ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নেই ৫৬টি ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও অদৃশ্য কারণে বন্ধ

0
57

ওহিদুজ্জামান টিপু: ঈশ্বরদীর সর্বাধিক ৫৬ টি ইটভাটা অধ্যুষিত লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নে ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও ৬ মাস বন্ধ রয়েছে। কৃষি জমি বিনষ্ট, ভাটায় কাঠ পোড়ানো, নিয়ম নীতি লংঘন ও পরিবেেেশর ভারসাম্য হীনতার বিষয় উল্লেখ করে ইতোপূর্বে কয়েকদফা ইত্তেফাকসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হলে পরিবেশ অধিদপ্তর বিগত ২৫ শে এপ্রিল হতে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এসময় বলা হয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে অবৈধভাবে গড়ে উঠা সকল ইটভাটা উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে হঠাৎ করেই এই উচ্ছেদ অভিযান ৬ মাস যবত বন্ধ রাখার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ জানা যায়নি। আবার অবৈধ ভাটা বৈধকরণ বা অনুমোদনও দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে ভাটা মালিকরা নির্বিঘেœ নিয়ম-নীতি লংঘন করে ভাটায় ইট পুড়িয়ে চলেছে। ঈশ্বরদী শহর হতে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরবর্তী প্রত্যন্ত পদ্মা নদী তীরবর্তী লক্ষীকুন্ডায় একর পর এক মোট ৫৬ টি ভাটা অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। বুধবার সরেজমিনে লক্ষ্মীকুন্ডার তিনটি গ্রাম কামালপুর, দাদাপুর ও বিলকেদার গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৃষি জমির উপর এসব ইট ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। ভাটা নির্মাণের জন্য চিমনীর উচ্চতা ও আনুসঙ্গিক যে নির্দেশনা রয়েছে তা অধিকাংশ ভাটা মালিকারা  যথাযথ ভাবে মানছেন না। বেশির ভাগ ভাটার মালিকরা ইট তৈরির জন্য অবৈধ উপায়ে পদ্মার চর হতে মাটি সংগ্রহ করছেন। এছাড়া বেশীরভাগ ভাটাতে জ্বালানী হিসেবে কয়লার পরিবর্ততে কাঠের খড়ি ব্যবহার করা হয়। পদ্মার চরে গিয়ে ভাটার মালিকদের মাটি সংগ্রহের অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে।

  বিগত ২৫শে এপ্রিল দুপুরের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তানজিম আহমেদ এর নেতৃত্বে আকষ্মিকভাবে ভাটা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। পাবনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় যৌথবাহিনী লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৪টি ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়। এসময় ইটভাটার মালিকেেদর নিকট হতে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়।

উচ্ছেদকৃত ইট ভাটাগুলোর মধ্যে ছিল বিআরবি, আদর্শ ব্রিকস্ এসআরবি ও মালিথা ব্রিকস্। এই ভাটাগুলো আবারো চালু করা হলেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদকৃত ৪টি ইটভাটা আবারো এখনও চালু রয়েছে এবং  দিব্যি ইট পুড়িয়ে বাজার জাত করছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তানজিম আহমেদ ওই সময় বলেছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কোনো নিয়ম নীতি না মেনেই অবৈধভাবে এই ইটভাটা গুলো স্থাপন করা হয়েছে। এখানে কয়লার পরিবর্তে পুড়ছে কাঠ। নিয়ম বর্হিভূতদের তালিকা তৈরী করে ইটভাটা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করা হবে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলো ।

পাবনা জেলায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। এবিষয়ে বৃহস্পতিবার পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, আমি আসার পর জেনেছি এখানে ৪৮টি ভাটা রয়েছে। পানি থাকার কারণে এখন কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। 

ইটভাটাগুলো কৃষি জমিতে এবং ফসলি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। যা পরিবেশ অধিদপ্তরের শর্ত পূরণ করে না। আইনসিদ্ধ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের সনদ এবং ইট নির্মাণের কোন শর্তই এই ভাটাগুলো পূরণ করছে না।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × two =