ডোপ টেস্টে পুলিশের মাদকাসক্তি সনাক্ত

0
219

পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। হত্যা, ধর্ষন, চাঁদাবাজি, পুলিশ হেফাজতে আসামি নির্যাতন, নিরপরাধ লোককে থানায় ধরে নিয়ে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, পকেটে মাদক দিয়ে ধরে নেওয়া ইত্যাদি বহুবিধ অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে আস্থা হারাচ্ছে পুলিশ। অপরাধ দমন ও জনগনের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ যদি নিজেই অপরাধে জড়িয়ে পরে তবে এ বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা কতটুকু থাকতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। অভিযোগ রয়েছে কোন অপরাধ সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করলে বা পুলিশের কাছে ফঁড়িয়াদ করলে পুলিশই ফঁড়িয়াদির কাছে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একারণে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সহজে পুলিশের কাছে যেতে চায় না। হত্যা ও ধর্ষনের মত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিস্তর প্রমাণ থাকা সত্বেও থানায় মামলা না নিয়ে ভুক্তভোগীকে হয়রানি করা হয় এমন অভিযোগের অভাব নেই। থানায় একটি জিডি করতে গেলে জিডির আবেদনকারী বুঝতে পারেন পুলিশের হয়রানির কত রুপ। কথায় বলে, “বাঘে ধরলে দশ ঘাঁ পুলিশে ধরলে আঠারো ঘাঁ”।

গুরুতর অপরাধে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারনত যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা হচ্ছে অপরাধী পুলিশকে ক্লোজ করা। এরপর এক সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অপরাধী পুলিশ আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাছাড়া রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে বর্তমানে পুলিশরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতদিন শোনা গেছে পুলিশ মাদক দিয়ে সাধারণ লোককে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

এখন শোনা যাচ্ছে পুলিশ নিজেরাই মাদকের সাথে জড়িত। অর্থাৎ পুলিশরা মাদক সেবন করছে। সম্প্রতি পুলিশের ডোপ টেস্টে এমনই চিত্র উঠে এসেছে। গণমাধ্যমে এই নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ডোপ টেস্টে মাদকাসক্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের উর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে এসব মাদকাসক্ত পুলিশরা চাকুরি হারাবে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে মাদকের ব্যপকতা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যেখানে পুলিশের জিরো টলারেন্স থাকার কথা সেখানে পুলিশরাই মাদক সেবন করছে।

জাতীর জন্য এটা অবশ্যই দূর্ভাগ্য। পুলিশরা মাদক আটক করার পর আটককৃত মাদকের পুরোটাই সিজার লিস্টে উল্লেখ না করে কিছু নিজেদের কাছে রেখে দেয় এবং রেখে দেওয়া মাদক দিয়ে ব্যবসা করে এমন অভিযোগ প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে।

থানাগুলোত মাদকের অভাব নেই। যে কোন লোককে যে কোন সময় থানায় নিয়ে মাদকের মামলায় জড়িয়ে দিতে পুলিশের কোন বাধা নেই। মাদক নিয়ে খেলা করতে করতে পুলিশ নিজেই মাদকের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ নিজেরাই মাদক সেবন করছে ও ডোপ টেস্টে তা ধরা পড়ছে।

পুলিশের উর্ধ্বতন বিভাগ থেকে বার বার বলা হচ্ছে অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অথচ পুলিশের কতিপয় সদস্য মাদক নামক জিনিসটি সেবন করে গোটা বাহিনীকে কলঙ্কিত করছে।

এর প্রবণতা ক্রমশ: বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এখনই তা দমন করতে না পারলে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। দেশে মাদকের ব্যবহার অশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাবে।

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হবে। এমন পরিস্থিতিতে মাদকাসক্ত পুলিশ বাহিনীকে সামাল দেওয়ার জন্য আরেকটি বাহিনীর প্রয়োজন দেখা দিবে। কাজেই আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে। কারন “সময়ের এক প্রহর অসময়ের দশ প্রহর”।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 5 =