ডিসিসির ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আউয়াল হোসেন গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে বিতর্কিত হচ্ছেন

0
293

মো: আবদুল আলীম: ৭১ সনে স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭০ এর সাধারন নির্বাচন, ৬৯ এর গণ অভুথ্যান ও তার পূর্বের আওয়ামীলীগ এবং বর্তমান আওয়ামীলীগের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে যা দেশবাসী ভালভাবে উপলদ্ধি করতে পারছেন। বিএনপি-জামাত থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে ছলে বলে কৌশলে যারা অনুপ্রবেশ করেছেন তারা এক কালের ঐতিহ্যবাহি এই দলটিকে কলুষিত ও বিতর্কিত করছেন । এ পর্যন্ত অসংখ্য অনুপ্রবেশকারী বর্তমান ক্ষমতাসীন দলে যোগদান করে অনেকেই বড় বড় পদ নিয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে আওয়ামীলীগ ও বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন বলে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে অনেক ঝড় বয়ে যাচ্ছে। পুরাতন ঢাকার ডিসিসি’র ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আউয়াল হোসেন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে একজন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকার কোতয়ালী ছাত্র দলের আহবায়ক ইসহাক সরকার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক সনদে দেখা যায় মো: আউয়াল হোসেনকে তৎকালীন ৬৯ নং ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিএনপির সভাপতির পদ দেওয়া হয়। সনদের কপি এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। খালেদা জিয়ার পার্শে দাঁড়ানো অবস্থায় তার একাধিক ছবি রয়েছে যা এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। এক কালে হাজি পিন্টুর সাথে সর্বক্ষন সময় দিতেন বলে এলাকার একাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে জানা গেছে।

৩৩ং ওয়ার্ড এলাকার অসংখ্য লোক এ প্রতিবেদককে জানায় যদি রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটে বা বিএনপি ক্ষমতায় আসে তবে মো: আউয়াল হোসেন এক দৌড়ে আবার বিএনপিতে যোগদান করবে। একারণে বিএনপির লোকদের সাথেও তার হরদম যোগাযোগ রয়েছে। বিতর্কিত এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অপরের বাড়ি দখল, হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ দায়ের করেন।

এলাকার অসংখ্য লোক ক্ষোভের সাথে জানান তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সঠিক তদন্ত হলে মো: আউয়াল হোসেন কাউন্সিলর পদে থাকতেই পারে না। এলাকাবাসি আরও জানান টাকা দিয়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রশাসনের মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। এলাকার অত্যাচারিতরা ফুঁসে উঠছেন কিন্তু প্রতিবাদ করেতে পারছেন না ভয়ে। প্রতিবাদ করলেই হয় ক্যাডার দিয়ে মারধর অথবা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি। পুরাতন ঢাকার বংশালের সাত রওজা মোড়ে ৭১ নং আবুল হাসানাত রোডে ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমানকে হত্যা করেন মো: আউয়াল হোসেন।

বংশাল থানার মামলা নং ০৬ তারিখ ০৬-৯-২০১৬ ইং ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩৪২/৩০২/৫০৬/১০৯/৩৪ দ:বি:। পুলিশ পরিদর্শক মো: আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী আদালতে মামলার চার্জশীট প্রদান করে। এই মামলায় ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আউয়াল হোসেন এক নং আসামি। হত্যাকান্ডের পর গণমাধ্যমে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার দখলবাজির কারণে এলাকাবাসী তটস্ত।

বাংলাদেশ মাঠের (সাবেক পাকিস্তান মাঠ) একাংশ দখল করে মো: আউয়াল কাউন্সিলর অসংখ্য অস্থায়ী দোকান বসিয়ে প্রতিটি দোকান থেকে মাসে মোট ৬০ হাজার টাকা চাঁদা তুলছেন বলে উক্ত এলাকার একাধিক দোকানির কাছ থেকে জানা গেছে। আবার ডিসিসির মেয়র যখন উক্ত এলাকায় কোন কাজে ভিজিট করতে আসেন তখন আগে থেকেই দোকান উঠিয়ে দিয়ে মেয়রের কাছে ভাল মানুষ সাজেন এই কাউন্সিলর।

এলাকা সূত্রে জানা গেছে মাজেদ সরদার কমিউনিটি সেন্টার এর পেছনে সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় অবস্থিত আরবান ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ৫-৬ টি ঘর থেকে প্রতি মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠন আশার আলো’র ঘরগুলো ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে মাসে ৬০ হাজার টাকা করে আদায় করছে।  আবার আশার আলো’র সামনের রাস্তায় অবৈধভাবে বাজার বসিয়ে দৈনিক ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করছে। কাঁচামাল ব্যবসায়ী কামরূল ও হাবিব এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

৩৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছেন আউয়াল। এ ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করছে বাউনা ফারুক, আবদুল হাদি লেনের সুজন, সিক্কাটুলিতে মমিন, বুলবুল, সাগর, সোহেল জাহেদ ও জাকির। ২৫ নং মাজেদ সরদার রোড মুসলিম কলোনির পাশে একটি মসজিদের জায়গা দখল করে ক্লাব বানিয়েছেন তিনি। উক্ত ক্লাবে জুয়া ও মাদকের আসর বসে। বাংলাদেশ মাঠ সংলগ্ন পানির পাম্প এর পাশে ২ টি দোকান দখল করে রেখেছেন। তার মধ্যে একটি হোন্ডা মেকারের অপরটি সিট কাটারের।

মাজেদ সরদার রোডে আরবান হাসপাতালের সামনে জায়গা দখল করে ওয়ার্কসপ এর দোকান ও গুদাম ভাড়া দিয়েছেন। মাসে চাঁদা তোলেন ৩০ হাজার টাকা। ৩৫ মাজেদ সরদার রোড নতুন সড়ক দখল করে ব্যাংক ভাড়া দিয়েছেন এবং নিচে একটি হোটেলসহ বেশ কয়েকটি দোকান ভাড়া দিয়েছেন। ১ নং পি কে গাঙ্গুলি রোড, কাহেঠটুলি ঠিকানার বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাড়ার কথা বলে ৫ তলা ভবনটি পুরোই দখল করে রেখেছেন কাউন্সিলর মো: আউয়াল হোসেন। ভবন মালিক প্রতিবাদ করতে পারছেন না ভয়ে।

এক অভিযোগ থেকে জানা গেছে  ৬২/১, আগা সাদিক রোড এর ভুক্তভোগি মো: সাইদ উক্ত ভবনের ৩ য় তলায় একটি মাত্র কামরায় স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনটির বাকি ১ম, ২য় এবং ৪ র্থ তলা আউয়াল জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। বাসাবাড়িতে আউয়াল কাউন্সিলর ১ ম ও ২ য় তলায় ব্যাচেলার ভাড়া দিয়েছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে জানা যায়  উক্ত ভবন ও জমিতে যুগ্ন জেলা জজ, ৩য় আদালত ঢাকা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ভুক্তভোগি মো: সাইদ উক্ত আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ২২৪/২০১৬ দায়ের করেন যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দখলবাজি চলছে। উক্ত ভবনের সামনে আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ডও টাঙানো রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ভুক্তভোগি বংশাল থানায় জিডি নং ১৪৭৮ তারিখ ২৫/১২/২০১৯ ইং দায়ের করেন। জিডি করার পরও কোন প্রতিকার না পেয়ে মো: সাইদ পুণরায় থানায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে থানা নতুন করে জিডি করার পরামর্শ দেয়। অথচ থানায় গেলে প্রথমে  চলমান করোনা ভাইরাস এর অজুহাতে ভুক্তভোগিকে থানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

অবশেষে অনেক অনুরোধ করার পর বংশাল থানায় মো: সাইদ জিডি নং ৩৯৫ তারিখ ১১-০৬-২০২০ ইং দায়ের করেন এবং জানমালের নিরাপত্তার জন্য ভুক্তভোগি ডিসি, লালবাগ জোন, ডিএমপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে ডিসি তাদের বক্তব্য শুনে কাউন্সিলর মো: আউয়াল হোসেনকে দখলবাজি ও জুলুম থেকে বিরত থাকার জন্য এবং বংশাল থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিলেও থানা কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

এ ব্যাপারে ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আউয়াল হোসেন এর বক্তব্য নেয়ার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন উক্ত ভবনের যেসব ফ্লোর তিনি দখল করেছেন সেগুলো তার কাছে বিক্রি করা হয়েছে।  এদিকে ভুক্তভোগির কাছ থেকে জানা গেছে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় ও সম্পত্তির বাটোয়ারা না হওয়া পর্যন্ত উক্ত সম্পতিতে আউয়াল তান্ডব চালাচ্ছেন।

কাউন্সিলর আউয়াল প্রতিদিনই উক্ত ভবনে তার লোকজন নিয়ে শোরগোল, জুয়ার আসর, উচ্চ শব্দে গান বাজানো ও তান্ডব চালাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জানা গেছে। এদিকে কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ না দিয়ে গত ২২-০৬ ২০২০ ইং আউয়াল কাউন্সিলর তার লোকজন নিয়ে উক্ত ভবন ভাঙতে শুরু করে। ভুক্তভোগি এ প্রতিবেদককে ভবন ভাঙার কথা মুঠোফোনে জানালে এ প্রতিবেদক ঢাকা মহানগর পুলিশের চকবাজার জোনের এসি  ইলিয়াসের সাথে যোগাযোগ করলে এসি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

অভিযোগকারী মো: সাইদ তার ¯ী¿সহ শিশু সন্তানের নিরাপত্তার জন্য আউয়াল এর বিরুদ্ধে  জুন, ২১, ২০২০ ইং স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ কমিশনার, র‌্যাবের মহা পরিচালক, ডিসি, লালবাগ জোনসহ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত লিখিত আবেদন করেন এবং প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ছেন। আবেদনগুলোর কপি এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

আউয়াল কাউন্সিলর  উক্ত এলাকায় আরও অনেকের বাড়ি অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছেন মর্মে এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেছে। তার ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। প্রতিবাদিকে তার কার্যালয়ে নিয়ে তার ক্যাডার দিয়ে ও তিনি নিজে মারধর করেন। এই নিয়ে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়াল হোসেনের সাথে তার কার্যালয়ে গিয়ে এই ব্যপারে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান ও অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সম্প্রতি চাল ও তেল চুরির অপরাধে সরকার অসংখ্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মেম্বারকে বরখাস্ত করেছেন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ১৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কাউন্সিলর তার স্বীয পদ থেকে অপসারনযোগ্য হবেন যদি তিনি (ঘ) অসদাচরন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।

এখানে অসদাচরন বলতে ক্ষমতার অপব্যবহার, আইন বা বিধিনিষেধ লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করা বা অসত্য তথ্য প্রদান করা। ৩৩ নং ওয়ার্ডের কয়েক হাজার ভুক্তভোগীর আশা বিতর্কিত ও বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী এই কাউন্সিলর আওয়াল হোসেন এর অপকর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়ে এলাকা ও ওয়ার্ডকে রক্ষা করা হোক।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten − one =