সাংবাদিক দেখলেই ক্ষেপে যান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তা নুরুন্নবী সরকার

0
108

সাংবাদিক দেখলেই ক্ষেপে যান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকার। মুখে যা আসে তাই বলেন। নামে-বেনামে সরকারি সম্পদ লুট করার খবর বারবার প্রকাশ করায় অফিসে সাংবাদিক গেলেই চড়াও হন তিনি। উগ্রভাবে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। জো’র গলায় বলেন, এটা আমা’র অফিস, আমি যা ইচ্ছা তাই করব।

বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম-দু’র্নীতির অ’ভিযোগে তার বি’রুদ্ধে চারটি মা’মলা হয়েছে। এরমধ্যে তিনটি মা’মলা করেছে দু’র্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া ঘুষ গ্রহণের অ’ভিযোগে আরও একটি মা’মলাসহ থা*নায় জিডি আছে একাধিক।

টিআর-কাবিখায় গৃহ নির্মাণসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম-দু’র্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অ’ভিযোগের হিসেব নেই পিআইও নুরুন্নবীর বি’রুদ্ধে। এসব অ’ভিযোগের ত’দন্তে বেশ কিছু প্রমাণও মেলে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই এই সরকারি কর্মক’র্তার নানা অনিয়ম, দু’র্নীতি আর লুটপাটের ঘটনা। ২০১৫ সালের শুরুতে সুন্দরগঞ্জ উপজে’লায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তা হিসেবে (পিআইও) হিসেবে যোগ দেন নুরুন্নবী সরকার। শুরু থেকেই সরকারি বরাদ্দের টিআর, কাবিখাসহ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনসহ নানা অনিয়ম-দু’র্নীতির অ’ভিযোগ উঠে তার বি’রুদ্ধে।

এসব প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সুন্দরগঞ্জ উপজে’লার নদী ভাঙন ও দুঃস্থ-অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ ও দু’র্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আসে নগদ টাকাসহ ৫২০ বান্ডিল ঢেউটিন। এরমধ্যে তিনি ২০০ বান্ডিল আত্মসাৎ করেন বলে অ’ভিযোগ ওঠে। এরপর সেই ঢেউটিন উ’দ্ধার করা হয় একটি মাদরাসা থেকে। এ ঘটনায় দু’র্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবদুল মালেক ত’দন্ত করে সত্যতাও পান। টিন আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় পিআইওর বি’রুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মা’মলা করেন রংপুর সমন্বিত দুদকের এক কর্মক’র্তা।

এছাড়া একই বছর সুন্দরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের উন্নয়ন ও একটি রাস্তা সংস্কারে টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় নগদ টাকা ও ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়। কিন্তু ভু’য়া প্রকল্প কমিটি দেখিয়ে তা আত্মসাত করেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। পরে ত’দন্তে এ অ’ভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া ২০১৬ সালের ৩ মা’র্চ ব্রিজের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে মেসার্স নিশা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার ও সুন্দরগঞ্জ উপজে’লা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ছামিউল ইস’লাম সামুর কাছ থেকে কয়েকজনের উপস্থিতিতে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেন পিআইও নুরুন্নবী।

কিন্তু সেই কাজ তাকে না দিয়ে অন্য ঠিকাদারকে দেয়া হয়। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দে রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, ধ’র্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও সোলার প্যানেল স্থাপন প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা কাজ না করেই ২৪ লাখ টাকা উঠিয়ে আত্মসাত করেন পিআইও নুরুন্নবী ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মক’র্তারা। এ ঘটনায় পিআইওসহ ৮ জনের বি’রুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থা*নায় তিনটি পৃথক মা’মলা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই দুদুক সমন্বিত রংপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোজাহার আলী বাদি হয়ে এই মা’মলা করেন।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ত্রাণ ও দু’র্যোগ মন্ত্রণালয়ের টিআর-কাবিখার বিশেষ বরাদ্দের দুই কোটি ২৮ লাখ টাকার কাজ ঠিকমত না করে অর্থ আত্মসাতের অ’ভিযোগও রয়েছে পিআইও নুরুন্নবীর বি’রুদ্ধে। পাশাপাশি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরেও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সোলার স্থাপন, শিক্ষা ও ধ’র্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তা সংষ্কার এবং গৃহ নির্মাণ প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়ম-দু’র্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অ’ভিযোগ রয়েছে তার বি’রুদ্ধে। অ’পরদিকে সরকারি বরাদ্দের টিআর-কাবিখা ও গৃহ নির্মাণসহ ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই হিসাবরক্ষণ কর্মক’র্তার কার্যালয়ে ৬ কোটি টাকার বিল দাখিল করেন নুরুন্নবী।

কিন্তু সেই বিল স্বাক্ষরে অ’পরগতা জানান হিসাবরক্ষণ কর্মক’র্তা আবদুর রাজ্জাক। এ কারণে তাকে চাপ প্রয়োগসহ গালিগালাজ করেন পিআইও নুরুন্নবী। এক পর্যায়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বিলে স্বাক্ষর নেয়ায় নুরুন্নবীর বি’রুদ্ধে গত ২৯ জুন সুন্দরগঞ্জ থা*নায় সাধারণ ডায়েরিসহ ঘটনাটি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান হিসাব রক্ষণ কর্মক’র্তা। এসব অনিয়ম-দু’র্নীতির বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পিআইওর কার্যালয়ে যান স্থানীয় সাংবাদিকরা। এ সময় অ’ভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে উত্তেজিত হয়ে উঠেন নুরুন্নবী।

সাংবাদিকদের অ’পমান-অ’পদস্ত করেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকের হাতে ক্যামেরা দেখে আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। পরে সবার সামনেই সিগারেট ধরিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। সুন্দরগঞ্জ উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) ছোলেমান আলী জানান, পিআইও নুরুন্নবীর এসব অনিয়ম-দু’র্নীতির অ’ভিযোগ ও গত জুন ক্লোজিংয়ে কাজ না করে ৬ কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জে’লা প্রশাসকের কাছে একটি ত’দন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এছাড়া অ’তীত অ’ভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর তার বি’রুদ্ধে নেবে। এদিকে পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বি’রুদ্ধে দু’র্নীতি অ’ভিযোগ ও অর্থ আত্মসাতের মা’মলার বিষয়ে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগেই পিআইওর বি’রুদ্ধে একাধিক মা’মলা ও অ’ভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু কেন তার বি’রুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থ নেয়া হয়নি তা জানা নেই। দ্রুত এসব অ’ভিযোগখতিয়ে দেখাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানো হবে

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 + twelve =