তাওবা ইস্তেগফার এর গল্প

0
474

সহু সিজদা বা সিজদা-এ সাহও (ভুলের সিজদাহ) ফরয বা নফল নামাযে ভুল করে কোন ওয়াজেব অংশ ত্যাগ করলে ঐ ভুলের খেসারত স্বরুপ এবং ভুল আনয়নকারী শয়তানের প্রতি চাবুক স্বরুপ দুটি সিজদাহ করতে হয়। ভুল অনুপাতে সিজদার আগে বা পরে হাদীসে বর্ণিত নিয়মানুসারে সিজদাহ করা জরুরী। যখন সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তি সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে দাঁড়ালে তার নিকটে শায়ত্বন (শয়তান) আসে। সে তাকে সন্দেহ-সংশয়ে ফেলে দেয়, এতে সে স্মরণ রাখতে পারে না কত রাক্‘আত সলাত সে আদায় করছে। তাই তোমাদের কোন ব্যক্তি এ অবস্থাপ্রাপ্ত হলে সে যেন (শেষ বৈঠকে) বসা অবস্থায় দু’টি সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) করে। মিশকাত ১০১৪, (বুখারী,মুসলিম)#নামায_কম_পড়ে_সালাম_ফিরে_দিলে :ভুলবশত: ১ বা ২ রাকআত নামায কম পড়ে সালাম ফিরে থাকলে যদি অল্প (৫/৭ মিনিট) সময়ের মধ্যে মনে পড়ে, তাহলে (মাঝে কথা বলে থাকলেও) নামাযী বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পর তকবীর ও তাসবীহ সহ্‌ দুটি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের সলাত আদায় করালেন। তিনি তিন রাক্‘আত পড়ে সালাম ফিরালেন তারপর ঘরে প্রবেশ করলেন। খিরবাক্ব নামক এক লম্বা হাতওয়ালা লোক দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! অতঃপর তাঁর নিকট ঘটনাটি আলোচনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত অবস্থায় নিজ চাদর টানতে টানতে মানুষের কাছে পৌঁছলেন অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, সে যা বলছে তা-কি সত্য? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আর এক রাক্‘আত সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন তারপর সালাম ফিরালেন, তারপর দু’টি সাহু সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) দিলেন তারপর সালাম ফিরালেন#মিশকাত ১০২১, সহিহ মুসলিম ৫৭৪অবশ্য দীর্ঘ সময়ের পর মনে পড়লে নূতন করে পুরো নামাযটাই পুনরায় ফিরিয়ে পড়তে হবে।নামাযের কোন রুক্‌ন (যেমন কিয়াম, রুকূ, সিজদাহ প্রভৃতি) ভুলে ত্যাগ করলে নামাযই হবে না। যে রাকআতের রুক্‌ন ত্যক্ত হবে, সে রাকআত বাতিল গণ্য হবে। ঐ ভুল নামাযের মধ্যে প্রথম রাকআতের রুক্‌ন ছেড়ে দ্বিতীয় রাকআতে মনে পড়লে, দ্বিতীয়কে প্রথম রাকআত গণ্য করে বাকী নামায সম্পন্ন করবে নামাযী। অতঃপর সালাম ফিরার পর দুই সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২৭/৩৯) পক্ষান্তরে নামাযের সালাম ফিরার পর মনে পড়লে এক রাকআত নামায পড়ে ঐরুপ সিজদাহ করবে। #নামায_বেশী_পড়লে :‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) পাঁচ রাক্‘আত আদায় করে নিলেন। তাঁকে বলা হলো, সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশ্ন করলেন, কি হয়েছে? সাহাবীরা বললেন, আপনি সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) পাঁচ রাক্‘আত আদায় করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাম ফিরানোর পরে দু’ সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) করে নিলেন।আর এক সূত্রে এ শব্দগুলোও আছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আমিও একজন মানুষ। তোমাদের যেমন ভুল হয়, আমারও তেমন ভুল হয়। আমি ভুল করলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সলাতে সন্দেহ করলে সে যেন সঠিকটি চিন্তা-ভাবনা করে এবং সে সঠিক চিন্তার উপর সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) পূর্ণ করে। তারপর সে যেন সালাম ফিরিয়ে দু’টো সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) করে। (বুখারী, মুসলিম)#মিশকাত ১০১৬#রাকআতে_সন্দেহ্‌_হলে :নামায পড়তে পড়তে কয় রাকআত হল -এই সন্দেহ্‌ হলে যেদিকের সঠিকতার ধারণা অধিক প্রবল হবে, তার উপর ভিত্তি করে নামায শেষ করে সালাম ফিরার পর ২টি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে।যদি দুই দিকের মধ্যে কোন দিকেরই সঠিকতার ধারণা প্রবল না হয়, তাহলে দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর আমল করবে নামাযী। অর্থাৎ, কম সংখ্যার উপর ভিত্তি করলে নামায অসম্পূর্ণ হওয়ার আশংকা থাকবে না। সুতরাং সেই প্রত্যয়ের সাথে বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদা-এ সাহও করে সালাম ফিরবে।মহানবী (সাঃ) বলেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযে সন্দেহ্‌ করে এবং বুঝতে পারে না যে, সে কয় রাকআত পড়েছে; ৪ রাকআত, না ৩ রাকআত? তখন তার উচিৎ, সন্দেহ্‌ দূর করে দিয়ে যা একীন (দৃঢ় প্রত্যয়) হয় তার উপর ভিত্তি করা। অতঃপর সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদাহ করা। এতে সে যদি ৫ রাকআত পড়ে থাকে তাহলে ঐ সিজদাহ মিলে তার নামায জোড় হয়ে যাবে। অন্যথা যদি পূর্ণ ৪ রাকআত পড়ে থাকে, তাহলে ঐ সিজদাহ শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর হবে।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম, মিশকাত ১০১৫নং)#প্রথম_তাশাহহুদ_ত্যাগ_করলে :নামাযী নামাযের প্রথম তাশাহহুদের বৈঠকে বসতে ভুলে গেলে যদি অর্ধেক উঠে খাড়া না হয়ে যায়, (হাঁটুদ্বয় মাটি ত্যাগ না করে) তাহলে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে। আর এতে সাহু সিজদার প্রয়োজন নেই। অর্ধেকের বেশী উঠে খাড়া হয়ে গেলে এবং সম্পূর্ণ খাড়া না হয়ে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে এবং শেষে সহু সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে যায়, তাহলে আর পুনরায় না বসে বাকী নামায পূর্ণ করে সালাম ফিরার পূর্বে দুই সিজদা করে সালাম ফিরবে।অবৈধ জানার পরেও সম্পূর্ণ খাড়া হওয়ার পর পুনরায় বসে তাশাহহুদ পড়লে নামায বাতিল নয়। কিন্তু ক্বিরাআত শুরু করার পর বসলে নামায বাতিল গণ্য হবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৫১১-৫১৩)একদা মহানবী (সাঃ) নামাযে প্রথম বৈঠকে না বসে উঠে পড়েন। লোকেরা তাসবীহ বললেও তিনি না বসে নামায শেষে দুই সিজদাহ করে সালাম ফিরেন। (বুখারী, মুসলিম, সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৮নং)তিনি বলেন, “ইমাম ভুলে গিয়ে (তাশাহহুদ না পড়ে) সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলে তাকে ২টি সহু সিজদাহ করতে হবে। অবশ্য সম্পূর্ণ খাড়া না হলে সহু সিজদাহ করতে হবে না।” (ত্বাবারানী, মু’জাম জামে ৬২৩নং)প্রকাশ যে, ৪ রাকআত পড়ে ৫ রাকআতের জন্য ভুলে উঠে সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলেও স্মরণ হওয়া বা করানোর সাথে সাথে নামাযী বসে যাবে। কিন্তু প্রথম বৈঠকের জন্য স্মরণ হওয়া বা করানোর পরেও বসবে না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়নাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে যুহরের সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করালেন। তিনি প্রথম দু’ রাক্‘আত পড়ে (প্রথম বৈঠকে বসা ছাড়া তৃতীয় রাক্‘আতের জন্য) দাঁড়িয়ে গেলেন, বসলেন না। অন্যান্যরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেলেন। এমনকি সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) যখন শেষ করলেন এবং লোকেরা সালাম ফিরাবার অপেক্ষা করলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসা অবস্থায় তাকবীর দিলেন এবং সালাম ফিরাবার পূর্বে দু’টি সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) করলেন, তারপর সালাম ফিরালেন। (বুখারী, মুসলিম)#মিশকাত ১০১৮ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম দু’ রাক্‘আত সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করার পর (প্রথম বৈঠকে না বসে তৃতীয় রাক্‘আতের জন্যে) উঠে গেলে যদি সোজা দাঁড়িয়ে যাবার পূর্বে মনে হয় তাহলে সে যেন বসে যায়। আর যদি সোজা দাঁড়িয়ে যায় তবে সে বসবে না (এবং শেষ বৈঠকে) দু’টি সাহু সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) করবে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)#মিশকাত ১০২০ সালাত_সন্দেহ_হলেঃ আত্বা বিন ইয়াসার (রহঃ) আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি যখন সলাতের মধ্যে সন্দেহ করে যে, সে কতটুকু সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করছে? তিন রাক্‘আত না চার রাক্‘আত, তাহলে সে যেন সন্দেহ দূর করে। যে সংখ্যার উপর তার দৃঢ়তা সৃষ্টি হয় তার ওপর নির্ভর করবে। তারপর সলাতের সালাম ফিরানোর পূর্বে দু’টো সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) করবে। যদি সে পাঁচ রাক্‘আত সলাত আদায় করে থাকে তাহলে এ সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) এ সলাতকে জোড় সংখ্যায় (ছয় রাক্‘আতে) পরিণত করবে। যদি সে পুরো চার রাক্‘আত আদায় করে থাকে তাহলে এ দু’ সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) শায়ত্বন (শয়তান) কে লাঞ্ছনাকারী গণ্য হবে। (মুসলিম; ইমাম মালিক এ হাদীসটিকে ‘আত্বা হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনায় এ শব্দগুলো আছে যে, সলাত আদায়কারী এ দু’ সাজদাহ্ দিয়ে পাঁচ রাক্‘আতকে জোড় সংখ্যা বানাবে#মিশকাত ১০১৫ #সহু_সিজদার_আনুষঙ্গিক_মাসায়েল :ভুলবশত: যে কোনও ওয়াজেব (যেমন রুকূ বা সিজদার তাসবীহ ইত্যাদি মূলেই) ত্যাগ করলে ঐ একই নিয়মে সিজদাহ করতে হবে।ইমাম সহু সিজদাহ করলে মুক্তাদী ভুল না করলেও তাঁর অনুসরণে তাঁর সাথে সিজদাহ করতে বাধ্য। ইমামের পশ্চাতে মুক্তাদী ভুল করলে যদি সে প্রথম রাকআত থেকেই ইমামের সাথে থাকে, তাহলে তাকে পৃথকভাবে সিজদাহ করতে হবে না। কারণ, তার এ ভুল ইমাম বহন করে নেবে। অবশ্য মসবূক (জামাআতে পিছিয়ে পড়া মুক্তাদী) হলে, ইমামের সালাম ফিরার পর তার বাকী নামায আদায় করতে উঠলে শেষে ভুল অনুসারে যথানিয়মে সিজদাহ করবে।কিন্তু যদি ইমাম সালাম ফিরার পর সিজদাহ করেন, তাহলে তাঁর সাথে মসবূকের সহু সিজদাহ করা সম্ভব নয়। কারণ সে সালাম ফিরতে পাবে না। তাই সে উঠে বাকী নামায আদায় করে শেষে যথানিয়মে একাকী সিজদাহ করে নেবে। অবশ্য সে যদি ইমামের ভুলের পর জামাআতে শামিল হয়ে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে সিজদাহ করতে হবে না।ইমাম ভুল করে এক রাকআত নামায বেশী পড়লে এক রাকআত ছুটে গেছে এমন মসবূক (পিছে পড়ে যাওয়া) নামাযী সেই রাকআত গণ্য করতে পারে না। সে রাকআত যেহেতু ইমামের বাতিল, সেহেতু তারও বাতিল। তাকে নিয়ম মত উঠে বাকী এক রাকআত কাযা পড়তে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩০৯)সতর্কতার বিষয় যে, ভুল করে নামাযের কোন রুক্‌ন ছুটে গেলে নামাযই হয় না। কোন ওয়াজেব ছুটে গেলে সিজদা-এ সাহও দ্বারা পূরণ হয়ে যায় এবং কোন সুন্নত ছুটে গেলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না তথা সহু সিজদারও প্রয়োজন হয় না।ক্বিরাআত করতে করতে ভুলে গেলে অথবা কাশিতে ধরলে যদি পরিমাণ মত পড়া হয়ে থাকে, তাহলে ইমাম তখনই রুকূতে চলে যাবেন। অবশ্য ক্বিরাআত ছোট মনে হলে অন্য সূরাও পড়তে পারেন। আটকে যাওয়ার পর সূরা ইখলাস পড়েও রুকূ যেতে পারেন। অবশ্য ক্বিরাআত ভুল পড়লে শেষে ঐ সূরা পড়তে হয় -এ কথা মনে করা ঠিক নয়।©স্বলাতে মুবাশ্বির#কম_পড়ার_সন্দেহ_হলে_করনীয়ঃ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সলাত আদায় করতে যে ব্যক্তি কম (রাক্‘আত) পড়ার সন্দেহ করে, সে যেন সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে যতক্ষণ পর্যন্ত বেশী আদায়ের সন্দেহ না করে#মিশকাত ১০২-

প্রশ্নঃ সিজদা সাহু করার সঠিক নিয়ম কি ? উত্তরঃ সিজদা সাহু সালাম ফেরানোর আগে ও পরে দুইভাবেই করা যায়। তবে আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত মকসুদুল মুমিনীণ নামক বেদাতী বইয়ের সাজদা সাহুর নিয়ম ঠিক নয়। আমাদের দেশে প্রচলিত ভুল নিয়মঃ শেষ বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে, শুধু ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে দুইটা সিজদা দিয়ে আবার আত্তাহিয়্যাতু দুরুদ পড়ে সালাম ফিরানোর নিয়ম – এটা ঠিকনা, কোন সহীহ হাদীসে সেজদা সাহু এমন আসেনাই। সিজদা সাহু করার সঠিক নিয়ম হচ্ছে -“সালাতে কম বেশি যাই হোক, আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে তাকবীর দিয়ে পর পর দুটি সিজদাহ দিয়ে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করতে হবে।” -বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত, সালাত অধ্যায়, সাহু অনুচ্ছেদ, ১০১৮ নং হাদীস। দুই সিজদার মাঝখানে বা সিজদাতে তাসবীহর পরে দুয়া করতে পারবেন। ২টা অতিরিক্ত সিজদা দিয়ে আর কিছু পড়তে হবেনা, আবার ডানে ও বামে দুইদিকেই সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন। কিন্তু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে একপাশে সালাম ফিরিয়ে আবার তাশাহুদ পড়ার কোনো সহীহ হাদীস নেই। এক পাশে সালাম ফিরানো বিদআত” – বলেছেন হানাফী বড় আলেম ইবনুল হুমাম আল-হানাফী (ফতহুল কাদীর ১/২২২ পৃষ্ঠা)। (সংগৃহীত)

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 + ten =