দুর্নীতির পুরস্কার পুণ: বহাল জনতার এমডি আবদুস সালাম আজাদ

0
221

মো: আবদুল আলীম: প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার জনতা ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ হয়েছে। কর্মকর্তা ও বিতর্কিত গ্রাহকের যোগসাজসেই এটি সম্ভব হয়েছে। হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, ক্রিসেন্ট এবং এনন টেক্স গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংকের এই বৃহৎ টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে ভুয়া আমদানী ও রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করে এই টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে এই টাকা আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে খুব কমই। এনন টেক্স গ্রুপের অনুকুলে ৩৮০ মিলিয়ন ডলার ঋন সুবিধা দিয়েছে জনতা ব্যাংক লি:। বর্তমানে এই ঋন সুদে আসলে ৬০০ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত গ্রুপের ২২ টি কোম্পানিকে ঋন বিতরণ করা হয়। ঋন অনিয়ম গোপন রাখার জন্য এমডি আবদুস সালাম আজাদ কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক থাকা অবস্থায় উক্ত ঋন নিয়ম লঙ্ঘন করে পুণ:তপশিল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানি জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় বিশটি হিসাব খোলে। তড়িঘড়ি করে হিসাব খুলে প্রতিষ্টানগুলোর নামে ব্যাংক কর্তৃক যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋন অনুমোদনের পর মঞ্জুরির শর্ত পরিপালন না করেই টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টাকা ছাড় করতে সহায়তা করছেন তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক যিনি বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবদুস সালাম আজাদ। লোকাল অফিসেও ২ টি হিসাব খোলে।

এসব হিসাবে গত বছর পর্যন্ত ৫ হাজার কোটি টাকার ওপর ঋন স্থিতি ছিল। হিসাব খোলা থেকে শুরু করে ঋন অনুমোদন, বিতরণ, পরিবীক্ষণ এবং একাধিকবার পুন: তপশিলে অনেক গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতি হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। উক্ত কর্পোরেট শাখায় ঋন বিতরনের অধিকাংশ সময়ই বর্তমান এমডি আবদুস সালাম আজাদ ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন।

বিভিন্ন সময়ে বিদেশ থেকে কাঁচা মাল আমদানির জন্য ঋনপত্র খোলে গ্রুপটি এবং ব্যাংক তার নিজস্ব অর্থ হতে এই টাকা বিদেশি ব্যাংকে পরিশোধ করে। গ্রুপটি ব্যাংকের দায় পরিশাধ করতে পারছে না। স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাশ ক্রেডিট নিয়েও পরিশোধ করতে পারছে না। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম আজাদ এই ব্যাপারে গণমাধ্যমে কোন মন্তব্য করতে চান নাই।

তার পূর্ববর্তী এমডি এসএম আমিনুর রহমান বলেন, আমার আমলে গ্রুপটিকে ঋন দেওয়া হয়েছে সত্য কিন্ত এই ঋনের ব্যাপারে আমার কোন হাত ছিল না। আমার পরও গ্রুপটিকে ঋন প্রদান করা হয়। এমডি আবদুস সালাম আজাদের মত ক্রিসেন্ট এর মালিক এম এ কাদের এই ঋনের ব্যপারে গণমাধ্যমে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নাই। এই ঋন অনিয়মের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে জনতা ব্যাংক ইমামগঞ্জ শাখার ১০ জন কর্মকর্তাকে চাকুরি চ্যুত করা হয়।

বিতর্কিত হলমার্ক রাষ্ট্রায়াত্ব সোনালী ব্যাংক থেকে বিশালাকারের টাকা বের করে নেয়। হলমার্ককে জনতা ব্যাংকও ১২ মিলিয়ন ডলার ঋন দিয়েছে। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে এই ঋন দেওয়া হয় এবং এর সাথে জনতার কর্মকর্তারা জড়িত। জনতার যে শাখা থেকে এই ঋন দেওয়া হয় বর্তমান এমডি সেই সময় উক্ত শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে বিশাল আকারের টাকা তুলে নেয়।

এদিকে ভুয়া রপ্তানি কাগজপত্র দাখিল করে বিসমিল্লাহ গ্রুপ অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে ৪০০ কোটি টাকা তুলে নেয়। জনতার এমডি ও সিইও আবদুস সালাম আজাদের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত অব্যহত আছে। আগামি সংখ্যায় বিস্তারিত থাকছে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − two =