পর্যায়ক্রমে হয়ে ওঠেন নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য

0
51

খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন মেহেদী হাসান তামিম ও আব্দুল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তারা যোগ দেন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবিতে। পর্যায়ক্রমে হয়ে ওঠেন নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য।

রোববার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে নব্য জেএমবির দুই সদস্য মো. মেহেদী হাসান তামিম ও মো. আব্দুল্লাহকে আটক করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। রাজধানীর গুলিস্তান ও সায়েন্সল্যাবে পুলিশের উপর বোমা হামলার সংশ্লিষ্টতায় তাদের আটক করা হয়।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) এ বিষয়ে জানাতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি জানান, দু’জনেই নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। তারা প্রত্যেকেই খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে থেকেই তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভোলার একটি দুর্গম চরে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয় তারা। গত সেপ্টেম্বরে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার ফরিদ উদ্দিন রুমির ছোট ভাই রফিকের নেতৃত্বে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে একটি সামরিক শাখা প্রতিষ্ঠা করেন তারা। হামলার লক্ষ্যে ফতুল্লায় রফিকের বাসায় একটি কারখানায় তারা বোমা তৈরি করে আসছিল।

তাদের তৈরি বোমা দিয়েই চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল গুলিস্তানে এবং ৩১ আগস্ট মালিবাগে পুলিশের উপর হামলা হয়। এছাড়া, সায়েন্সল্যাব, পল্টন ও খামার বাড়ির বোমা হামলায় ব্যবহৃত বোমাও তারা তৈরি করেছিলেন বলে জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আটকদের প্রধান টার্গেট ছিল পুলিশ। তাই বিভিন্ন সময়ে তারা পুলিশ বক্স টার্গেট করে হামলা করেছে। প্রতিটি হামলার আগে তারা টার্গেটস্থলে বারবার র‍েকি করতো।

পুলিশকে টার্গেট করার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের উপর তাদের হামলার কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এসব সংগঠনগুলোর মধ্যে তাদের প্রথম পছন্দ ছিল আইএস। তারা আইএস’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করছিল, তবে এখন আর সেই যোগাযোগ নেই।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen + five =