পাবনা মানসিক হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্বে অসহায় ভুক্তভোগীরা

0
96

তালুকদার মো: শহীদ: পাবনা মানসিক হাসপাতালে দালাদদের দৌরত্ব রুখবে কে? ভুক্তভোগিরা অসহায়। দেখার মত যেন কারও কোনো মাথা বেথা নাই। দেশ বিদেশি সাধারন মানুষদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সর্বশান্ত করে রোগীর আপনজনদের। যার বাস্তব চিত্রের দেখা মিলে সেখানে গিয়ে। চলতি বছরের ৪ ও ৫ জুলাই বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে এক অসহায় মানসিক রোগীকে নিয়ে গিয়েছিল তার স্বজনরা। খোজ নিয়ে জানা যায় মো: জসিম উদ্দিন খানকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তার বড় ভাই সাংবাদিক ও হিউম্যন রাইটস (বাসক) বাংলাদেশ এর পরিচালক তালুকদার মো: শহীদ গিয়েছিলেন পাবনা মানসিক হাসপাতালে। লোক মুখে কাগজে কলমে অনেক গুনাগুন শুনলেও বাস্তবে গিয়ে দেখা মিলে সম্পূর্নটা উল্টো চেহারা। কারন সেখানে মূল ফটোকে বড় অক্ষরে লেখা আছে সেবা নেওয়ার শ্রেণী বিন্যাশ।

প্রথমত, চিকিৎসা নিতে হলে জেনারেল বেডে সম্পূর্ন ফ্রি। বিনা পয়সায় বাংলাদেশ সরকার চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে অসহায়দের, কিন্তু সাধারন বেডে ভর্তি হতে হলে ৩৭১৫ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয় ৪ মাস মেয়াদি। কিন্তু জমাকৃত টাকা রোগি সুস্থ হলে ফেরত নিতে পাড়ে রোগীর গার্ডিয়ান গন, এবং ভিআইপি কেবিনে ভর্তি হতে হলে ১৭ হাজার ৫০ টাকা ২ মাসের সময়সিমায় থাকতে হয়, কিন্তু কাগজে কলমে সে কথা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো ধরা পড়ে সাংবাদিক তালুকদার মো: শহীদ এর ক্যামেরায়।

সেদিন ছিলো রবিবার, তিনি ঐ আইন বহির্ভুত কার্যপ্রনালী দেখে স্থানীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং আমার দুঃখের কথা খুলে বললেন এ প্রতিবেদক। কথা শুনে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন পাবনার নিবেদিত সংবাদ কর্মী ভাইয়েরা। তারা সেখানে যান, গিয়ে দেখেন ফ্রি বেডে ৩৭১৫ টাকার পরিবর্তে ২৫ থেকে ৩০ হাজারের বেশি টাকা গুনতে হয় খেটে খাওয়া সাধারন বেচে থাকা অসহায় রোগীর স¦জনদের। কি দৃশ্য দেখার যেন কাউর কোনো মাথাবেথা নেই। বিধি বাম, এবার আসা যাক ভিআইপি কেবিনে।

সেখানে ফেস্টুনে বড় অক্ষরে ১৭ হাজার ৫০ টাকার কথা উল্লেখ থাকলেও জমা কৃত ৩৭১৫ টাকা সহ ভর্তিতে নেন ৪৮ হাজার টাকা। জমাকৃত ৩৭১৫ টাকার সরকারী রশিদ আছে। আর বাড়তি টাকার কোন সরকারী বেসরকারী রশিদ নেই। দুঃখের বিষয় এ ধরনের মানসিক রোগীর স্বজনরা এখানে আসার আগেই সর্বহারা হয়ে যায়। ভিটে বাড়ি হাড়িয়ে গোয়ালের বলদ বিক্রি করে সেখানে আসে প্রিয়জনকে সুস্থ করার জন্য। কিন্তু সরকারী মূল্য তালিকা না মেনে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয় সেখানে। এটা সকলের পক্ষে দেওয়া সম্ভবপর নয় কিংবা কষ্টসাধ্য।

এবার দালালদের বর্ননা । সেখানকার স্থানীয় ২০-২৫ জন চিহৃত দালাল, যারা রোগির স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে অর্থাৎ তাদের দাবী কৃত টাকা দিতে অস্বিকার করলে ১৫-২০ দিনেও ভর্তী করতে পাড়বে না। অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয় দিনের- পর দিন মাসের-পর মাস বছরের-পর বছর। নাম না বলার শর্তে সেখানকার এক সেবিকা জানান, আমাদের হাসপাতালে ব্রাদার লম্বা রফিক এবং বহিঃর্বিভাগের বয় রফিক রোগীদের কাছ থেকে টাকা খসানোর কাজ করে থাকেন মাসের-পর মাস, তাদেরকে সহযোগিতা করে পরিচালকের পিএ আংশপতি। সকল দালাল সেন্ডিকেট এর সেল্টার দাতা পিএ অংশপতি। পিএ অংশপতির টেবিলে গেলেই সুপারিশ চায় অংশপতি।

সুপারিশ না দেখাতে পাড়লেই হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আউট হতে হয় রোগী সহ রোগীর স্বজনদের। আর সুপারিশ দেখাতে পাড়া মানেই দালালদের ধার্যকৃত টাকা মিলেছে বুঝে নেয় পরিচালকের পিএ অংশপতি। তখন বহিঃ র্বিভাগের ডাক্তারকে পিএ অংশপতি ফোন করে বলে দেওয়া হয় এই নামের রোগীটা ভর্তী করে নেন। শুধু এখানেই ক্ষান্ত নয়, নাম জানা-অজানা দালালের আস্থানা এখানে চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা অনেক সময় মুশকিল হয়ে যায়।

এদিকে বরিশাল থেকে সাংবাদিক ও হিউম্যান রাইটস্ বাংলাদেশ এর পরিচালক তালুকদার মো: শহীদ এর সাথে মানসিক রোগী মো: জসিম উদ্দিন খানকে সম্পূর্ন বিনা পয়সায় সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, তাকে সহযোগিতা করেন পাবনা প্রেসক্লাবের ৩ সাংবাদিক। এদিকে উল্লেখিত ঘটনা সম্পর্কে উক্ত হাসপাতালের পরিচালক ডঃ (ডাঃ) তন্ময় প্রকাশ সরকার জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না, তবে আমার কর্মচারিরা কিংবা কোন কর্মকর্তা ও যদি এ সকল বে-আইনি কাজ কর্মের সাথে জড়িত থাকে তবে তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দিতে দ্বিধাবোদ করবো না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানসিক হাসপাতালের দালাল বহিরা গত দালাল সহ পিএ অংশপতি ও বহিঃ র্বিভাগের বয় রফিক এবং ব্রাদার লম্বা রফিক যেন বে-আইনি ভাবে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলতে না পারে এবং এদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের জন্য সংশ্লিষ্টিত র্উদ্ধতম কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকার্ষন করেছেন দেশ-বিদেশী থেকে আসা অসহয়া ভুক্তভোগীরা ।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

twelve − one =