জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন অতিষ্ট: সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন

0
415

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ লাফ দিয়ে আরেক দফা বৃদ্ধি করা হলো। হঠাৎ করে রাতের বেলায় মূল্য বৃদ্ধির এই  ঘোষণায় জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বাইক চালকরা বাইক নিয়ে তেল পাম্পে গিয়ে দেখেন প্রতিটি তেল পাম্প বন্ধ। পরের দিন থেকে নতুন মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হয়ে যায়। ঢাকা ও অন্যান্য শহর সহ গোটা দেশে বিশেষ করে দুরপাল্লার গাড়িতে ভাড়া নিয়ে জুলুম ও ডাকাতি চলছে। পরিবহণ শ্রমিক ও মালিকরা যেমন খুশি তেমন ভাড়া আদায় করছে। বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে গণপরিবহণে যাত্রিদের সাথে বাস শ্রমিক, হেল্পার ও চালকদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি নিত্য দিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পরিবহণ সেক্টরে এক বিশাল অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রিদেরকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ও অনৈতিক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে সকল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠন মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুই প্রবেশ করছে না সরকারের কানে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির পাগলা ঘোড়ার সাথে বাজি ধরতে না পেরে অনেক নিন্মবিত্ত পরিবার শহর থেকে গ্রামে চলে যাচ্ছে। প্রায় নয় মাস আগে সর্বশেষ জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। তখনও গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় যার জের টানতে না টানতে আরেক দফা তেলের মূল্য যেন জনসাধারণের জন্য মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ। সরকার ঘোষণা দিয়েছে প্রচুর পরিমাণ তেল মজুদ আছে। এরপরও হঠাৎ কেন এমন রাতারাতি মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের স্বাভাবিক জীবনকে অসহনীয় করে তোলা হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ীরা রাতারাতি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জনগণকে জিম্মি করে। গণপরিবহণে ভাড়া নৈরাজ্য থামানো যাচ্ছে না কিছুতেই। গত নয় মাস আগে তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর ভাড়া নিয়ে ব্যাপক নৈরাজ্য থামাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নাই। ভুক্তভোগীরা বলছেন সরকার পরিবহণ সেক্টরের কাছে নতজানু। কারণ এই সেক্টরকে খুশি না রাখতে পারলে ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 + 4 =