আবরার হত্যা মামলার ২২ আসামি আদালতে

0
212

আরিফুল ইসলাম: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ২২ আসামিকে  কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে।বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রিয় কারাগার থেকে আবরার হত্যা মামলার ২২আসামিকে আদালতে আনা হয়। হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় অতিরিক্ত ২ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।বেলা ১২টায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আলোচিত এই রায় ঘোষণা করবেন।এর আগে, গত ২৮ নভেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পিছিয়ে ৮ই ডিসেম্বর ধার্য করা হয়। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের আদালত এ দিন ধার্য করেন। এ সময় বিচারক বলেন, আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক আরও ভালোভাবে বিশ্লষণ করে রায় প্রদানে আরো কিছু সময় প্রয়োজন।

উল্লেখ্য,ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে ২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ঘটনার নির্মমতা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়লে দেশব্যাপী ওঠে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়।

জোড়ালো হয় ন্যায় বিচারের দাবি। ঘটনার পরদিন চকবাজার থানায় মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। পুলিশ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আটজন। ১৩ই নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ডিবি পুলিশ। পলাতক তিন আসামিসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে শুরু হয় বিচার।

আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৬০ সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া ২১টি আলামতসহ আটটি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেয়া হয়। গত ১৪ই নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৮শে নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে আদালত।

মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সব আসামির মৃত্যুদণ্ডের দাবি, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবু আবদুল্লাহর। তিনি বলেন, সকল সাক্ষ্য প্রমানসহ মামলাটি আদালতে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ বলছে, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় খালাস পাবেন সবাই। আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ২৫ জন ছাত্রই খালাস পাওয়ার দাবি রাখে। তবে রায় সম্পর্কে আমার কোন মন্তব্য নাই।

এদিকে সব আসামির দৃষ্টান্তমৃলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত আবরারের পরিবার। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, আশা থাকবে সব আসামির যেন মৃত্যুদণ্ড হয় এবং কোনো আসামি যেন খালাস না পায়।

নৃশংস এ হত্যা মামলায় এজহারভুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২২ আসামি কারাগারে, আর মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ও মোস্তবা রাফিদ পলাতক।

অভিযোগপত্রে যে ২৫ জনকে আসামি করা হয়, তারা হলেন—বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, ছাত্রলীগকর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মো. মুজাহিদুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 3 =