সঞ্চয়পত্র নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ দেখার কেউ নেই

0
381

অবশেষ মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের লোকদের সঞ্চয়ের একমাত্র ঠিকানা সঞ্চয়পত্রে সরকার কুঠারাঘাত করেই ছাড়লো। এক সময় এই খাতে বিনিয়োগের জন্য সরকার থেকে প্রচার মাধ্যমে ব্যপাক প্রচার করা হতো। প্রতি বছর সঞ্চয় সপ্তাহ পালন করা হতো ও শহরে বর্ণাঢ্য রেলি বের করা হতো। সব যেন ভেস্তে গেছে। সকল প্রকার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার পরিমান কমিয়ে দেয়া হয়েছে। গত অর্থ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে যে মুনাফা প্রদান করা হতো তার ওপরও কুঠারাঘাত করা হয়েছে। কথা ছিল চলতি বছর জুনের পর থেকে যারা এ খাতে বিনিয়োগ করবে তাদের মুনাফার ওপর শতকরা দশ টাকা হারে কর কেটে নেওয়া হবে। কিন্ত পরে দেখা গেল যারা তিন বছর আগে এ খাতে বিনিয়োগ করেছে তাদের মুনাফার ওপরও একই হারে কর কর্তন চলছে।

অথচ উক্ত অর্থ বছরগুলোতে মুনাফার ওপর শতকরা ৫ টাকা হারে কর কর্তনের চুক্তি ছিল। এভাবে পূর্বের সঞ্চয়পত্রের ওপর ৫% এর পরিবর্তে ১০% হারে কর কর্তন সরকারের সাথে বিনিয়োগকারীদের চুক্তি ভঙ্গ। এখানেই শেষ নয়। বর্তমানে যে কোন ধরনের সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে কঠোর নিয়মে ঘুড়পাক খাচ্ছেন বিনিয়োগকারীগণ।

গত অর্থ বছরে এ খাতে বিনিয়োগ করতে যে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিতে হতো চলতি অর্থবছরে এর চাইতে অনেকগুলো কাগজপত্র জমা দিতে হচ্ছে বলে বিনিয়োগ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে মহিলারা টিন নম্বর নিয়ে বেশ বিপাকে পড়ছেন। অথচ এ খাতে বিনিয়োগেকারীদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা।

টিন নম্বর না থাকার কারনে ইতোপূর্বে বিনিয়োগ করা টাকা পুণরায় বিনিয়োগ করতে বাধার সন্মুখীন হচ্ছেন। আবার যেসব ফরম পূরণ করতে হচ্ছে তা সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া অনেক পোস্ট অফিস ও ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজিত এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য অনেকে সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে ঝুঁকিপূর্ন খাতে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen + four =