যশোরে তুলি হত্যা মামলায় স্বামী জুলফিকারকে আড়াল করতে প্রভাবশালী মহলের তৎপরতা

0
276

মাধবী ইয়াসমিন ঃ যশোরের আলোচিত গৃহবধু জিনিয়া ইয়াসমিন তুলি হত্যা মামলার ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে মামলার দ্বিতীয় আসামী ফরিদা বেগমকে আটক করতে পারেনি বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। শুধু তাই নয়, এ নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত তুলির স্বামী জুলফিকারকে আড়াল করতে ও পলাতক আসামী ফরিদা বেগমকে চার্জশীট থেকে বাদ দিতে প্রভাবশালী মহলের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

পাশাপাশি প্রভাবশালী ওই মহলটি খুনি শাহাবুদ্দিনকে জামিনে ছাড়িয়ে এনে দেশের বাইরে পাঠাইয়ে দিবে বলেও মোটা অঙ্কের টাকা পকেটস্থ করেছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। নিহত গৃহবধু জিনিয়া ইয়াসমিন তুলি হত্যার পর তার পিতা সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করে বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটি ঢাকা ও যশোর বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন বলে নিহতের পরিবার জানায়। তুলির স্বামী জুলফিকার আলী সোহাগ বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটি ঢাকায় কর্পোরাল পদে চাকুরী করে। আর খুনি দেবর  শাহাবুদ্দিন যশোর বিমান বন্দরে কর্পোরাল পদে চাকুরী করে। বর্তমানে খুনি শাহাবুদ্দিন আটক আছে। বিগত ২০১১ ইং সালে যশোরের বাঘারপাড়া থানার পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের পুত্র জুলফিকার আলী সোহাগের সাথে একই জেলার ঝিকরগাছা থানার মোবারকপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের কন্যা জিনিয়া ইয়াসমিন তুলির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তুলির আত্মীয়-স্বজন ২০১১ ইং সালে জুলফিকার আলী ও তার ভাই শাহাবুদ্দিনের বিমান বাহিনীতে চাকুরির ব্যবস্থা করে দেয়। চাকুরী পাওয়ার পর তাদের লোভ আরো বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। বিভিন্ন অযুহাতে তুলির অসহায় বাবা-মা’র কাছ থেকে প্রায় ৪ লক্ষ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে স্বামী জুলফিকার ও তার পরিবার। সূত্রে জানা গেছে, জুলফিকার ও শাহাবুদ্দিনের চাকুরীর পূর্বে তার বাবা মোশারফ হোসেন ভ্যান চালাতো আর ফরিদা বেগম মাটি কেটে সংসার চালাতো। তুলিকে বিয়ে করে জুলফিকারের পরিবারের ভাগ্য খুলে যায়।

জুলফিকার চাকুরি পাওয়ার পর স্ত্রী তুলিকে নিয়ে রাজধানীর বালুঘাট এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকতেন। এরই মধ্যে তুলির কোল জুড়ে আসে আলিফ (২) ও হামজা (১)। নিহতের পরিবার জানায়, জুলফিকারের লোভ এখানে থেমে থাকেনি, আঁখি আফরিন প্রিয়া নামের পূর্ব প্রেমিকার স্বামী বিদেশ থাকায় পূণরায় তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে জুলফিকার। প্রথম স্ত্রী তুলিকে না জানিয়ে পূর্ব প্রেমিকা ও ১ সন্তানের জননী আঁখি আফরিন প্রিয়াকে বিয়ে করে এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তুলিকে গ্রামের বাড়ী বাঘারপাড়াতে পাঠাইয়ে দেয়। জুলফিকারের কথামত তার মা ফরিদা বেগম, ছোট ভাই শাহাবুদ্দিন ও বোন সুরাইয়া যৌতুকের জন্য তুলিকে প্রায়ই মারধর করতো বলে নিহতের পরিবারে অভিযোগ। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দ্বিতীয় স্ত্রী আঁখি ও তার সন্তান ফাহিম শাহরিয়ার নিরব (৬) কে নিয়ে রাজধানীর তুরাগ থানার ৪৪৬, বাউনিয়া এলাকার আঞ্জু ভিলায় ১৫/১১/২০১৮ ইং তারিখ থেকে ১/৬/২০১৯ ইং তারিখ পর্যন্ত বসবাস করছিলো বলে উক্ত বাড়ির সদস্যরা জানান। তারা আরো জানান, ফাহিম শাহরিয়ার নিরবকে তাদের বাড়িতেই সুন্নতি খতনাও দিয়েছে জুলফিকার। শুধু তাই নয়, এ বাসাতে জুলফিকারের বোন সুরাইয়াও দীর্ঘ ১ মাস অবস্থান করেছে বলেও জানান। এছাড়াও বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাও আঞ্জু ভিলায় তদন্ত করতে যায় এবং জুলফিকারের ঘরে তালা দিয়েও আসে। পরে অজ্ঞাত কারণে ১৫ দিন পরে আবার জুলফিকারের ঘরের তালা খুলে দিয়ে বলে আঞ্জু ভিলার সদস্যরা জানান। সরেজমিন অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, জুলফিকার তার দ্বিতীয় স্ত্রী আঁখি আফরিন প্রিয়ার সন্তান ফাহিম শাহরিয়ার নিরব (৬) কে নিজের সন্তান পরিচয় দিয়ে তুরাগ থানার বাউনিয়া এলাকায় ব্রাইট মডেল স্কুল এন্ড কলেজে ১৯/১২/২০১৮ ইং তারিখে ভর্তি করে ১৩/৪/২০১৯ ইং তারিখেও নিরব স্কুলে উপস্থিত ছিলো বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। তুলি খুন হওয়ার পর থেকে নিরব আর ওই স্কুলে উপস্থিত হয়নি বলে জানা গেছে। এতো কিছু প্রমাণের পরও জুলফিকারকে আড়াল করতে জুলফিকারের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নাটক চলছে বলে নিহতের বাবা শহিদুল ইসলামের অভিমত। তিনি জানান, আমার সামনে শাহাবুদ্দিন আমার মেয়েকে এলাপাতাড়ীভাবে ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। আর ওই সময় তার সহযোগিতা করছিলো তার মা ও বোন। এরপরও আমরা দ্রুত কেন বিচার পাচ্ছি না। জানা গেছে, তুলি মারা যাওয়ার পরও জুলফিকার তুলিকে দেখতে না আসায় জনমনে ব্যাপকভাবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি তুলির হত্যার হুকুমের আসামী জুলফিকার? এ ব্যাপারে বিশ^স্থ একটি সূত্র জানায়, তুলি হত্যার নেপথ্য নায়ক স্বামী জুলফিকারকে আড়াল করতে ও তার মা ফরিদা বেগমকে চার্জশীট থেকে বাঁচাতেএকটি শক্তিশালী চক্র মিশনে নেমেছে। আর এ চক্রটির অর্থ যোগান দিচ্ছে জুলফিকার নিজেই। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিমত প্রশাসন যদি সুষ্ঠু তদন্ত করে তাহলে তুলি হত্যার সঠিক বিচার সম্ভব।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three + two =