অবৈধ হাউজিং কোম্পানি স্বপ্নধরার প্রতারনার ফাঁদে ক্রেতারা

0
362

মো: আহসানউল্লাহ হাসান:
প্রতারনা এখন আমাদের দেশে এক শ্রেনীর শিক্ষিত মানুষের কাছে একটি পেশায় পরিনত হয়ে গেছে। ক্লিন সেভ, দামী স্যুট-টাই পড়ে গুলশান বনানী মতিঝিলে এসি ওয়ালা অফিস নিয়ে, ওসি ডিসি এমপি মন্ত্রীর পাশে দাড়িয়ে ছবি তুলে, সাহেদের মতো রাতের টকশোতে বড় বড় নীতি কথার ফুলজুড়ি ছড়িয়ে, সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়াই এসব প্রতারকের প্রধান কাজ। ধরা খাইলে এদেরকে বলা হয় প্রতারক জাদুকর সাহেদ আর ধরা না খাইলে এরা বিজনেসম্যান মাসুদ-অর-রশীদ। অনুমোদনহীন স্বপ্নধরা হাউজিং কেম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই মাসুদ-অর-রশীদ। দেখতে খুবই সুদর্শন তবে একজন ক্ল্যাসিক্যাল প্রতারক। অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে তাতে কোম্পানীর সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে মাসিক কিস্তিতে প্লট বুকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। কিস্তিতে প্লট বিক্রির এই ফাঁদে ফেলে আগামী ৩০ সালের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার মিশনে মাঠে নেমেছে অবৈধ হাউজিং কোম্পানী স্বপ্নধারা আবাসন। জমির শতাংশ প্রতি ২৯শ টাকা মাসিক কিস্তিতে প্লট বুকিং। টার্গেট বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা, মাসিক কিস্তিতে প্লট বুকিং দেয়া তাদের কাছে খুবই সহজ ব্যাপার, তারা কোন কিছু তেমনভাবে যাচাই বাছাই করে না। এজন্য চলছে টিভিতে, পত্রিকায় বাহারি বিজ্ঞাপণ আর সিঙ্গাপুর মালয়শিয়া দুবাই সহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন ভিআইপি স্থানে প্লট বুকিংয়ের আবাসন মেলা। তাছাড়া দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদর কাছে কিস্তিতে প্লট বিক্রয়ের জন্য কমিশন ভিত্তিক এজন্টেও রয়েছে তাদের। যদিও স্বপ্নধরা আবাসনের বৈধ কোন সরকারী অনুমোদন নেই। অন্যের জমিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে লে-আউট প্ল্যানের বিজ্ঞাপন প্রচার করে যাচ্ছে হরদম। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে গেলে নিদিষ্ট পরিমান জমি থাকতে হয়। একারনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে প্রতারনার ফাঁদ পেতেছে স্বপ্নধরা আবাসন।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগর ছনবাড়ী-ষোলঘর নামকস্থানে স্বপ্নধারা আবাসন কোম্পানী প্লট ব্যবসার নামে অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে চটকদার সাইনবোর্ড লাগিয়ে জনগনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হরদম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারনা। স্বপ্নধারা আবাসন কোম্পানী এযাবৎ নিজেদের কোম্পানীর নামে শ্রীনগর ভুমি অফিসের মৌজাধীন এলাকায় জমি কিনেছে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। অথচ লে-আউট প্ল্যানের বিজ্ঞাপনে প্রচার করা হচ্ছে কয়েক হাজার একর জমি। কিন্তু প্রতারক কোম্পানী প্রতিষ্ঠালগ্ন সময় হতে রাজধানী ঢাকা শহরের নামিদামী হোটেল ও ভিআইপি লাউঞ্জ ভাড়া নিয়ে জমকালো মেলার আয়োজন করে সহজ কিস্তিতে এপর্যন্ত ২ হাজারের উপরে প্লট বুকিং দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। আগামী ৩০ সালের মধ্যে আবাসন ব্যবসার লাইসেন্সবিহীন এই কোম্পানী ৫ লাখ প্লট বিক্রি করার টার্গেট নিয়ে মাঠে কাজ করছে। যার পুরো পরিকল্পনাটাই ঠকবাজি আর প্রতারনায় ভরপুর। কারন এই মুহুর্তে স্বপ্নধরা সহজ কিস্তির মাধ্যমে গ্রাহকে কাছে প্লট বুকিং দিয়ে যেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সেই টাকা বা প্লট অদুর ভবিষ্যতে কখনোই গ্রাহক ফেরত পাবেনা বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। আর আসল ঘটনা হলো এই মুহুর্তে যারা স্বপ্নধরার নিকট জমি ভাড়া দিয়েছে সাইনবোর্ড লাগানোর জন্য তাদের জমিও একদিন এই হায় হায় কোম্পানী গ্রাস করবে। যা ইতিপূর্বে দেশের নামিদামী আবাসন কোম্পানীগুলো জনগনের জমি জোড়পূর্বক দখল করে নিয়েছে।

জনগনের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঐ টাকা দিয়ে আবার জনগনের উপরই নির্যাতন করার বহু রেকর্ড ভুমিদস্যু কোম্পানীগুলো বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। জনগনকে নিঃস্ব করার এক ডিজিটাল ফাঁদ হচ্ছে স্বপ্নধরা আবাসন কোম্পানী। এই কোম্পানীর চেয়ারম্যান, এমডি সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশের বড় বড় দুর্নীতিবাজ গডফাদারদের নিকট আত্মীয়। তাদের ক্ষমতার জোড় অনেক উপরে। তাদের অন্যায়ে প্রতিবাদ করে কেউ সুবিধা করতে পারেনা। তারা একবার টাকা হাতিয়ে নিজেদের পকেটে নিতে পারলে ঐ টাকা আর কখনোই কেউ ফেরত আনতে পারবে না। কারন তারা খুব সুক্ষ্ণ কৌশলে জনগনের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্বপ্নধরা প্লট বুকিংয়ের মাধ্যমে জনগনের নিকট থেকে যেই টাকাটা নিচ্ছে তার বিপরীতে জনগনকে দিচ্ছে কোম্পানীর নামের উপরে একটুকরো রশিদ ভাউচার। আর এই ভাউচার হবে ঐ সমস্ত জনগনের গলার তাবিজ মাত্র।

কোম্পানী টাকা বা জমি বুঝিয়ে না দিলে এই তাবিজ ব্যবহার করে জনগন হাজার বছরেও তার সমস্যার সমাধান পাবে না। কারন ডেসটিনিতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এমন তাবিজ অন্তত ২০ লাখ গ্রাহক পেয়েছে। ডেসটিনির তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে ২০ লাখ গ্রাহক শুকিয়ে শুটকি মাছ হলেও ডেসটিনির কর্মকর্তারা কিন্তু খুবই আরাম আয়েশে দিন পার করছে। এদের নামে মামলা হয়েছে ঠিকই তবে এরা জনগনের থেকে হাতিয়ে নেয়া ঐ টাকা খরচ করে জামিনে বেরিয়ে এসে এখন আছে মহা সুখে। স্বপ্নধরাও ঠিক একইভাবে জনগনকে নিঃস্ব বানাবে এতে কোন সন্দেহ নেই বলে জানিয়েছে স্বপ্নধরায় কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, পত্রপত্রিকায় বা টিভি চ্যানেলগুলোতে স্বপ্নধরা আবাসনের চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে যারা তাদের তিল তিল করে জমানো টাকা স্বপ্নধরা হাতে তুলে দিচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের চোখে কান্না করার মতো পানিটুকু থাকবেনা। তাই সচেতন মহলের হুশিয়ারী-স্বপ্নধরার প্রতারনা থেকে সাবধান। চলবে……।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × three =