উত্তরা বিআরটিএ আব্দুস সালামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

0
75

জেমস এ কে হামীম: বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) উত্তরা-তুরাগ ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেল অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম কি ভাবে ১৫ কোটি টাকার বিষয় সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। অফিসের মোটরযান (ড্রাইভিং) বিআরটিএ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্বে সীমাহীন ঘুষ, দুর্নীতি, ব্যাপক জাল-জালিয়াতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উত্তরা বিআরটিএ অফিসে ঘুষ বানিজ্য এখন ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। বিআরটিএ অফিসকে কেন্দ্র করে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বিশাল একটি দালাল চক্রের সিন্ডিকেট রয়েছে। ইতি মধ্যে বিআরটিএ অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তুরাগের ডিয়াবাড়ি নিমতলির টেক গ্রামে প্রায় ৫ কাঠা জমির উপর পাইলিং করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই সম্পত্তির বাজার মূল্য প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। একটি সুত্র জানায়, চাকরীকালীন অবস্থায় ঘুষের টাকা দিয়ে তিনি বহুতল ভবণ তৈরী করছেন। বিআরটিএ অফিসের একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কি করে অল্প দিনে অনুমানিক ৩০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। জমির মালিক রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালামের রয়েছে বিপুল পরিমান ব্যাংক ব্যালেন্স। একজন সামান্য তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী থেকে যার চাকরী শুরু তিনি কি করে কোটি কোটি টাকার মালিক এ যেন তার হাতে আলাদিনের প্রদীপ তার হাতে।

এছাড়া বিআরটিএ উত্তরা-তুরাগ ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেল অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম অফিসের মোটরযান (ড্রাইভিং) বিআরটিএ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে লাখ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ড্রাইভিং পরীক্ষা দেওয়ার সময় এসব কর্মকর্তারা চেয়ারে বসে থাকেন আর দালাল চক্রের সদস্যরা পরীক্ষায় গ্রাহকদেরকে গাড়িতে উঠতে আর নামতে সার্বিক সহযোগিতা করেন। এসময় গ্রাকদেরকে কাছ থেকে জনপ্রতি ২‘শ টাকা করে আদায় করা হয়। ঘুষের টাকা ২‘শ আর গাড়িতে উঠতে নামতে ৫‘শ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়েই ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাস। দৈনিক প্রায় ২‘শ থেকে আড়াইশ গ্রাহক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে বলে জানা যায় ।

এদিকে, ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেল উত্তরা বিআরটি অফিসে মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইন্সেস করতে আসা আব্দুস রশিদ নামে এক ভূক্তভোগী (পেশায় আইনজীবি) এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমি পরীক্ষা দেওয়ার ৪ মাসেও ড্রাইভিং লাইন্সেস পাইনি। ইতি মধ্যে আমার কাগজে পরপর দুইবার তারিখ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর কবে আসল লাইন্সেস হাতে পাবো সেটিও বলতে পাচিছনা। উত্তরা, তুরাগ ও উত্তরখান এলাকা থেকে ছুটে আসা একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয়না।  “টাকা দিলে ফাইল নড়ে’’ আর টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না। উত্তরা বিআরটিএ অফিসের ইটেও বলে টাকা চাই, টাকা দে’’। আর এখানে দালাল চক্রের উৎপাত সবচেয়ে বেশি। দালালরা অফিসারদের পাশেই দাঁড়িয়ে কিংবা বসে থাকে।

এভাবে সরকারী বিআরটিএ অফিস চলতে পারেনা। আব্দুস সালামের নেতৃত্বেই উত্তরা-ডিয়াবাড়ি বিআরটিএ অফিসে ঘুষের টাকা লেনদেন ও বন্টন করা হয়ে থাকে। সেকারণে বিআরটিএ অফিসে ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধের জন্য সরকারের নজর দেওয়া দরকার বলে তুক্তভোগী মনে করেন। অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেল উত্তরা বিআরটি অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম দীর্ঘ প্রায় ৩ থেকে সাড়ে তিন বছর এই অফিসে চাকরী করছেন। ইতি পূর্বে এই কর্মকর্তা মিরপুর ও যশোর বিআরটিএ অফিসে কর্মরত ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে যশোর অফিস থেকে বিপুল পরিমান টাকা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বিআরটিএ অফিসে বদলী হয়ে আসেন।

এর পর তিনি মিরপুর থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষের বিনিময়ে ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেল উত্তরা-তুরাগ বিআরটি অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আব্দুস সালাম। উত্তরা বিআরটিএ অফিসে যোগদানের পর ঘুষের টাকায় বিপুল পরিমান সরকারী রাজস্ব (কর) ফাঁকি দিয়ে ৫ কাঠা জমি, বিপুল পরিমান ব্যাংক ব্যালেন্স সহ নামে বেনামে বিষয় সম্পত্তি একের পর এক ক্রয় করে যাচেছন। ইতি মধ্যে বিআরটিএ এই কর্মকর্তা ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা মুল্যের তুরাগের ডিয়াবাড়ি এলাকায় সম্পত্তি ক্রয় করেন। এদিকে, (বিআরটিএ) উত্তরা-তুরাগ ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেল অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম রাজধানীর তুরাগ থানার ডিয়া বাড়ি নিমতলির টেক গ্রামের বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করেপোরেশন (ডিএনসিসি)

৫৩ নম্বর ওয়ার্ড গনির দোকানের পশ্চিম পার্শে জামালের বাড়ির সাথে প্রায় ৮ দশমিক ১১ শতাংশ প্রায় (৫) কাঠা জমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণের পাথরের ড্রেজিং ও পাইলিংয়ের নির্মান কাজ গত প্রায় এক মাস ধরে চলছে। বিআরটিএ’র এই কর্মকর্তা স্থানীয় নিমতলির টেক জামে মসজিদে সম্প্রতি সময়ে দুর্নীতি ও ঘুষের প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ৩টি এসি কিনে দিয়েছেন। প্রতিটি এসির মূল্য প্রায় ৮৩ হাজার টাকা করে। যুগ্ন জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত, ঢাকা দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-৯২৫/২০১৬ ইং। ওই দায়েরকৃত মামলার ২৬ নং-আসামী হলেন-আবদুস ছালাম, পিতা বেলায়েত হোসেন সাং-কাচিরচর থানা মুলাদি জেলা বরিশাল। এছাড়া ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ঢাকা যুগ্ন জেলা জজ আদালতে তার নামে আরও একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা রয়েছে। যার মামলা নং ২৫৭৯/২০১০।

উক্ত দুইটি মামলা বাদী হলেন-আব্দুল খালেক গং। আবদুস ছালামের বিরুদ্বে ডিএমপি’র তুরাগ থানায় দুইটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয় যার নং-৪৭৪। তারিখ-১০/০৯/২০১৮ ও নং-৬২৩ তারিখ- ১৬/০৫/২০১৯ ইং। জিডি দুইটি দায়ের করেন জমির মালিক আব্দুল খালেক গং। তুরাগের নলভোগ মৌজাস্থ জমির পরিমান ৮ শতাংশ ১১ (এগার) পয়েন্ট। সিএস খতিয়ান ৯১ এসএ খতিয়ান ১৯০ আরএস খতিয়ান ১০৭, সিটি জরিপ খতিয়ান ২৫১, সিএস এসএ দাগ ৩৩৮, আরএস দাগ ৫৮৫, মহানগর দাগ ১৯১২, জমির মূল্য (বর্তমান) ৬ কোটি  টাকা। বাংলা ১৪০১ সালের ৫ ই মাঘ ইংরেজী ১৮ জানুয়ারী ১৯৯৫ ইং। উক্ত জমিটি ক্রয় করেন আবদুস ছালাম। দলিল নম্বর ৪৮৯।

সাবরেজিষ্টি অফিস মিরপুর, ঢাকা। কিন্ত তিনি বিআরটিএ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অফিস থেকে ছুটি কিংবা কোন ধরনের ছুটির দরখাস্ত না করে অফিস না করে নিয়মিত হারে অফিস থেকে হাজিরা দেখিয়ে সরকারী বেতন কৌশলে তুলে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে জানা যায়, যে তাং গুলো আবদুস ছালাম অফিস না করে আদালতে হাজিরার দিন উপস্থিত ছিলেন তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো-২০১৮ সালের ৮ মে, ৬ জুন, ৭ জুলাই, ৯ আগস্ট, ১৩ সেপ্টেম্বর, ১১ ও ৩১ অক্টোম্বর, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারী, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৪ মার্চ, ৮ ও ১৬  এপ্রিল, ১৬ মে, ১২ জুন ২০১৯, ৪ আগষ্ট ২০১৯।

ডিয়াবাড়ি ও চন্ডালভোগ গ্রামের একাধিক বাসিন্দা ও দোকানদারা এই প্রতিতবেদককে জানান, তুরাগের সোনারগাঁও জনপথ সড়কের ডিয়াবাড়ি গ্রামে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের রাস্তার দক্ষিণ পাশে সরকারী পরিত্যক্ত জমিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইট দুর্নীতির টাকায় কিনে  রাখা হয়। ইট গুলোর মালিক বিআরটিএ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম। ক্রয়কৃত ইটের বাজার মূর্যণ প্রায় ৬ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বিআরটিএ কর্মকর্তা আব্দুস সালামের সেকেন্ট ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছেন তুরাগের ডিয়াবাড়ি নিমতলি গ্রামের বিএনপির নেতা আব্দুল রাজ্জাক পিতা মৃত ইউসুফ আলী, তার দুই পুত্র মো: কবির ও শফিক। অবৈধ টাকা দিয়ে সালামের সাথে সিন্ডিকেট তৈরী করে আব্দুল রাজ্জাক বহুতল বাড়ি তৈরী করছেন। বর্তমানে দ্বিতীয় তলা বাড়ির ছাঁদের নির্মাণ কাজ চলছে। এদিকে, ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেল অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তার নামে-বেনামে, স্ত্রী সন্তান,

ভাই ও আত্মীয় স্বজনদের নামে অন্যত্র বিপুল পরিমান সম্পত্তি, ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে বলে জানা যায়। দামী একটি প্রাইভেটকার চলাচল করে তার পরিবার। বর্তমানে রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরার একটি বিলাশবহুল বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন বিআরটিএ এই কর্মকর্তা। আব্দুস সালাম ঘুষের টাকা লেনদেন হয় তার একান্ত সহযোগী আব্দুল রাজ্জাকের বাসায়। গত ০৩/০৫/২০১৯ ইং রাজ্জাকরে মাধ্যমে বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে আ: সালাম প্রায় পাঁচ লাখ দেন রুহুল কবির রিজবির কাছে।

রাজ্জাকের মাধ্যমে প্রায় ৫ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন বিআরটিএ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম। জমির দলিল করার সময় বিপুল পরিমান সরকারী রাজস্ব (কর) ফাঁকি দেয় আব্দুল সালাম।আব্দুল সালামের ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। এবিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সালামের সাথে দেখা করলে তিনি বলেন, সরকার আমাকে বাড়ী দিচ্ছে কখন বা কবে দিচ্ছে এ ব্যাপারে কিছু বলেনি আমার নামে নিউজ করবেন আমি আপনার নামে মামলা করবো।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 2 =