবহার হয়েছে নন গ্রেডের নিন্মমানের রড। তা ছাড়াও পিলার মেশিনে তৈরী করার কথা থাকলেও হাতে তৈরী হয়েছে। এদিকে নীতি মালায় ঘরের মেঝেতে বালু বাবদ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বালু দিতে হচ্ছে সুবিধাভোগীদের এবং মেঝে বারান্দা ও পিড়েলিতে প্লাস্টারের বালু দিচ্ছে সুবিধাভোগীরা।
এবিষয়ে উপজেলা দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের উজান ঝগড়ারচর গ্রামের ফুলমনি রাণী, বদিয়ে রাণী, শিথিয়া রাণী ও ফুলবাহারী রাণী বলেন, প্লাস্টারের বালু আমাদেরকে দিতে বলেন আমরা পরে টাকা দিয়ে দিবো এবং ঘরের মেঝেতে আমাদের নিজের টাকা খরচ করে মাটি ভরাট করেছি তাতে আমাদের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এটাও দেয়া হয়নি।
উপজেলার দাঁতভাঙ্গার চর গয়টাপাড়া, চরকাউনিয়ারচর গ্রামের মেঘজান, আপেলা খাতুন, মর্জিনা বেগম, আলিমন খাতুন, হাফিজুর রহমান বলেন আমরা চরগয়টা পাড়া গ্রামের মোকছেদ আলীর মাধ্যমে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ঘর গুলি নিয়েছি। এবং রৌমারী সদর ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম, ইজলামারী গ্রামের আমিরন নেছা, হাবিজা খাতুন, কাঞ্চল, রবিউল হক, রহিমা খাতুনসহ অনেকে বলেন আমরা মাটির সরদার ইব্রাহীমের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ঘর গুলি পেয়েছি। তবে ঘরের মালামাল গুলি ভালো দেয় নাই।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, ঘরগুলি কে দিলো, কার মাধ্যমে দিলো আমরা তাহা কিছুই জানিান। তবে শুনেছি ঘর গুলি দিতে অনেক নয়ছয় করা হয়েছে। আরো শুনেছি গত ৫ মে জমি আছে ঘর নাই প্রকল্প দরিদ্রদের ঘর নির্মান কাজের অনিয়ম দুর্নীর উপর যমুনা টেলিভিশনে প্রকাশ হয়েছে। এতে টেলিভিশনে ইউএন্ও ও রেজাউল ইসলাম মিনুর মোবাইলে স্বাক্ষাতকার প্রকাশ হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু বলেন, ঘর গুলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আমি লোবিং করে এনে ইউএনওর মাধ্যমে তালিকা করে কাঠ লোহা আমি বহন করেছি এবং ইউএনও পিলাট টিনসহ অন্যান্য কিছু বহন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্বীপঙ্কর রায় এর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমি আছে ঘর নাই কতটি দেয়া হয়েছে তার তালিকাটি চাইলে তিনি বলেন এখনো কাজ শেষ হয়নি আপনাদেরকে এখনেই তালিকা দেয়া যাবে না। কাজ শেষ হলেই আপনাদেরকে তালিকা দিবো, আপনারা তখন ঘরগুলি দেখে আসবেন। আগে তালিকা দিলেই আবার আপনারা উল্টা পাল্টা লিখবেন। তবে কাজ খুব সুন্দর ভাবে সম্পাদন করছি। #

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × one =