থানা হেফাজতে পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যু

4
325

ঢাকার তেজগাঁও শিল্পঞ্চল থানা হেফাজতে বিএফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যুতে দেশে বেশ তোলপাড় হয়ে গেছে। ওই থানার বিরুদ্ধে ‘ধরো-ছাড়ো’ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে অসংখ্য। অর্থাৎ বিনা অভিযোগে যাকে খুশি তাকে থানায় ধরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার মত ঘটনা চলছে উক্ত থানায়। তবে একই ধরনের অভিযোগ গোটা দেশের অনেক থানা ও পুলিশের বিরুদ্ধে কম বেশি রয়েছে। পুলিশের এই ধরনের অনৈতিক ব্যবসার অপর নামটি হচ্ছে গ্রেপ্তার বাণিজ্য। সাম্প্রতিক সময়ে বিনা অভিযোগে যাকে খুশি তাকে ধরে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকার জন্য জুলূম নির্যাতন অশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পচ্ছে। ইয়াবা, গাঁজা বা অন্য যে কোন মাদক দিয়ে ধরে নেয়ার কারণে পুলিশের নাম শুনলেই মানুষের মধ্যে অতংক বিরাজ করে। থানায় নিয়ে টাকার জন্য নির্যাতন যেন ন্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যারা টাকা দিয়ে রফা করতে পারে তারা থানা থেকে অর্থাৎ পুলিশের হাত থেকে বেঁচে আসতে যারা পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারছে তাদের ওপর চলছে পুলিশের নির্মম নির্যাতন ও অকথ্য গালি। এরপর আদালতে চালান ও জেল হাজত।

থানাগুলোতে গেলে প্রায়ই দেখা যায় কি নির্মমভাবে ও কত কায়দায় পুলিশরা থানা হেফাজতে নির্যাতন করছে। নির্যাতনের কারণে এ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ মারা গেছে। আইনে এধরনের জুলুম ও নির্যাতন আইনে নিষিদ্ধ হলেও পুলিশ মানছে না আইন। বেপরোয়া হয়ে গেছে পুলিশ।

জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার মহান দায়িত্ব যে প্রতিষ্টানের ওপর ন্যস্ত সে প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে নেমেছে। এই গ্রেপ্তার বাণিজ্য হচ্ছে পুলিশের অপরাধের সামান্য একটি দিক। থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করতে গেলে দেখা যায় পুলিশের একের পর এক প্রশ্ন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য থানায় মামলা করতে গেলেই পুলিশ ফিরিয়ে দিচ্ছে ও মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। একের পর এক ধরনা দিয়েও মামলা করতে পারছে না ভুক্তভোগী। আবার প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে মামলা করলেও টাকা

না দিলে অসামি ধরা হচ্ছে না বা তদন্ত রিপোর্ট দিতে গড়িমসি করছে এমন অভিযোগের অভাব নেই পুলিশের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষন সহ এমন কোন অপরাধ নেই যা পুলিশ করছে না।

আরও জানা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য পুলিশকে টাকা দিলে গুম ও ক্রসফায়ার করে পথের কাঁটা দূর করা যায়। এসব কারণে পুলিশের কিছু সৎ ও এই বাহিনীর উর্দ্ধতন কিছু কর্মকর্তার আত্মত্যাগ ও জনবান্ধব কাজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই ব্যপারে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা আশা করি।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 − 2 =