বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ফাঁদে আটকায় ইসলামি ব্যাংকের ম্যানেজার মনিরুজ্জামান

0
415

অপরাধ বিচিত্রা: ইসলামি ব্যাংকের রামপুরা শাখার সাবেক ম্যানেজার মনিরুজ্জামানের নারী কেলেংকারী ফাঁস হয়ে গেছে। কখনো প্রেমের ফাঁদে ফেলে, কখনো বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে, কখনো লংড্রাইভে নিয়ে, কখনো ট্যুরে গিয়ে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নারীকে নিয়ে শাররিক সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়াই তার নেশায় পরিনত হয়ে গেছে। এটাকে অনেকেই তার মানসিক রোগ বলে প্রকাশ করে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তিনটি বিয়ে সহ অসংখ্য নারীর সাথে শাররিক সম্পর্ক গড়েছেন এমনটা শোনা যাচ্ছে ভুক্তভোগিদের মুখে। ব্যাংকের ম্যানেজার হওয়ায় খুব সহজেই এই সম্পর্কগুলো তিনি গড়ে তোলেন। কারন ব্যাংকে প্রতিনিয়তই কোন না কোন সুন্দরী নারী আসেন, যাদের বেশীর ভাগই থাকে প্রবাসীদের স্ত্রী বা কোন উচ্চ বিত্ত ঘরে উচ্চ বিলাশী নারী। এদের সাথে প্রথম পরিচয়েই মনিরুজ্জামান কথার ছলে তাদেরকে আপন করে নেন। মনোরম আপ্যায়ন দিয়ে বিনিময় করেন একে অপরের মোবাইল নাম্বার।

অতপর শুরু করেন ফোনালাপ, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসআপ, ইমুতে চ্যাটিং। এভাবেই তাদের মধ্যে সুখ দুখের বিষয়গুলো শেয়ার শেষে একপর্যায়ে লংড্রাইভে ঘুরতে বেরিয়ে চলে যান দেশের মনোরম পর্যটন রিসোর্ট গুলোতে। যেখানে রয়েছে শাররিক সম্পর্ক স্থাপনে নিরাপদ পরিবেশ। আর টাকা খরচ করলে অনেক কিছুই এখানে সম্ভব। তাই বেশীর ভাগ সময়েই মনিরুজ্জামান ঝামেলা মুক্তভাবে যৌন চাহিদা পুরন করেন। কিন্তু ওই নারীদের মধ্যে কেউ আবার তাকে স্থায়ীভাবে কাছ পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু কারোর মনের এমন স্বপ্ন যখন ভেঙ্গে দেন মনির, তখনই ঘটে নানা বিপত্তি। এমন নারীদের মধ্যে বিথা আক্তার (ছদ্মনাম) একজন অন্যতম। যার সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য তাকে বিয়ে করে তার সাথে ঘরসংসার পর্যন্ত করেন মনিরজ্জামান। হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা।


ভুক্তভোগি বিথী আক্তার জানায়, সে একজন সিঙ্গাপুর প্রবাসী সিটিজেন নাগরিক। সে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে বেড়াতে এসে রাজধানীর মিরপুরে বাসাতে উঠেন। কয়েকদিন পরে একটি গুরুত্বপূর্ন কাজে ইসলামি ব্যাংকের মিরপুর-১ শাখায় যান। এসময় শাখা ম্যানেজার মনিরুজ্জামানের সাথে তার পরিচয় হয়। ঐদিনের পরিচয়ের সুত্রে ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বিথীর সাথে পর্যায় ক্রমে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাকে নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন দেখেন। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের একমাস পরে বিথী জানতে পারেন মনিরুজ্জামানের আরো একটি সংসার রয়েছে। এতে সে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তার পরেও সব কিছু মেনে নিয়ে বিথী তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। কিন্তু মনিরুজ্জামান তার উপর শাররিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করেন।

এতে তিক্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে চলে যান। সেখানে গিয়েও রক্ষা হয় না। প্রায় সময়ই ফোনে গালাগালি ও আজে বাজে ম্যাসেজ দিতে থাকেন। এতে করে বিথী মনিরের অতীতের সব ঘটনাই জানতে পারেন। মনিরুজামান কলেজে পড়ার সময়ে গ্রামের বাড়ীতে একটি বিয়ে করেছিলেন। তবে এরই মাঝে মনিরুজ্জামান ৪ ধাপে সিঙ্গাপুরে এসে বিভিন্ন অজু হাতে বিথীর নিকট থেকে ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু একপর্যায়ে বিথী এমন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে গেলে ঘটে আরেক বিপত্তি। বিথী জানতে পারে তাদের বিবাহের রেজিষ্ট্রিশনে তথ্য গোপন করেছে মনিরুজ্জামান। উভয়ে মুসলিম হওয়া পরেও মনিরুজ্জামান উকিলকে ঘুষ দিয়ে উক্ত বিবাহটি বিশেষ বিবাহ আইনে রেজিষ্ট্রিশন করিয়ে ছিলেন। যা নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছে বিথা আক্তার।


বিবাহের রেজিষ্ট্রিশনে দেখা গেছে, রাজধানীর হাতিরপুল মোতালেব প্লাজায় এডভোকেট বরুন কুমার বিশ্বাসের অফিসে ২৯ জানুয়ারী-২০১৯ তারিখে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বিথী আক্তার ও ইসলামি ব্যাংকের রামপুরা শাখার ম্যানেজার মনিরুজ্জামানের বিবাহবন্ধন নোটারী মুলে রেজিষ্ট্রিশন করেন। বিবাহ রেজিষ্ট্রেশনের সময় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য বর-কনেকে তাদের জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র সহ অন্যান্য কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হয়। এসব কাগজপত্রের তথ্যানুসারে নাম, ঠিকানা, জাতীয়তা, জন্মতারিখ, বয়স, ধর্ম সহ আনুসাঙ্গিক বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতে হয়। বিথী আক্তার ও মনিরুজ্জামান মুসলিম হওয়া সত্তে¡ও এডভোকেট বরুন কুমার বিশ্বাস তাদের বিবাহটি বিশেষ বিবাহ আইনে রেজিষ্ট্রিশন করেন। তবে দুজনেরই ধর্মের বিষয়টি উল্লেখ না করিয়া তথ্য গোপন রাখেন।

আর একারনে বিথী আক্তার এখন মনিরুজ্জামানের দ্বারা প্রতারিত হয়ে এই বিবাহ রেজিষ্ট্রিশন কাগজ বলে কোন সুবিচার পাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ন তথ্য গোপন রাখার কারনে বিবাহ রেজিষ্ট্রিশন পত্রটি বিথী আক্তারের জন্য কোন কাজেই লাগছে না।
বিথী আক্তার বলেন, বিবাহের সময় আমার নিকট থেকে শুধু স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। বিশেষ বিবাহ আইনে রেজিষ্ট্রিশন হবে এটা তখন বা কখনোই আমাকে জানতে দেয়া হয়নি। এড: বরুন কুমার ও মনিরুজ্জামান যোগসাজসে আমার সাথে এমন প্রতারনার করেছে।


এডভোকেট বরুন কুমার বিশ্বাস বলেন, কিছু জানতে চাইলে মনিরুজ্জামানকে জিজ্ঞেস করুন, আমিও দুই তিনটা পত্রিকার সাংবাদিক। সঠিক নিয়ম মেনেই কাজটি করেছি। আপনে আমার অফিসে আসবেন, চায়ের দাওয়া রইলো।
এব্যাপারে মনিরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে, তিনি কোন কথা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 5 =