রিজেন্ট শাহেদের বহুমুখী প্রতারনার নেপথ্যে… করোনা মহামারীর প্রতারক শাহেদের বিচার হবে কি?

0
204

টিভি টকশোর বুদ্ধিজীবি প্রতারক সাহেদের প্রতারনা ফাঁস, ৫শ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী টকশোর বুদ্ধিজীবি সাহেদ ৩২ মামলার আসামী, ৩২ মামলার আসামী মোহনা টিভি টকশোর উপস্থাপক শাহেদ করিমের তেলেসমাতি, টকশোর বুদ্ধিজীবী শাহেদ করিমের লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাসপাতাল রোগী জিম্মি করে অতিরিক্ত বিল আদায়, রোগী হত্যার কসাইখানা টকশোর বুদ্ধিজীবি প্রতারক সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতাল : হত্যা মামলা ধামাচাপা এমন অসংখ্য শিরোনামে বহুমুখী প্রতারক সাহেদের নামে ২০১৮ সালের প্রথম দিক থেকে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ আসছে সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা।

মো: আহসানউল্লাহ হাসান: টিভি টকশোর বুদ্ধিজীবি প্রতারক সাহেদের প্রতারনা ফাঁস, ৫শ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী টকশোর বুদ্ধিজীবি সাহেদ ৩২ মামলার আসামী, ৩২ মামলার আসামী মোহনা টিভি টকশোর উপস্থাপক শাহেদ করিমের তেলেসমাতি, টকশোর বুদ্ধিজীবী শাহেদ করিমের লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাসপাতাল রোগী জিম্মি করে অতিরিক্ত বিল আদায়, রোগী হত্যার কসাইখানা টকশোর বুদ্ধিজীবি প্রতারক সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতাল : হত্যা মামলা ধামাচাপা এমন অসংখ্য শিরোনামে বহুমুখী প্রতারক সাহেদের নামে ২০১৮ সালের প্রথম দিক থেকে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ আসছে সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করলে করোনাভাইরাসের এই মহামারীতে চিকিৎসার নামে সাধারন জনগনের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পেতো না এই প্রতারক সাহেদ। সাতক্ষিরার এক সামান্য পরিবারের সন্তান সাহেদ আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা কৌশলে প্রতারনা করে এখন সে কোটিকোটি টাকার মালিক। লোকে বলে টাকা হলে বাঘরে চোখ মিলে-সাহেদের বেলায়ও ঘটেছে তাই। সাহেদ তার অপকর্মের ফাঁদ টিকিয়ে রাখতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে। এমনটাই মনে করছে সচেতন ব্যক্তিবর্গ। সাহেদকে যারা আশ্রয় প্রশয় দিয়েছে তাদের ব্যাপারেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। সাহেদের লাইসেন্স বিহীন রিজেন্ট হাসপাতাল কিভাবে করোনভাইরাসের আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করার অনুমোদন পেলো, ৩২ মামলার আসামী হয়েও কিভাবে সে বিচারের বাইরে থাকে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তার গাড়ী বহর কিভাবে রাস্তায় চলাচল করে, আয়করে সম্পদের তথ্য গোপন, বিভিন্ন মন্ত্রী এমপি-ভিআইপি লোকজনের সাথে সেলফি তুলে গনমাধ্যমে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করা সহ আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন নেতা হওয়ার বিষয়গুলো সম্প্রতি টিভি টকশোতে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে।

সম্প্রতি করোনা মহামারীতে অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ র‌্যাবের অভিযানে প্রমাণিত হওয়ায় সাহেদ সহ ১৭ জনের নামে মামলা ও রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাকে সিলগালা করা হয়। আর এতেই বেরিয়ে আসে সাহেদের নানা মুখী প্রতারনার ঘটনা। তবে করোনা টেষ্ট রিপোর্ট নিয়ে ভয়াবহ প্রতারনার ঘটনাটি বাদ দিয়ে সাহেদের প্রতিটি প্রতারনার ঘটনাই অপরাধ বিচিত্রা গত দুই বছর যাবৎ ধারাবাহিক ভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আছে। আর এসব সংবাদের কারনে সাহেদ ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন থানায় অপরাধ বিচিত্রার কর্তৃপক্ষের নামে ৪ টি মামলা করে।

২১ জানুয়ারী-২০১৯ নারায়নগঞ্জ সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে। যদিও পুলিশ তদন্তে ঐ মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। তবে এবার কিন্তু সাহেদ নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। ছন্মবেশে ৭ দিন পালিয়ে থেকে দেশ ছেড়ে পালানোর পথে সাতক্ষীরা সিমান্ত এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন আছেন কারাগারে। পাঠকের অনুরোধে এই ডিজিটাল প্রতারক সাহেদের প্রতারনার ঘটনা গুলো আবারো সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রকাশ করা হলো।

“টিভি টকশোর বুদ্ধিজীবি প্রতারক সাহেদের প্রতারনা ফাঁস” অপরাধ বিচিত্রায় প্রকাশিত প্রথম প্রতিবেদন:

প্রতারনায় শীর্ষে ডিজিটাল প্রতারক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত টিভি টকশোর বুদ্ধিজীবি সাহেদ প্রতারনার দায়ে ডজন ডজন মামলা আসামী। সামান্য গরিব ঘরে সন্তান সাহেদ ১২শ টাকা দিয়ে বউকে শাড়ি কিনে দিতে পারেননি বলেও তার শশুড়বাড়ীতে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। অথচ নানা কৌশলে প্রতারনা করে মানুষের নিকট থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ঢাকার উত্তরা এলাকায় গড়ে তোলেন বিলাশবহুল জীবন। কালো টাকা খরচ করে মধ্যরাতে টিভি টকশোতে এসে জামাত-বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে হয়ে উঠেছেন পদবী ছাড়া আওয়ামীলীগ নেতা।

তবে আওয়ামীলীগের সুনামকে নিজের প্রতারনা জগতে সাইনবোর্ড বানিয়ে সাধারন জনগনের কাছে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে বীর দর্পে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারনা। সাহেদ প্রতারনার প্রথম দিকে সাধারন অল্প আয়ের মানুষ ধোকা দিলেও পরবর্তীতে তার টার্গেটে পরিনত হয় ভিআইপি লেভেলের লোকজন। বাজেট শত কোটি টাকা। শিল্পপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন  লেভেলের লোকজনকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে সাহেদ হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

রিজেন্ট গ্রুপে ব্যবসায়িক পার্টনারশিপ দেওয়ার কথা বলে জনৈক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে  হাতিয়ে নেন কোটি টাকা এবং ঐ ব্যক্তিকে রিজেন্ট গ্রুপের অফিসে একটি ভিআইপি রুমে আটক ভিআইপি রমনীর সাথে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারন করে রেখে দেন।  যাতে ঐ ব্যক্তি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে না পারে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা পরবর্তীতে প্রতিবাদ করতে পারে এমন শংকায় সাহেদ পরিকল্পনার শুরুতেই রূপসী মেয়ে মানুষ দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে অশ্লীল কার্যকলাপের ফাঁদে বন্দি করে বলে জানায় একাধিক সুত্র।

একটা প্রবাদ বাক্য আছে-ষাট বছরের বৃদ্ধা ১৬ বছরের যুবতী দেখলে শিস বাজায়, আর এটা যদি কেউ তার নিজের আওতায় পেয়ে যায় তাহলে সে কি করবে তা সবারই জানা। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই মানুষকে প্রতারনার ফাঁদে বন্দি করে সাহেদ। সাহেদ টিভি টকশোর বুদ্ধিজীবি। তার সাথে রাষ্ট্রপ্রতি, প্রধানমন্ত্রী, থেকে শুরু করে আইজিপি, র‌্যাবের প্রধান, সেনা প্রধান সহ মন্ত্রী এমপি ওসি ডিসিদের মতো হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিবর্গের গভীর সম্পর্ক ছিলো। তার সাথে সম্পর্ক রাখলে যে কোন লোকেই সুবিধা। তাই লোকজন বুঝতে না পেরে খুব সহজেই তার প্রতারনার জালে ধার পড়তো।

শুধু তাই নয়, সাহেদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও প্রতারনার ফাদেঁ ব্যবহার করেছেন। কারন সাহেদ প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাড়িয়ে ছবি তুলে এনে তার গনমাধ্যমে প্রচার করেছে। আর লোকজনকে বলে বেরিয়েছে- দেখুন আমার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত।

২০০৯ সালে প্রতারক সাহেদ ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক্সের নিকট থেকে ৩০ লাখ টাকা এসি ও এলসিডি ক্রয় করে ঐ কোম্পানীকে নগদ দেড় লাখ প্রদান সহ বাকী টাকার বিপরীতে তিনটি চেক প্রদান করে এসি ও এলসিডি বুঝে নেয়। অত:পর এসি ও এলসিডি গুলো অন্য আরেকটি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানীর নিকট কম দামে নগদ টাকায় বিক্রি করে দেয়। কিন্তু ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক্সে চেক তিনটি নির্ধারিত সমেয় ব্যাংকে জমা দিয়ে তা ডিজ অনার হয়। পরবর্তীতে ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক্স  সাহেদের নামে মামলা করেও বেশী এগুতে পারেনি।  

২০১১ সালে ধানমন্ডির ১৫ নং রোডে এমএলএম কো: বিডিএস ক্লিক ওয়ান এর ব্যবসা করে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে অন্তত  ৫শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই মো: সাহেদ করিম। আর এখানে তার নাম ছিল মেজর ইফতেখার করিম চৌধুরী। বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস এ চাকুরীর নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারনার কারনে উত্তরা থানায় ৮টি মামলা হয়।

উত্তরাস্থ ১১ নং সেক্টরের ১৭ নং রোডের ৩৮নং বাড়ীতে রিজেন্ট হাসপাতাল গড়ে তুলেন যার কোন বৈধ লাইসেন্স ছিলো না। হাসপাতাল চলার মত কোন ডাক্তার, নার্স ও গুণগতমানের মেশিনপত্রও না থাকায় এবং ৬০ টাকা ঔষধের বিল ৬ হাজার টাকা রাখার দায়ে দুইবার জরিমানা করা হয়েছিলো। তবুও দালালের মাধ্যমে টংগী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগী বাগিয়ে এনে তাদেরকে আটকিয়ে রেখে হাজার হাজার টাকা আদায় করতেন।

এছাড়া রিজেন্স কলেজ ও ইউনির্ভাসিটি, আর কেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটি এই সাইন বোর্ড দেখা যায়। যদিও এর একটিরও কোন লাইসেন্স নেই। আর সেই সোসাইটির ১২টি শাখা করে হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ভিজিটিং কার্ডে সে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান। কিছুদিন আগে সে অস্ত্রের লাইসেন্সও নিয়েছে।  ইনকামটেক্স  অফিসের ২ পরিদর্শক অভিযানে  লাখ লাখ টাকা দিয়ে তাদেরকে বিদায় করেন। তার মধ্যে একজন হল: মো: শাহজাহান। তার রয়েছে ৩টি গাড়ী। গাড়ীগুলোর বৈধ কাগজপত্রও নেই। কিন্তু ওকিটকি আর অস্ত্রসহ ৩ জন বডিগার্ড ব্যবহার করেন।

পুলিশ তাকে দেখেও না দেখার ভান করে। পুলিশের হুইল বাজিয়ে তার গাড়ী রাস্তায় চলে। আর তার অফিসে লাটিসোটা রাখা হয়। এমনিক তার অফিসের ভেতরে একটি র্টচার সেলও রয়েছে। তার অফিসে সুন্দরী মেয়েদের রাখা হয়। এদের মধ্যে পরিচালক অর্থ-মারজিয়া সুলতানা অন্যতম। তার বাসা রামপুরার বনশ্রীতে। অন্যদিকে সাহেদ মার্কেন্টাইল কো: অপারেটিভ ব্যাংক বিমানবন্দর শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ৬ কোটি টাকা ঋণ নেয়। সেখানে সে নিজেকে কর্নেল (অব.) পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র দাখিল করে। সে ব্যপারে আদালতে ২টি মামলা চলমান আছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক হল ক্যাপ্টেন আবু জাফর চৌধুরী। তার প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট কেসিএস লি: এর নামে ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় একাউন্ট নং-০৮৩২১০১০০০০১০০০৩, ও ০৮৩১১০১০০০০০০৬১৬।

বর্তমানে তার কর্মসংস্থান সোসাইটি কেকেএসের নামে প্রতিষ্ঠান-বাড়ী-১৬ রোড-১৭ সেক্টর-১১ উত্তরা। সে বর্তমানে শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামীলীগ মধ্যরাতে টিভিতে টকশোতে এমন নিতিবাক্য বলে যা দেখে হাসি পায়, নিজে চোর আর অন্যকে বলে তুই চোর। অবাক লাগে ডজন ডজন মামলার আসামী নাম পাল্টিয়ে টকশোতে আসে আর শ্যামল দত্ত সহ অনেকের উপস্থাপনায় অন্যদৃষ্টি অনুষ্ঠান সহ টকশোতে দেশবাসীকে উপদেশ দেয়। সাধারন মানুষ বলেন, প্রতারক, বাটপার বহু মামলার আসামী হলেও তার কিছু যায় আসে না। টাকা দিলেই টকশোতে এসে নীতিবাক্য বলা যায়।

প্রভাব খাটিয়ে স্কুলছাত্রী লিম্ফা হত্যা মামলা থেকে নিজেকে আড়াল করে সাহেদ:

রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখায় হাতের চিকিৎসা করাতে এসে লাশ হয়ে বাড়ী ফিরে মিরপুরের নাহার একাডেমির অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস লিম্ফা (১৬)। মিরপুর পল্লবীর ১২ নাম্বার সেকশনের ডি-ব্লকের বেগুণটিলা বস্তির সাহাবুদ্দিনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া লিম্ফার বাবা জয়নাল শেখ লিটন বাদী হয়ে পল্লবী থানা ঐ হাসপাতালের ৪ ভুয়া ডাক্তারকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পল্লবী থানায় মামলা নং-৩৮ (২) ১৭। আসামীরা হলেন, ভুয়া ডাক্তার ফারুক হোসেন (৪২), সাইফুল ইসলাম সজীব (২২), নাসির উদ্দিন সিকদার (৪০) ও ব্যবস্থাপক মেজবাহুল আলম মিল্টন (৪০)। তবে বাদীকে কৌশলে হুমকি ধমকি দিয়ে হাসপাতালে চেয়ারম্যান সাহেদ নিজেকে মামলার আসামীর তালিকা থেকে সরিয়ে রাখে।

মামলার গুরুত্বপূর্ন দুই আসামী ভুয়া ডাক্তার নাসির উদ্দিন ও ব্যবস্থাপক মেজবাহুল আলম মিল্টনকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ফারুক হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সজীবকে অপরাধী সাবস্ত্য করে আদালতে ৩৩১ নং অভিযোগ পত্র পেশ করেন সিআইডি কর্মকর্তা এ.জেড.এম. তৈমুর রহমান। কিন্তু মামলার বাদী নারাজী দিয়ে পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানালে আদালত তা আমলে নিয়ে মামলাটি পুর্ন তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক কবির হোসেনকে দায়িত্ব দেন।

অত:পর পিবিআইয়ের এসআই কবির হোসেন তদন্ত শেষে মামলার এজাহারনামীয় আসামী ১নং ফারুক হোসেন (ভুয়া ডাক্তার) এর বিরুদ্ধে ডাক্তার না হইয়াও ভুয়া ডাক্তার সাজিয়া ঘটনা দিন ও সময়ে বাদীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস লিম্ফাকে অপারেশনের নামে তাহাকে খুন করায় তথা পেনাল কোডের ৪১৯/৩০২ ধারায় অপরাধে, ২নং আসামী সাবেক ডক্টর এটনডেন্ট সাইফুল ইসলাম সজীব, ৩নং আসামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মেজবাহুল আলম মিল্টন ও ৪নং আসামী অর্থোপেডিক্স কনসালটেন্ট নাসির উদ্দিন সিকদার এর বিরুদ্ধে উপরোক্ত অপরাধে সহায়তা করায় তথা পেনাল কোডের ৪১৯/৩০২/১০৯ ধারায় গত ২১ জুলাই-২০১৮ ইং তারিখে ৪৩৫ নং অভিযোগ পত্রে  আদালতে রিপোর্ট দাখিল করেন।

তবে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান টিভি টকশোর বুদ্ধিজীবী প্রতারক সাহেদ নিজের প্রতিষ্ঠানে ভুয়া ডাক্তার নিয়োগের দায়ে কেন মামলার আসামী হবে না সেই প্রশ্নের উত্তরটাই রয়ে যায় অন্তরালে।

ইয়াবার গডফাদারকে ছাড়াতে

সাহেদের তদ্ববির:

২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ডিবি পুলিশের হাতে কক্সবাজারে গ্রেপ্তার হওয়া উত্তরার মাদক সম্রাট সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান মাসুমকে জামিনে মুক্ত করার জন্য তার পরিবারের নিকট থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ছিলো টিভি টকশোর কথিত বুদ্ধিজীবী ডিজিটাল প্রতারক সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছে না আর জামিনও করিয়ে দিতে পারছে না। এই নিয়ে দিনের পর দিন প্রতারক সাহেদের পেছনে ধর্না ধরছে মাসুমের স্ত্রী সুইটি রহমান। জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা এলাকার দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল পত্রিকার সম্পাদক মোখেলেসুর রহমান মাসুম ১৬ আগস্ট ২০১৭ সালে তার পত্রিকার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, কক্সবাজার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও গাড়ি চালক মো: মানিক নিয়ে ৪০ হাজার পিস ইয়াবার আনার জন্য কক্সবাজারের টেকনাফ যান।

পরিকল্পনা মাফিক টেকনাফ থেকে তাদের নিজস্ব প্রাইভেটকারে করে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে ঢাকা আসার পথে কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ রোডের ইনানী পৌছালে ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে। এসময় তাদের গাড়ি তল্লাশী করে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার সহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরন করে কক্সবাজারের গোয়েন্দা পুলিশ।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সাথে রিজেন্ট কেসিএস

এর প্রতারনা:

২২ নভেম্বর-২০১৭ সালে বিডি-প্রতিদিন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত “স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ে নিয়োগ” সংবলিত বিজ্ঞাপনটি দেখে অন্তত অর্ধ লক্ষ্য চাকুরী প্রত্যাশী আবেদন করে ছিলো প্রতারক সাহেদের রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের কার্যালয়ে। যাদের প্রতিজনের নিকট থেকে জামানত বাবদ নুন্যতম ১০ হাজার বা তার অধিক টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিলো সম্পূর্ন ভুয়া।

জানা গেছে, বিজ্ঞাপনে রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডকে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে আইটি অফিসার সহ কিছু পদের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হবে বলে প্রকাশ করা হয়ে ছিলো। জেলা সমন্বয়কারী, উপজেলা সমন্বয়কারী, কর অফিসার, সহকারী কর অফিসার, আইটি অফিসার ও রিসিপসনিস্ট পদে আবেদন করা হয়। যোগাযোগের ঠিকানা : প্রকল্প পরিচালক, রিজেন্ট কেসিএস লি:, বাসা-৩৩, রোড-১৪, সেক্টর-১১, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেড নামে কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নেই। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ হলে তা মন্ত্রনালয়ের ঠিকানাতেই প্রার্থীর আবেদন গ্রহন করা হবে, এর বাইরে যাওয়ার কোন নিয়ম নেই। অথচ প্রতারক সাহেদ এমন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়কেই প্রতারনার ফাঁদ বানিয়ে ছিলো। 

করোনা টেষ্ট রিপোর্ট নিয়ে সাহেদের ভয়াবহ প্রতারনা:

২১ জুন করোনায় আক্রান্ত ৫৭ বছর বয়সী মা সেলিনা বেগমকে মিরপুর শাখায় ভর্তি করেন গণমাধ্যমকর্মী মো: আলী আশরাফ উদ্দিন। চিকিৎসা বাবদ শুরুতে তার বিল করা হয় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯০০ টাকা। পরে কলম দিয়ে কেটে তা করা হয় ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ টাকা। এরপর ওই গণমাধ্যমকর্মী নিজের পরিচয় দিলে টাকা আরও কমানো হয়। এবিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাসপাতালটিতে অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, আমরা যতটুকু প্রমাণ পেয়েছি-মোট ১০ হাজার জনের নমুনা তারা সংগ্রহ করেছে। সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে তারা আইইডিসিআর, আইটিএইচ ও নিপসম থেকে ৪ হাজার ২০০ রোগীর বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে এনেছে। তার মানে বাকি প্রায় ছয় হাজার নমুনা যেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলোর কোনো টেস্ট করা হয়নি। স্যাম্পলগুলো এনে ফেলে দেয়া হয়েছে।

কম্পিউটারে রিপোর্ট প্রিন্ট করে মনগড়া পজিটিভ-নেগেটিভ রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী টেস্ট বাবদ কোনো টাকা না নেয়ার কথা থাকলেও তারা প্রতিটি টেস্ট বাবদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছে। এরুপ ৪ হাজার ২০০ রোগীর তালিকা আমরা পেয়েছি। তাতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালটি তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর বাইরেই প্রায় তিন গুণ রোগীর স্যাম্পল কালেক্ট করা হয়েছে।

যেগুলোর কোনো টেস্টই হয়নি। সব মিলিয়ে তিন কোটির বেশি টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি রোগীদের থেকে অবস্থা বুঝে ২ লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার ভুতুড়ে বিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। যেখানে অবৈধভাবে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদফরের স্টিকার লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেয়ার জন্যই এই অপকৌশল করা হয়েছে।

প্রতারনার গডফাদার সাংবাদিক সাহেদ গ্রেপ্তার:

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান, দৈনিক নতুন কাগজ পত্রিকার সম্পাদক, আওয়ামীলীগ নেতা সাহেদ করিম ওরফে মো: সাহেদকে গ্রেপ্তার করেন র‌্যাব। ১৫ জুলাই বুধবার ভোর রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা এবং বাড়িতে থাকা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে ৬ জুলাই র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম প্রথমে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়।

সেখান থেকে ৮ জনকে আটকের পর র‌্যাবের দলটি মিরপুরে রিজেন্টের অন্য শাখায় অভিযান পরিচালনা করে। পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে সাহেদ করিমকে এক নম্বর আসামি করে ১৭ জনের নামে মামলা করা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিলেন।

রিজভীর প্রশ্ন-সাহেদ গ্রেপ্তার কমেডি, নাকি ট্র্যাজেডি:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘তারা ছাত্রদল নেতা টিটো হায়দারকে খুঁজে পায়, আকরামুল হাসানকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। অথচ এত দিন ধরেও সাহেদকে খুঁজে পায়নি। সে নাকি পালানোর সময় সাতক্ষীরার কোনো অঞ্চল থেকে ধরা পড়েছে। এটি কমেডি, নাকি ট্র্যাজেডি? নাটক রচনা করতে পারে আওয়ামী লীগের এই প্রশাসন। আর মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তা বলানোর চেষ্টা করে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রতিষেধক ওষুধ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিজভী এসব কথা বলেন। হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এইচ ড্যাব) উদ্যোগে এই ক্যাম্প থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিতরণ করা হয়। রিজভী বলেন, ‘সাহেদ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য। সে আওয়ামী লীগের টক শো করে। এই সরকারের সময়ে এত লুটপাট আর বাটপারি করে টাকা কামিয়ে সে হয়ে গেল হাওয়া ভবনের লোক! সুধা ভবনের লোক খেয়ে-পরে হাওয়া ভবনের লোক হয়ে যায়। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের দিন।’

আ. লীগের নাম ভাঙিয়ে কাউকে ভাগ্য বদলাতে দেওয়া যাবে না : কাদের:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন। জনগণের বুকের গভীরে রয়েছে এর শেকড়। এই দলে এসে দলের নাম ভাঙিয়ে ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাউকে ভাগ্য বদলাতে দেওয়া যাবে না। দলের দু:সময়ের পরীক্ষিত কর্মীদের পেছনে রেখে আওয়ামী লীগে আশ্রয় নেওয়া লোভী ও ষড়যন্ত্রকারীদের দলে আর কোনো সুযোগ নেই। দলের ভেতরে বর্ণচোরা সেজে যারা অর্থ সম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা করে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবে-তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

এমন অমানুষকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: আইনমন্ত্রী:

রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদ একজন জঘন্য আর অমানুষ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এমন অমানুষকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

করোনা শনাক্তকরণের সার্টিফিকেট নিয়ে স্মরণকালের প্রতারণা করেছে সাহেদ করিমের রিজেন্ট হাসপাতাল। তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারিতে মানুষ মানবিক হচ্ছে। একে অপরের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ এমন বিপদকালে সর্বোচ্চ প্রতারণা করেছে। এটি জঘন্য, এটি অমানুষের কাজ। এই অপরাধকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাকে বিচারের বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।’

টেস্ট না করেই করোনার ভুয়া সনদ দিতো রিজেন্ট হাসপাতাল: ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়রার আলম:

রিজেন্ট হাসপাতাল টেস্ট না করেই কোভিড-১৯ ‘পজিটিভ’ ও ‘নেগেটিভ’ সনদ দিতেন উল্লেখ র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘২০১৪ সালে হাসপাতালটির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবুও তারা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে কিভাবে সনদ নিয়েছে, যা বোধগম্য নয়, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’ ‘সরকারিভাবে যে টেস্টগুলো ফ্রি করার কথা সেই টেস্টের জন্য রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নিচ্ছে। সবচেয়ে জঘন্য যে কাজ করেছে সেটা হলো, টেস্ট না করে রিপোর্ট দেওয়া এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সিল ও প্যাড ব্যবহার করতো।

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট বা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোস্যাল মেডিসিনসহ (নিপসম) যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্যাড ও সিল তারা ব্যবহার করেছে ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে সিল বা প্যাডগুলো তাদের নয়। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা চিকিৎসার নামে সরকারের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে আবার রোগীদের কাছ থেকেও মোটা অংকের বিল নিচ্ছে। হাসপাতাল থেকে বিপুল পরিমাণ করোনার ভুয়া সনদ জব্দ করা হয়েছে।

প্রতারনার শিকার রিজেন্ট হাসপাতাল ভবনের মালিক ফিরোজ আলমের বক্তব্য:

‘ভবনটা ভাড়া দিয়ে আমি বিপদে পড়ে গেছি। ভবনটিই আমার আয়ের একমাত্র উৎস। অথচ তিনি (সাহেদ) ঠিকভাবে ভাড়া দেন না। আবার ভাড়া চাইলে হুমকিও দেন। কয়েকবার ভাড়া বাবদ চেক দিলেও তা ব্যাংকে ডিজঅনার হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে জানুয়ারি মাসের তারিখে তিনি ১০ লাখ টাকার চেক দেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকের সেই চেকও ডিজঅনার হয়। এসব ঘটনায় আমি দু’দফা জিডি করেছি। এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চে তাকে লিগ্যাল নোটিশও দেয়া হয়েছে।’

করোনায় আক্রান্ত বাবাকে নিজের হাসপাতালে ভর্তি করেনি প্রতারক সাহেদ:

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো: সাহেদের বাবা সিরাজুল ইসলাম। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (সাবেক আয়েশা মেমোরিয়াল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, সিরাজুল ইসলাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তার নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতা ছিল। তবে নিজের প্রতিষ্ঠিত রিজেন্ট হাসপাতালে তার বাবাকে হাসপাতালেও  ভর্তি করাননি প্রতারক সাহেদ।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × three =