প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে মাদক ব্যবসায়ীকে ১০ লক্ষ টাকায় ছেড়ে দিয়েছে ইপিজেড থানা পুলিশ

0
52

চট্টগ্রাম ইপিজেড থানায় মাদক ব্যবসায়ী দলের দুই সদস্যকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গিয়াছে। সূত্রে জানা যায় যে, চট্টগ্রাম জেলার সিইপিজেড থানার সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির এক এএসআই দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে থানায় আটকিয়ে রেখে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দর কষাকষির মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গিয়াছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ইপিজেড থানার পুলিশ ফাঁড়ি বেপজা গেইট সংলগ্ন স্থানে অর্ন্তভুক্ত উক্ত পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোহাম্মদ সাঈদ গত ১৩ই মে দিবাগত রাত ১১টায় ইপিজেড থানার চৌধুরী মার্কেটের বিপরীতে হোটেল মুন সংলগ্ন বন্দর থানা এলাকার একটি দোকান থেকে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী দলের গডফাদার খ্যাত মোহাম্মদ রবিউল হোসেন রবিকে ও তার সহযোগি আনোয়ার হোসেন নামক দুইজনকে আটক করে ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়িতে আটক করে দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা পুলিশ ফাঁড়িতে আটকিয়ে রেখে পরদিন ১৪ই মে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ দর কষাকষির মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

 

উল্লেখ্য যে, আসামী আটকরে ঘটনাস্থলটি বন্দর থানা এলাকা হলেও দুই আসামীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়িতে। অপরদিকে উক্ত ঘটনায় আরো তিন মাদক ব্যবসায়ীকে ভাগ বাটোয়ারা করে বন্দর থানার টেকের মোড় পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে চলে তাদের মাদকের টাকার ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে লেনদেন। উল্লেখ্য যে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, পুলিশ ফাঁড়িতে আটকৃত মোঃ রবিউল হোসেন রবি কক্সবাজারের সাবেক এমপি বদি’র বড় মেয়ের জামাই। সে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত রয়েছে। সম্প্রতি পবিত্র মাহে রমজানের এক মাস পূর্বে উক্ত রবিকে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির টেকের মোড় এ কর্তব্যরত ইনচার্জ এসআই রহিম তাকে আটক করে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকার জনমনে ব্যাপাক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় উক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে একটি মারধরের ঘটনায় আটক করে মাদক মামলায় ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। অভিযোগে জানা যায় যে, ঘটনার দিন বন্দর থানার এমএ আজিজ সড়কের হোটেল মুন সংলগ্ন মুদির দোকান নাঈম ষ্টোরের কর্মচারী বাবুলের সাথে ইয়াবা ব্যবসায়ী রবির লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘটনাটি টের পেয়ে বন্দর ও ইপিজেড থানার দুই ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৫ জন আসামীকে ভাগাভাগি করে দুই থানার ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় মাদকের ডন খ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী রবিউল হোসেন রবি ও আনোয়ারকে ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান এএসআই মোহাম্মদ সাঈদ। পরবর্তীতে উক্ত দুই মাদক ব্যবসায়ীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিআইজির নির্দেশ অমান্য করে ১০ লক্ষ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পুনরায় এলাকায় বিষয়টি ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই স্থানীয় এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়েছেন উক্ত অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ সাঈদকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, উক্ত ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়িতে দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ জনগণকে মাদক ও ইয়াবা দিয়ে আটক করে কোর্টে চালান দেওয়ার মত অভিযোগ থাকলেও এই বিষয়ে উক্ত পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিষয়টি নজরদারী না করে তাদের ক্ষমতার অপ-ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, গত দুই সপ্তাহ পূর্বে একই থানার উক্ত পুলিশ ফাঁড়িতে বেপজা গেইট সংলগ্ন রেলবিটে এক ব্যবসায়ী ঝন্টু মাঝিকে আটক করে মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে ২৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মাদক মামলায় আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করার মতো অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এতো সব অভিযোগের মাঝেও এখনকার পুলিশ প্রশাসন এখনো নিপরাধীকে অপরাধী বানিয়ে মাদক ব্যবসায় গ্রেফতারী দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণের ভয়ভীতি প্রর্দশন করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপরের উল্লেখিত বিষয়গুলি অতিব বিবেচনা করে অভিযুক্ত সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোহাম্মদ সাঈদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদে জানা যায় যে, উক্ত সাঈদের নামে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক একাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা ট্রানজেকশন হয়। তাকে আটক করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মন্তব্য।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven − ten =