মহম্মদপুরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

0
263

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
একজন মানবাধিকার সংগঠকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি রইল অভিনন্দন। সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আপনি যে আত্মপ্রত্যয়ে নেমেছেন তা সত্যিই প্রসংশনীয়।কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে কতিপয় দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তিদের দ্বারা নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যের কারনে ব্যাহত হচ্ছে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে।আপনি সোনার বাংলা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে প্রতিটি অসহায় গরীবদের কথা চিন্তা করে যে আশ্রয়ণ – ২ প্রকল্পের সরকারি ঘর বরাদ্দের ব্যাবস্থা করেছিলেন তাতেও করা হয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি।এমনি এক দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ঘর পাওয়া মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার অসংখ্য অসহায় গরীব মানুষ। যারা ন্যায় বিচারের দাবিতে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে ।মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দকৃত ঘরের বাস্তবায়নে প্রকাশ পেলো বড় একটি দুর্নীতির তথ্য। যা চমকে দিয়েছে সবাইকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের বাস্তবায়নে করা হয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। প্রকল্পটির সরকারি বাজেটের সাথে মহম্মদপুর উপজেলার আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের সরকারি বরাদ্ধকৃত ঘরের বাস্তবায়নের কার্যক্রমে বেশির ভাগই কোন মিল নেই। প্রকল্পটির সরকারি বাজেটের সাথে বাস্তবায়নের বিশাল ফারক রয়েছে। অথচ আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন দায়িত্বে ছিলেন। ঘরের অনিয়মের বিষয়টি মহম্মদপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আসিফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪টা জানালা না ২টা জানালা আপনার কি যায় আসে তাতে, জানালার শিক ৪টা না ৬টা না ৮টা তাতে আপনার কি, আপনি এই প্রজেক্টের কে বলুনতো? যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আমাকে জিজ্ঞাসা করে না সেখানে আপনি এত কথা বলছেন। এছাড়াও অনেক অসম্মান জনক কথা বলাসহ অশোভন আচরণ করেন, যার অডিও রেকোর্ডিং আমাদের কাছে আছে। বরাদ্দকৃত ঘরগুলো এক-দেড় মাসের মধ্যে তৈরি করতে না করতে ফ্লোরগুলো ফাটতে শুরু করেছে। ফ্লোরে সিসি ঢালাই দেয়ার কথা থাকলেও একটি ঘরেও মহম্মদপুর উপজেলায় সিসি ঢালাই দেয়া হয়নি। আস্তো ইট বসিয়ে করা হয়েছে ঢালাইয়ের কাজ। প্রতিটি ঘরে চারটি জানালা দেয়ার কথা থাকলেও এতোগুলো ঘরে কোথাও দুটির বেশি জানালা দেখা যায়নি। জানালার লোহার শিক যে কয়টি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে তার থেকে কম ব্যবহার করা হয়েছে। টয়লেটে ৮টি রিং দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে মাত্র ৪টি করে রিং দেয়া হয়েছে একথায় ঘরগুলো তৈরিতে প্রচুর কারচুপির করা হয়েছে। ঘরগুলো অনিয়মের মাধ্যমে বাস্তবায়নে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় গরীব মানুষেরা সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি ভিডিওসহ ধারাবাহিক ভাবে নিউজের মাধ্যমে তুলে ধরায় গত ১২ই এপ্রিল আমার গ্রামের বাড়ীতে একটি মাইক্রো গাড়ীতে কয়েকজন এসে হুমকী প্রদান করেন। যা পরবর্তীতে ফোন মারফত সবাইকে অবগত করা হয়।সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত দুর্নীতিবাজদের সাথে স্থানীয় ২/১ জন রাজনৈতিক ব্যাক্তি সাপোর্টে থাকায় বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পরও আশানরুপ ফল পাওয়া যায়নি ।এমতাবস্থায় বিষয়টি আপনার নিজ হস্তক্ষেপে যথাপোযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহনে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আপনার কাছে এই দীর্ঘ চিঠিটি লিখতে বাধ্য হয়েছি বলে আমি দুঃখিত। আমি আপনার দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করি।

লেখক,
মোঃ আশরাফুল আলম সাগর
সাং- মৌফুল কান্দি, থানা- মহম্মদপুর জেলা- মাগুরা
মানবাধিকার সংগঠক
০১৯৭৬৬৬৬৮৯৫

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 5 =