সাবধান: অনুমোদনবিহীন স্বপ্নধরা আবাসন ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ!

0
75

মোঃ আহসানউল্লাহ হাসানঃ
স্বপ্নধরা আবাসন প্রকল্পের কোন রকম বৈধ অনুমোদন নেই, তারপরেও মহাসমারোহে চালিয়ে যাচ্ছে প্লট বিক্রি। তবে প্লট বিক্রিতে রয়েছে ভয়ংকর প্রতারনার ফাঁদ। শুধুমাত্র কোম্পানীর সাইনবোর্ড ব্যবহার করেই চলছে প্লট বিক্রি। হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কিস্তিতে প্লট বিক্রির ফাঁদে ফেলে আগামী ৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার মিশনে মাঠে নেমেছে সরকারী অনুমোদনহীন স্বপ্নধারা আবাসন। ২৯শ টাকা মাসিক কিস্তিতে প্লট বুকিং। টার্গেট ৫ লাখ প্লট বিক্রি করা। এজন্য চলছে টিভিতে পত্রিকায় বাহারি বিজ্ঞাপণ আর রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্লট বিক্রির নামে আবাসন মেলা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ছনবাড়ী-ষোলঘর নামকস্থানে স্বপ্নধারা আবাসন কোম্পানী প্লট ব্যবসার নামে অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে চটকদার সাইনবোর্ড লাগিয়ে জনগনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হরদম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারনা। স্বপ্নধারা আবাসন কোম্পানী এযাবৎ নিজেদের কোম্পানীর নামে শ্রীনগর ভুমি অফিসের মৌজাধীন এলাকায় জমি কিনেছে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। যেখানে প্লট বানালে সর্বোচ্চ প্লট হতে পারে ২০টির মতো। কিন্তু প্রতারক কোম্পানী প্রতিষ্ঠালগ্ন সময় হতে রাজধানী ঢাকা শহরের নামিদামী হোটেল ও ভিআইপি লাউঞ্জ ভাড়া নিয়ে জমকালো মেলার আয়োজন করে সহজ কিস্তিতে এপর্যন্ত ১২শর উপরে প্লট বুকিংয়ে বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। আগামী ৩০ সালের মধ্যে আবাসন ব্যবসার লাইসেন্সবিহীন এই কোম্পানী ৫ লাখ প্লট বিক্রি করা টার্গেট নিয়ে মাঠে কাজ করছে। যার পুরো পরিকল্পনাটাই ঠকবাজি আর প্রতারনায় ভরপুর। কারন এই মুহুর্তে স্বপ্নধারা সহজ কিস্তির মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে প্লট বুকিং দিয়ে যেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সেই টাকা বা প্লট অদুর ভবিষ্যতে কখনোই গ্রাহক ফেরত পাবেনা বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। আর আসল ঘটনা হলো এই মুহুর্তে যারা স্বপ্নধরার নিকট জমি ভাড়া দিয়েছে সাইনবোর্ড লাগানোর জন্য তাদের জমিও একদিন এই হায় হায় কোম্পানী গ্রাস করবে।

যা ইতিপূর্বে দেশের নামিদামী আবাসন কোম্পানীগুলো জনগনের জমি জোড়পূর্বক দখল করে নিয়েছে। জনগনের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঐ টাকা দিয়ে আবার জনগনের উপরই নির্যাতন করার বহু রেকর্ড ভুমিদস্যু কোম্পানীগুলো বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। জনগনকে নিঃস্ব করার এক ডিজিটাল ফাঁদ হচ্ছে স্বপ্নধরা আবাসন কোম্পানী। এই কোম্পানীর চেয়ারম্যান, এমডি সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশের বড় বড় দুর্নীতিবাজ গডফাদারদের নিকট আত্মীয়। তাদের ক্ষমতার জোড় অনেক উপরে। তাদের অন্যায়ে প্রতিবাদ করে কেউ সুবিধা করতে পারেনা। তারা একবার টাকা হাতিয়ে নিজেদের পকেটে নিতে পারলে ঐ টাকা আর কখনোই কেউ ফেরত আনতে পারবে না। কারন তারা খুব সুক্ষè কৌশলে জনগনের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

স্বপ্নধরা প্লট বুকিংয়ের মাধ্যমে জনগনের নিকট থেকে যেই টাকাটা নিচ্ছে তার বিপরীতে জনগনকে দিচ্ছে কোম্পানীর নামের উপরে একটুকরো রশিদ ভাউচার। আর এই ভাউচার হবে ঐ সমস্ত জনগনের গলার তাবিজ মাত্র। কোম্পানী টাকা বা জমি বুঝিয়ে না দিলে এই তাবিজ ব্যবহার করে জনগন হাজার বছরেও তার সমস্যার সমাধান পাবে না। কারন ডেসটিনিতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এমন তাবিজ অন্তত ২০ লাখ গ্রাহক পেয়েছে। ডেসটিনির তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে ২০ লাখ গ্রাহক শুকিয়ে শুটকি মাছ হলেও ডেসটিনির কর্মকর্তারা কিন্তু খুবই আরাম আয়েশে দিন পার করছে। এদের নামে মামলা হয়েছে ঠিকই তবে এরা জনগনের থেকে হাতিয়ে নেয়া ঐ টাকা খরচ করে জামিনে বেরিয়ে এসে এখন আছে মহা সুখে। স্বপ্নধরাও ঠিক একইভাবে জনগনকে নিঃস্ব বানাবে এতে কোন সন্দেহ নেই বলে জানিয়েছে স্বপ্নধরায় কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

রাস্তার মোড়ে মোড়ে সহ পত্রপত্রিকায় বা টিভিতে স্বপ্নধরা আবাসনের চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপনের ফাঁেদ পড়ে যারা তাদের তিল তিল করে জমানো টাকা স্বপ্নধারা হাতে তুলে দিচ্ছে ভবিষ্যতে তাদের চোখে কান্না করার মতো পানিটুকু থাকবেনা বলে মনে করছে সচেতন মহল । চলবে…।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 1 =