আবরার হত্যা মামলায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন দায়মুক্ত কেন

0
90

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গেছে। ছাত্রলীগের এই নির্মম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ এখনও থেমে থেমে চলছে। গোয়েন্দা পুলিশ অবশেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগনামা দাখিল করেছে। এখনও চার থেকে পাঁচজন আসামি পলাতক রয়েছে। আসামিদের অনেকে হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত। আবার অনেকে সহায়তাকারি ও হুকুমের অপরাধে জড়িত। প্রতিবাদি শিক্ষার্থীরা বলছে সকল অপরাধীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর না হলে তারা আবার অন্দোলন শুরু করবে এমনকি ক্লাস বর্জন করবে। তদন্ত থেকে জানা যায় আবরারকে যারা নির্মভাবে পিটিয়ে হত্যা করে তার সবাই ছাত্রলীগের  নামে এ পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন ও জুলুম করেছে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়ে তারা নিয়ন্ত্রনহীন ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। উশৃঙ্খল এসব শিক্ষার্থীদেরকে শুরু থেকে নিয়ন্ত্রন করলে এধরনের লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হয়তো ঘটতো না এবং বেঁচে যেত আবরার।

তাকে নির্মম নির্যাতনের সময় পানি পানি করে চিৎকার করলেও তাকে পানি দেওয়া হয়নি। এক পর্যায় দুই বার বমি করে দেয় আবরার। তবুও ছাত্রলীগের দানবীয় নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি আবরার। হত্যাকারীরা এতটাই পাষবিক ছিল যা বিশ্বের ইতিহাসের অনেক পাষবিকতাকে হার মানায়।

প্রশ্ন জাগে ভিকটিম কী এমন অপরাধ করেছিল যে তার ওপর এতগুলো হিংস্র হায়েনা ঝাপিয়ে পড়বে? গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামে গোটা দেশে আজ চাঁদাবাজী, হত্যা ও জুলুমের রাজত্ব চলছে। আবরারকে নির্যাতনের সময় কিছু শিক্ষার্থী বুয়েটের ভিসি, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছিল।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার দায়িত্ব এড়িয়ে যায়। থানায় খবর দেওয়ার পর থানা থেকে ফোর্স নিয়ে এসআই দেলোয়ার হোসেন গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কামরার ভেতরে প্রবেশ না করে বাইরে বসেছিল। ততক্ষনে সবই শেষ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ দায়মুক্ত থাকতে পারে না। অবস্থা দেখে মনে হয় তাকে হত্যা করা ছিল পরিকল্পিত। আমরা হত্যাকারি হিংস্র হায়েনাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই এবং এধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে তার নিশ্চয়তা চাই।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 4 =