র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক কামরুল গং এর বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ

বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে বিএসটিভি অফিসে হামলা , নগদ অর্থ ও মালামাল জব্দসহ মিথ্যা মামলায় হয়রানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন ।

0
1129

স্টাফ রিপোর্টার: র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক কামরুল গং বহিরাগত সন্ত্রাসী চাদাবাজদের সাথে নিয়ে বিএসটিভি অফিসে হামলা নগদ অর্থ ও মালামাল জব্দসহ মিথ্যা মামলায় হয়রানীর প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী’র কাছে অভিযোগ এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন ইঝঞঠ ঘঊডঝ-২৪/৭ । অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, ২৩/০১/২০২০ইং সালে গোপালগঞ্জ টুঙ্গীপাড়া বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল দিয়ে পরিক্ষামূলক অনলাইন সম্প্রচার শুরু করে বিএসটিভি এবং আমরা আওয়ামীলীগ পরিবার সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠানের নামকরন করি “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট টেলিভিশন নিউজ-২৪/৭” (ইঝঞঠ ঘঊডঝ-২৪/৭) কার্যালয়-ইউসুফ ম্যানশন (৪র্থ তলা), ৪৮/১,  মতিঝিল, ঢাকা-। (নিউজ এজেন্সী লাইসেন্স নং-উঝঈঈ ৩৫০৬৩৭/২০১৯-২০২০ অর্থবছর) আপনার সমীপে অভিযোগ করিতেছি যে, ২০/০৩/২০২১ইং তারিখ বেলা ৩ ঘটিকার সময় র‌্যাব-৪ এর সেনাবাহিনীর  কামরুল কারো দ্বারা বিপুল পরিমান অর্থ পেয়ে প্রভাবিত হয়ে আমাদের অফিসে অন্যায় ও অবৈধভাবে (সেনাবাহিনীর কামরুল-০১৭, টহল কমান্ডার আনোয়ার হোসেন-০১৭৮৬-১২২২৬০, এসআই রেজাউল করিম-০১৭১৪-৭৩৬৩৪৬, এএসআই শাহিদুর রহমান-০১৭১০-৭০৮৪৭০, বাবু মিয়া-০১৩০৩-২৫০০০২, ও কং মতিউর রহমান-০১৭১৬-৯৬১৩৪৭) সিভিল ড্রেসে এসে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক পরিচয়দানকারী কামরুল বহিরাগত কিছু লোকজন সাথে নিয়ে প্রবেশ করে অভিযান পরিচালনার নামে নগদ অর্থ ও মালামাল জব্দ সহ ৭ জন কর্মকর্তা, কর্মচারীকে এবং ২ জন পথচারি, ১ জন ঢাকা মহানগর (দ:) ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক রিয়াদ মাহামুদ সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার পূর্বক চোখ বেধে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যায়। ২ দিন পরে ২১/০৩/২০২১ইং তারিখে মিথ্যা মামলা দিয়ে মতিঝিল থানায় সোপর্দ করেন।

উল্লেখ্য যে, আমি ও আমার সহকর্মীরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শ ও চেতনায় বিশ^াস করে তাহার আদর্শ বুকে ধারন করে এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি মূক্ত দেশ গড়ার ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড প্রচার করার লক্ষ্যে আমরা আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তানরা ও মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মিলিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরন করি “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট টেলিভিশন নিউজ-২৪/৭” (ইঝঞঠ ঘঊডঝ-২৪/৭)।

আমরা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শ ও চেতনা বুকে ধারন করে এবং মুজিব শতবার্ষিকী সহ সকল ধরনের কর্মসূচী এবং মিলাদ ও দোয়ার মধ্য দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রচার গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু চেতনা বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী, আওয়ামীলীগ বিরোধী, বিএনপি, জামায়াত-শিবীর, হেফাজত ইসলামী একটি চক্রের ইঙ্গিতে বঙ্গবন্ধুর নামকে অসম্মান ও আমাদের সফলতাকে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক প্রচারকে ধুলিসাৎ করার জন্য র‌্যাব-৪ এর সেনাবাহিনীর কামরুলকে প্রভাবিত করেন।

এই সেনাবাহিনীরই কিছু অফিসার মিলে ১৫ আগস্ট আমাদের জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু ও শিশু রাসেলসহ স্ব-পরিবারকে গভীর রাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো। সেই একই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে সেনাবাহিনীর কামরুল বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরনকৃত প্রতিষ্ঠানের অফিসে অভিযান পরিচালনা করেন।

তাই যদি না হতো তাহলে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ এবং ছাত্রলীগকে অভিযান পরিচালনাকালীন সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন না এবং বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার টাঙ্গানো ছবি ও ব্যানার ছিড়ে পদদলিত ও তছনছ করতেন না। এইসব কিসের আলামত? তাহলে কি সেই ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর স্ব-পরিবার খুনিদের রক্তের বা অনুসারীর কেউ কিনা, সেনাবাহিনীর কামরুল। এ সময় র‌্যাব বাহিনীর সাথে একাধিক বহিরাগত লোকজন ছিলো।

অভিযানকালীন সময়ে র‌্যাব সদস্যরা আমাদেরকে শারিরীক ও মানষিকভাবে টর্চারসহ অফিসের সরঞ্জামাদী ও নগদ অর্থ লুটপাট করেন এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সহ আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার টাঙ্গানো ছবি ও ব্যানারগুলো টেনে হেচরে পদদলিত করেন।

জব্দ তালিকায় দেওয়া মালামাল ও অর্থ ছাড়াও আরো অনেক মালামাল খুজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং জব্দ তালিকা করা সময় স্বাক্ষী হিসেবে র‌্যাবের সোর্স মেহেদী হাসান ও আলাউদ্দিন আকনকে উল্লেখ করেছেন এবং মামলাতেও এই দুজনকেই স্বাক্ষী বানিয়েছেন।

একটি ক্যানন ৭০০ডি ক্যামেরার মূল্য ৫৫,০০০/- টাকা, ১টি সনি ৪শ ক্যামেরা মুল্য-২০০,০০০/-, ১টি অ্যাপসন প্রিন্টার মডেল-এল২১০ মুল্য ২৫০০০/- টাকা, ১টি স্যামসন ১৯ ইঞ্চি মনিটর মুল্য ১৫০০০/-টাকা, ১টি এইচপি মনিটর ২৪ ইঞ্চি মুল্য ১৭০০০/- টাকা, ১টি কোরআই-৭ পিসি মুল্য ৫৫০০০/- টাকা, ১টি টেলিফোন সেট মুল্য ১৬০০/-টাকা, ১টি স্যামসন নোট-১০ মোবাইল মুল্য ৪৫০০০/- টাকা, ২টি সাউন্ডবক্স, ৪টি হ্যালোজিন লাইট মুল্য ১৬০০০/- টাকা,  ১টি ল্যাপটপ ডেল কোম্পানী মূল্য ৪২,০০০/- টাকা, ৩টি পেনড্রাইভ, মানিব্যাগ, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, ডায়েরী, উক্ত ডায়েরীর মধ্যে বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত পার্সওয়াডসহ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযান পরবর্তীতে মামলায় যাকে বাদী করা হয়েছে আলী রেজা রাজু ওরফে লালটু, সে র‌্যাবের সোর্স হিসাবে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছে। সে তাহার পরিচয় গোপন রেখে আমাদের প্রতিষ্ঠানের কার্ড গ্রহন করেন। পবর্তীতে আমরা জানতে পারি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদপত্রগুলো নকল ও জালজালিয়াতীমূলক। সে প্রায়শই আমাদের অফিসে এসে নারী সহকর্মীদের উত্যাক্ত করতো এবং তাহার চুরির স্বভাবও ছিলো।

এক পর্যায় তাহার বিভিন্ন অপকর্ম সম্পর্কে তাকে সতর্ক করি। সেই সুবাধে সে আমাদের ব্লাকমেইল শুরু করে। মোটা অংকের টাকা দাবী করে। টাকা না দিলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করবে। হুমকি-ধামকি দিয়ে র‌্যাবের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে র‌্যাব-৪ এর বাহিনী  ও বহিরাগত লোকজনদের সাথে নিয়ে আমাদের অফিসে এসে অভিযান চালায়। উল্লেখ্য যে, প্রথমে র‌্যাব সদস্যরা আমাদের প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল অফিসে অভিযান শেষে হাতিরঝিল অবস্থিত রেকডিং স্টুডিওতে অভিযান করে ভাংচুর সহ মালামাল জব্দ করে।

এতে আমাদের প্রায় ১০লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিশেষে র‌্যাবের পক্ষ থেকে আমাদেরকে মিডিয়ার সামনে রেখে বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে একতরফা সাক্ষাতকার দিয়ে এবং আমাদের মিডিয়ার সামনে কথা বলতে না দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করে দেশ বাসিকে আমাদের নামে মামলা করার উস্কানিমূলক বক্তব্য ও আহ্বান জানিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি করেন। আরো উল্লেখ থাকে যে, কামরুল আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে, কারন অভিযান পরিচালন করেছেন তিনি আর মামলায় অন্য কর্মকর্তাদের নাম পরিচয় উল্লেখ করেছেন।

মামলার নথিতে তার কোন নাম ঠিকানা নেই। কিন্তু আমরা কারোর কোন ক্ষতি করিনি বলেই তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পরেও কেউ মামলা করেনি। কোন কিছুর সত্যতা প্রমান না করেই বঙ্গবন্ধুর নামের ও আমাদের সুনাম নষ্ট করা হয়েছে। কামরুলের এহেন কর্মকান্ডে বঙ্গবন্ধুর নামের নামকরন প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর ক্ষতির সাধন হয়েছে। এমনকি মহামান্য হাইকোর্টকেও কামরুল অবমাননা করেছে।

যেহেতু হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে ‘যতক্ষন পর্যন্ত কেউ দোষী স্বাব্যস্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে মিডিয়া সামনে হাজির করা যাবে না ও সোস্যাইল মিডিয়ায় বা ফেইজবুকে প্রকাশ করা যাবে না’। তারপরও অভিযান চালনোর সময় বহিরাগত লোকজন দিয়ে ভিডিও করে ফেইজবুক ও সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে দেন সেনাবাহিনীর কামরুল। এতে করে বঙ্গবন্ধুর নামের এবং আমাদের মানহানি করা হয়েছে।

এ বিষয় তিব্র নিন্দা ও দু:খ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন গনমাধ্যম এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহকারী প্রেস সচিব সাইফুল ইসলাম বিটু, এমপি শামীম ওসমান নারায়নগঞ্জ-১, পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এনামুল হক শামীম, এমপি ইকবাল হোসেন অপু, শরিয়তপুর-১, এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-২, মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি পারভিন হক সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার কবির, ঢাকা মহানগর (দ:) আওয়ামীলীগ ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এবং বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এখনও বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরন প্রতিষ্ঠান ও আমাদের নামে বিভিন্ন লোক দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং আমাদের এখনো বিভিন্ন ভাবে গুম-খুন মামলা ও জীবন নাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। অতএব, উপযুক্ত বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সেনাবহিনীর কামরুলের অপকর্মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে আরো উল্লেখ্য থাকে যে, ২০০৯/১০ সালে বিরোধী দলগুলোর অপকর্মের তান্ডব সংক্রান্ত সংবাদ অধিকাংশ পত্র পত্রিকায় ও টেলিভিশন প্রচার না করে আওয়ামীলীগ বিরোধী অপপ্রচার বেশী করেন।

ইদানিং একটু থেমেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন চালু হওয়ার পর থেকে। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরন এই গনমাধ্যম মিডিয়া প্রতিষ্ঠানটিকে পরিপূর্ন মর্যাদা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমুলক কাজে প্রচার চালিয়ে যাওয়ার লক্ষে এবং আত্মসাতকৃত মালামাল ও অর্র্থ উদ্ধার  ও ন্যায় বিচার প্রাপ্তি সহ আমাদের জীবনের নিরাপত্তা প্রদান সহ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে জনাবের যেন মর্জি হয়।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জর্নালিস্ট অর্গানাইজেশন এর চেয়ারম্যান এস এম মোরশেদ। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ সংগঠন এর সহ সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ সংগঠন এর কার্যকরি সদস্য রচিন্দ্রনাথ মন্ডল। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ সংগঠন এর প্রতিবন্ধি বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ নিয়া। বাংলাদেশ অর্পিত সম্পত্তি ইজারাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আরব হোসেন।

দৈনিক গণজাগরন প্রতিনিধি আলি আহসান মুজাহিদ । কারেন্ট নিউজ এর প্রতিনিধি কুদ্দুছ। বিএসটিভির অপারেশন ডিরেক্টর নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিএসটিভির কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি এবং তিতাস উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সহ সভাপতি মো: খোরশেদুর রহমান বকুল। বিএসটিভির ঢাকা জেলা চীফ রিপোর্টার শওকত হোসেন। বিএসটিভির স্টাফ রিপোর্টার সোহেল মিয়া । বিএসটিভির স্টাফ মিজানুর রহমান শিকদার।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven + 18 =