মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্পে হরিলুট: নামমাত্র কাজ শেষেই বিল পরিশোধ

0
484

স্টাফ রিপোর্টার ঃ মৎস্য অধিদপ্তরের আওয়তাধীন বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের খাল বা পুকুর খনন কাজে অর্থ হরিলুটের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামেমাত্র কাজ শেষে, আবার কোথাও কাজের অস্তিত্বই খুজে পাওয়া যায় না, এমন সব মিলিয়ে চারভাগের একভাগ কাজ বাস্তবায়ন না করেই কোটি কোটি টাকার পরিশোধ করেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে অভিযোগ রয়েছে প্রকল্পের পরিচালক থেকে শুরু করে কাজের সর্বশেষ তদারকি কর্মকর্তা (মাঠপর্যায়ের) পর্যন্ত বরাদ্দের ৮০শতাংশ টাকা নির্দিষ্ট হারে কেটে রেখে ২০ শতাংশ টাকা উপকারভোগিকে প্রদানের মাধ্যমে কাজের বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। এই নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়ায় তাদেরই একজন এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুদক চেয়ারম্যান সহ মৎস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের খাল বা পুকুর খনন কাজের স্কীম প্রতি বরাদ্দ দেয় মৎস অধিদপ্তর। এলক্ষে উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নে দুইটি স্কীমে যথাক্রমে ১০.০৯ ও ১৬.৩৬ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়।

প্রথম স্কীমটি মেয়াদ ২৮জানুয়ারী-২০২১ হতে ২৭মার্চ-২০২১ এবং দ্বিতীয়টি ২৯জানুয়ারী-২০২১ হতে ৩০মার্চ-২০২১ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারন করা হলেও এখনো প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। অথচ মোট বরাদ্দের ৭৫ভাগ বিল পরিশোধ করা হয়ে গেছে। তবে বাস্তবচিত্রে প্রকল্পের চারভাগের একভাগ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

অভিযোগকারী রাজা মিয়া তালুকদার বলেন, তালতলী উপজেলার প্রতিটি স্কীমেরই কাজে অনিয়ম হয়েছে। কোন স্কীমে কাজ না করেই, আবার কোন স্কীমে নামেমাত্র কাজ করে লাখ লাখ লোপাট করা হয়েছে।

সর্বশেষ তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মৎস্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপকারভোগিদের নিকট থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা কেটে রেখেছে। কাজ কি পরিমান হয়েছে সেদিকে তাদের নজর পড়েনি।

যেকোন লোক সরেজমিনে এসে তদন্ত করলেই এর সত্যতা খুজে পাবে। তবে অভিযোগ করার কারনে আমাকে নানা ভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি। 

এব্যাপারে তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মাহাবুব হোসেন বলেন, বিল পরিশোধে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই, বিল পরিশোধ করে জেলা অফিসার। আমি শুধু কাজের তদারকি করে থাকি।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × three =