ধামরাইয়ে কুলির ছেলে পুলিশ কনেষ্টবল সুমন পাহাড় পরিমাণ সম্পদের মালিক

0
189

ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া গ্রামের কুলির ছেলে মোঃ সুমন চাকুরি করেন পুলিশের কনেষ্টবল পদে। তার পাহাড় পরিমান অবৈধ সম্পদের আয়ের উৎস্য কোথায় তা নিয়ে জনগণের পাশাপাশি খোদ পুলিশ প্রশাসনেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যমতে তার বিরুদ্ধে পুরিশের জনবল নিয়োগে ব্যাপক বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে তার পাহাড়সম এ অবৈধ সম্পদের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এসবি, ডিএসবি এবং পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ থেকে থানা পুলিশ এ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ অফিসের নির্দেশে ধামরাই থানার ওসি তদন্ত পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কামাল উদ্দিন প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে , ধামরাই উপজেলার সানোড়া গ্রামের দরিদ্র্র পরিবারে সন্তান কনেষ্টবল মোঃ সুমন হঠাৎ পাহাড় পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন জাগে রাতরাতি কিভাবে সে এত সমম্পদের মালিক হল। স্বয়ং একই প্রশ্ন খোদ পুলিশ প্রশানের। একজন কুলির পরিবারের ছেলে মোঃ সুমন ২০০৩ সালে পুলিশ কনেষ্টবলের চাকুরি পেয়ে রাতারাতি পাহাড় পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে বলে জানা গেছে।


নানা অনিয়ম,অসদুপায় অবলম্বন ও দুর্ণীতির ম্যাধমে এ পাহাড় পরিমাণ অবৈধ সম্পাদের মালিক হয়েছেন ওই কনস্টেবল সুমন। যাদের এক সময় দু’বেলা দু’মুঠো বাত জুটতা আজ তাদের সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠায় বিষয়টি সকলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। অভাবের সংসারে দু”মুটো ভাত যোগাতে সুমনের বাবাকে যোগাতে রিয়াজ উদ্দিনকে স্থানীয় কালামপুর হাটে করতে হতো কুলির কাজ । সেই কনেষ্টবল সুমন এখন শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


সুচতুর এই কনেষ্টবল সুমন তার অবৈধ সম্পদ জায়েজ করার জন্য,তার ভাই ,বোন , স্ত্রী ও ছেলে মেয়ের নামে লিখে দিয়েছেন। যাতে সে দুনির্তী দমন কমিশন ( দুদক ) কিংবা পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তা মারুম করতে না পারে কিংবা তাদের জ¦ালে আটকা না পড়ে । সুমনের ভাইয়েরা এখনও হাট বাজারে কুলির কাজ করে অবৈধ সম্পদ হালালের বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।
এরপরও জনগণের চোখ এড়াতে পারেনি কনস্টেবল সুমন। তার ভাইদের নামের সম্পদ যদি তাদেরই হবে তাহলে তারা কেন কুলির কাজ করছে। তাছাড়া এত সম্পদের মালিকই বা হল কি করে তা এখন রহস্যময় । সুমন এখন নিজেকে শিল্পপতি ও ভিভিআইপি ও সিআইপি দাবি করেন নিজেকে। সংঘত কারণেই এলাকাবাসীর প্রশ্ন হচ্ছে কনেষ্টবল সুমনের বেতন কত ? নাকি তিনি গল্পের আলাদ্বীনের চেরাগ পেয়েছেন। অবৈধ টাকার গরমে সুমনের কুলির কাজ করা সেই ভাইরা এখন এলকায় দাপট দেখাচ্ছে ।

এলাকাবাসী জানান,সম্ভবত পুলিশে জনবল নিয়োগেই তার বড় বাণিজ্য রয়েছে। কারণ প্রতি দিন তার বাড়িতে সকাল বিকাল তরুন তরুনীরা চাকরির কনস্টেবলের চাকুরি আশায় সানোড়া গ্রামে কনেষ্টবল সুমনের বাড়ীতে ভীর জমাচ্ছে । ১০/১২ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ কনেষ্টবলে চাকরি দিচ্ছে ওই কনস্টেবল সুমন সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান , বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই সুমনের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতি করে সে রাতরাতি পাহাড় পরিমান সম্পদের মালিক হয়ে যান।

দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক ) শুরু করার আগেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার ওসি তদন্ত পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন,কনস্টেবল সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। সে বর্তমানে সিলেটে কর্মরত রয়েছে। সে কিভাবে এত সম্পদের মালিক তা এখন বলা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তদন্তের স্বার্থে এখন এব্যাপারে কোন কিছুই বলা সমুচীন হবেনা। কাজেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 1 =