বৃহত্তর চট্টগ্রামকে বৌদ্ধ রাজ্য বানানোর ঘোষনায় বিতর্কিত বৌদ্ধ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে উত্তাল রাঙ্গুনিয়া

0
191

মোঃ কামাল হোসেন: চট্টগ্রাম ও পার্বত‌্য চট্টগ্রামকে নি‌য়ে বৌদ্ধ রাজ‌্য বানা‌নোর ঘোষণা দি‌য়ে  নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রাঙ্গুনিয়ায় নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে সমালোচনার জন্ম দেওয়া বৌদ্ধ ভিক্ষু শরনাংক থের। এ‌তে রাঙ্গু‌নিয়াসহ চট্টগ্রাম জু‌ড়ে ক্ষোভ ও উ‌ত্তেজনা বিরাজ কর‌ছে। রুমন হিমু নামে তার এক শিষ্য ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও নবী হযরত মুহাম্মদ (স,) ও অাল্লাহ‌কে নানা কটু‌ক্তি ক‌রেন। এর জেরে রাঙ্গুনিয়ায় আপামর জনসাধারণ ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম ও পার্বত‌্য চট্টগ্রাম‌কে নি‌য়ে  অালাদা বৌদ্ধ রাজ‌্য বা‌না‌নোর ম‌তো ফেসবু‌কে  বিত‌র্কিত লাইভ দিয়ে রাঙ্গুনিয়া ছাড়েন এই বৌদ্ধ ভিক্ষু। যাওয়ার পথে ফেসবুক লাইভে শুনা যায় তার নানা আপত্তিকর কথা। যেখানে তিনি বলেন, ‘পুরা বাংলাদেশের ৩০ লাখ মানুষ আমাকে খোদার মতো করে পূজা করে।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, রাঙ্গু‌নিয়া নয় শুধু চট্টগ্রাম ও পার্বত‌্য চট্টগ্রামসহ পু‌রো‌ে বাংলাদেশকে তিনি বৌদ্ধ রাষ্ট্র বানাবেন। এলাকার মানুষকে উষ্কে দিয়ে তিনি বলেন,, ‘আমার সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি, আপনারা কি করবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনারা নিন।’

এদিকে দেশকে বুদ্ধ রাষ্ট্র বানানোর ইচ্ছা, সাম্প্রদায়িক নানা উষ্কানি ছড়ানোর ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই রাঙ্গুনিয়ার ফলাহারিয়া গ্রামে ধর্ম নিয়ে কটুক্তি ও এই বৌদ্ধ ভিক্ষুর নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ফলাহারিয়া এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে তাকে রাঙ্গুনিয়ায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া এই বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গ্রেপ্তার করে দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র রূখে দেওয়ারও দাবী জানানো হয়।

এদিকে একই দাবীতে সোমবার (১৩ জুন) রাঙ্গুনিয়ার সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণের পক্ষ থেকে উপজেলার ইছাখালী সদরে আরও একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া রাঙ্গুনিয়ার হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ব্যানারে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরও পৃথক পৃথক কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই কর্মসূচী চলবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনরত নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, পদুয়া ফলাহারিয়া এলাকায় শরনাংক থের নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু সরকারি জায়গা দখল, ৭৫ হাজার সরকারি বনায়নের চারা কেটে ফেলার অভিযোগে বন বিভাগ মামলা দায়ের করে। এই বিষয়ে পুলিশ তদন্তে গেলে তাদের সাথেও তিনি খারাপ আচরণ করেন।

পরবর্তীতে তিনি ফেসবুকে লাইভ দিয়ে সাম্প্রদায়িক নানা আপত্তিকর বিবৃতি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, পদুয়ায় বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের স্বাভাবিক চলাফেরা, ধর্মীয় কাজে বাঁধা দেওয়া হয়। তার এই ধরণের বক্তব্যের পর ফেসবুকে এর প্রতিবাদ জানায় বিভিন্ন স্তরের জন সাধারণের পাশাপাশি স্বয়ং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারাই। এরপর ১১ জুন সকালে ফেসবুকে লাইভ দিয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।

এরমধ্যে rumon himu নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানা আপত্তিকর কটুক্তি করা হয় এবং rana sadhu নামে অন্য একটি আইডি থেকে সাম্প্রদায়িক উষ্কানি ছড়ানো হয়। পরবর্তীতে এই দুই ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়। ছাত্রলীগ নেতা রাসেল রাসু বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার তদন্ত ওসি মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আইডি দুটির ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য মাঠ পর্যায়েও পুলিশ সক্রিয়। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত। অভিযুক্ত ভিক্ষু শরনাংক থের এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলে জানান রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি তদন্ত।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × one =