সরকারি হাসপাতালগুলোর এমন দশা সত্যিই দুঃখজনক : দুদক কমিশনার

2
157

সকালে হাসপাতালে হাজিরা দিয়ে চিকিৎসকরা কোথায় যান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।

 

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গণশুনানিকালে তিনি এই নির্দেশ দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দপ্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ করেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেন কয়েকজন। এ সময় দুদক কমিশনার আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্তত ২৫টি সরকারি হাসপাতালে গিয়েছি। এসব হাসপাতালে অনিয়মে ভরপুর। সরকারি হাসপাতালগুলোর এমন দশা সত্যিই দুঃখজনক। ‘জনতাই শক্তি, রুখবে দুর্নীতি’ স্লোগানে দুদকের গণশুনানিতে সেবাপ্রার্থীদের নানা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সদর হাসপাতালে বেশ কয়েকবার গিয়েও তিনি চিকিৎসা পাননি। চিকিৎসকরা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। আরেক অভিযোগকারী নাজিম উদ্দীন বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কথায় কথায় ধর্মঘট হয়। ফলে দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে খাবারের মান খুবই নিম্নমানের। এ সময় হাসপাতালের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সুপার ডা. বিধান পাল উত্তর দিতে উঠলে অভিযোগকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। নুরুল আমিন নামে একজন অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট এক কর্মচারী তার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন না। গত ৬ মাস ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন। বিলকিস বেগম নামে এক নারীও একই অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ আনেন আবুল কালাম নামে একজন। তিনি বলেন, সার্ভেয়ার মাসুদ রানা তার ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের অর্থ নিতে ৪৫ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি করেছেন। একই অভিযোগ করেন ওসমান গণি, ফরিদ মাহমুদসহ কয়েকজন। গণশুনানিতে দুদক কমিশনার বলেছেন, দেশের মালিক জনগণ। অথচ জনগণই সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ সেবা পেলে কেন এই লাখ লাখ অভিযোগ? প্রতিদিন কেন আপনাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে? দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাবেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। গণশুনানিতে উপজেলা ভূমি অফিস, জরিপ অফিস, সাব রেজিস্টার অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ ও হিসাবরক্ষণ অফিস, পিআইও অফিস, সমবায়, সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ বেশ ক’টি সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

2 মন্তব্য

  1. সরকারি হাসপাতালগুলোর এমন দশা সত্যিই দুঃখজনক : দুদক কমিশনার. সকারি হাসপালে গুলোতে প্রচুর পরিমানে র্দুনিতী হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − 14 =