করোনা মহামারীর প্রতারক শাহেদের বিচার হবে কি?

0
221

মোঃ আহসানউল্লাহ হাসানঃ টিভি টকশোর বুদ্ধিজীবি প্রতারক সাহেদের প্রতারনা ফাঁস, ৫শ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী টকশোর বুদ্ধিজীবি সাহেদ ৩২ মামলার আসামী,৩২ মামলার আসামী মোহনা টিভি টকশোর উপস্থাপক শাহেদ করিমের তেলেসমাতি, টকশোর বুদ্ধিজীবী শাহেদ করিমের লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাসপাতাল রোগী জিম্মি করে অতিরিক্ত বিল আদায়, রোগী হত্যার কসাইখানা টকশোর বুদ্ধিজীবি প্রতারক সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতাল : হত্যা মামলা ধামাচাপা এমন অসংখ্য শিরোনামে বহুমুখী প্রতারক সাহেদের নামে গত দুইবছর যাবৎ ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ আসছে সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করলে করোনাভাইরাসের এই মহামারীতে চিকিৎসার নামে সাধারন জনগনের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পেতো না এই প্রতারক সাহেদ। সাতক্ষিরার এক সামান্য পরিবারের সন্তান সাহেদ আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা কৌশলে প্রতারনা করে এখন সে কোটিকোটি টাকার মালিক।

লোকে বলে টাকা হলে বাঘরে চোখ মিলে-সাহেদের বেলায়ও ঘটেছে তাই। সাহেদ তার অপকর্মের ফাঁদ টিকিয়ে রাখতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে। এমনটাই মনে করে সচেতন ব্যক্তিবর্গ। সাহেদকে যারা আশ্রয় প্রশয় দিয়েছে তাদের ব্যাপারেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সাহেদের লাইসেন্স বিহীন রিজেন্ট হাসপাতাল কিভাবে করোনভাইরাসের আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করার অনুমোদন পেলো, ৩২ মামলার আসামী হয়েও কিভাবে সে বিচারের বাইরে থাকে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তার গাড়ী বহর কিভাবে রাস্তায় চলাচল করে, আয়করে সম্পদের তথ্য গোপন, বিভিন্ন মন্ত্রী এমপি-ভিআইপি লোকজনের সাথে সেলফি তুলে গনমাধ্যমে ক্ষমতার জাহির করা সহ আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন নেতা হওয়ার বিষয়গুলো সম্প্রতি টিভি টকশোতে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে।

সম্প্রতি করোনা মহামারীতে অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ র‌্যাবের অভিযানে প্রমাণিত হওয়ায় সাহেদ সহ ১৭ জনের নামে মামলা ও রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাকে সিলগালা করা হয়।

জানা গেছে, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডের রিজেন্ট হাসপাতাল ও এর মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় ৬ জুলাই-২০২০ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরোয়ার আলম।

অভিযানে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করে করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে করোনাভাইরাস টেস্ট না করেই মনগড়া রিপোর্ট প্রদান, ভুতুড়ে বিল দিয়ে অর্থ আদায়, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চিকিৎসা দেয়া, সরকার থেকে বিনা মূল্যে পরীক্ষা করে রোগীদের থেকে পরীক্ষা বাবদ অর্থ নেয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ প্রমানিত হয়।

ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, ২১ জুন-২০২০ করোনায় আক্রান্ত ৫৭ বছর বয়সী মা সেলিনা বেগমকে মিরপুর শাখায় ভর্তি করেন গণমাধ্যমকর্মী মো. আলী আশরাফ উদ্দিন। চিকিৎসা বাবদ শুরুতে তার বিল করা হয় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯০০ টাকা।

পরে কলম দিয়ে কেটে তা করা হয় ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ টাকা। এরপর ওই গণমাধ্যমকর্মী নিজের পরিচয় দিলে টাকা আরও কমানো হয়। এবিষয়ে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে হাসপাতালটিতে অভিযান পরিচালিত হলে সাহেদের মুখোশ খুলে যায়।

এব্যাপাররে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, আমরা যতটুকু প্রমাণ পেয়েছি- মোট ১০ হাজার জনের নমুনা তারা সংগ্রহ করেছে। সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে তারা আইইডিসিআর, আইটিএইচ ও নিপসম থেকে ৪ হাজার ২০০ রোগীর বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে এনেছে।

তার মানে বাকি প্রায় ছয় হাজার নমুনা যেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলোর কোনো টেস্ট করা হয়নি। স্যাম্পলগুলো এনে ফেলে দেয়া হয়েছে। কম্পিউটারে রিপোর্ট প্রিন্ট করে মনগড়া পজিটিভ-নেগেটিভ রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী টেস্ট বাবদ কোনো টাকা না নেয়ার কথা থাকলেও তারা প্রতিটি টেস্ট বাবদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছে। তাছাড়া  যে ৪ হাজার ২০০ রোগীর তালিকা আমরা পেয়েছি তাতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালটি তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এর বাইরেই প্রায় তিন গুণ রোগীর স্যাম্পল কালেক্ট করা হয়েছে। যেগুলোর কোনো টেস্টই হয়নি। সব মিলিয়ে তিন কোটির বেশি টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি রোগীদের থেকে অবস্থা বুঝে ২ লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার ভুতুড়ে বিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযানে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। যেখানে অবৈধভাবে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদফরের স্টিকার লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেয়ার জন্যই এই অপকৌশল করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তুলে তা হাসপাতালে টানিয়ে প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগে হাসপাতালটির উত্তরা শাখা ও অফিস সিলগালা করা হয়েছে।

এঘটনায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

five − 4 =