প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অমান্য  এমপি পংকজ নাথ ডুবাচ্ছে আ:লীগকে

0
691

হত্যা নির্যাতন ভূমি দস্যুতা লুট আদালত অবমাননা চাঁদাবাজি লঞ্চ মালিক হয়রানী সাম্প্রদায়ীকতা সৃষ্টি নেতা কর্মিদের নির্যাতন সহ যত অভিযোগ এলাকার মুর্তিমান আতঙ্ক সরকারের ভাবমূতি নষ্ট উন্নয়নে বাধাগ্রস্তের মহানায়ক এর নৃশংসতার চিত্র

রাজণীতিতে দুর্বৃত্তায়ন নতুন কোন ঘটনা নয়। রাজনীতির এই দস্যুপনা নিবৃত্ত করতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা করেছিলেন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ কোন অন্যায় কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেছেন যারা জনগনের সম্পদ হরন করে, জান মালের ক্ষতি করে তাদের ভোট দেবেন না। আঃলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন যারা দলের সুনাম নষ্ট করে চলছে দুর্নীতিবাজ তাদের দলের নমিনেশন দেওয়া হবে না। তথাপিও এক শ্রেনীর এমপি দলের উপর ভর করে তাবৎ অপরাধ কর্ম করে চলছে। এমনি একজনের আতঙ্কের নাম এমপি শ্রী পঙ্কজ নাথ। যিনি বরিশাল ৪ আসনের এমপি। কোন গন্যমান্য ব্যাক্তি, দলীয় নেতাকর্মি, সাধারন জনগন ত্রা লোভলালশার আক্রমন থেকে বাদ যায়নি। তার স্বার্থ সিদ্ধির জন্য চাদাবাজি, লুটপাট, মামলা হামলা, আদালত অবমাননা, হত্যা, হুমকি ধামকি যেন চলছিল এমপি শ্রী সুকুমার এর নিত্যনৈমিত্তিক ব্যপার। তার বিরুদ্ধে হয়েছিল একাধিক সংবাদ সম্মেলন। অপরাধ বিচিত্রার ঈগল টিম অনুসন্ধান করেছে তার অপকর্মের বিষয় নিয়ে। উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর লোমহর্ষক ঘটনা। তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। কারন এমপির লাঠিয়াল বাহিনী বা তার অনুসারি কেউ জানতে পারলে তাকে হত্যাও করতে পারে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসির। ফলে অপরাধ বিচিত্রার সাংবাধিক শুনলে সবাই যেন পালিয়ে বাচতে চায়। এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে এলাকায় ঘুরে। তবুও কিছু প্রতিবাদী লোকজন পাওয়া গিয়েছে, যারা অপরাধ বিচিত্রার ঈগল টিমের কাছে গোপনে তাদের মনের কথা খুলে বলেছে এমপি সুকুমার এর বাহিনীর লোমহর্ষক ঘটসার বর্ননা দিয়ে। শর্ত ছিল তাদের নাম ঠিকানা প্রকাশ না করার শর্তে। এমপি সুকুমারের কুকির্তির লোমহর্ষক চাঞ্ছল্যকর কাহিনী ণিয়ে অপরাধ বিচিত্রার ঈগল টিমের এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ।

প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসকে পুজি করে দলের দিক নির্দেশনা উপেক্ষা ও ভাবমুর্তি নষ্ট করে চালাচ্ছে এমপি পংকজের শাসন

বিশ্ব মানবতার নেত্রী, দেশরত্ন-শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহা সড়কে প্রবাহমান। সারাদেশে আজ উন্নয়নের জোয়ার বইতে শুরু করলেও বরিশাল-৪ এর কেবলমাত্র পংকজ নাথ ও তাঁর পরিবারের উন্নয়ন হয়েছে। বরিশাল-৪ আসনে প্রায় ৩ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট মাত্র সাড়ে ১২ হাজার। ১৯৭০-২০১৩ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ১৯৭০, ১৯৭২, ১৯৯১ সালে ৩ বারের জন্য প্রয়াত জননেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাকী সময় বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি ক্ষমতার আসনে আসীন থাকেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যখন আওয়ামী লীগের হাতে ন্যস্ত হয়, ঠিক তখনই বরিশাল-৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণ আন্তরিকতার সহিত সংসদ সদস্য শ্রী পংকজ নাথ কে অভিভাবক হিসেবে সাদরে গ্রহণ করেন। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সবার ইচ্ছাকে পদদলিত করে পংকজ নাথ নিজে সুজন-পরিবার ও অনুসারীদের স্বার্থকে চরিতার্থ করার মানসে অত্র এলাকায় খুন, জখম, নৈরাজ্য, রাহাজানি, চোরাচালানী, দলীয় বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি, দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, মাদক ও বিক্রয়ের অভয়ারন্য, টেন্ডার-তদ্বির; নিেেয়াগ-চাদাবাজি-মনোনয়ন-নির্বাচন-সিন্ডিকেট-কমিশন ইত্যাদি বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে লুটপাটের মাতমে মেতে উঠেন। তিনি দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের হটিয়ে অযোগ্য, অদক্ষ, দলছুট, সুবিধাভোগী, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি থেকে চিহ্নিত খারাপ প্রকৃতির লোকজনদের এনে দলীয় গ্রুপিং সৃষ্টি করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে নিজস্ব সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন এবং সরকারের সার্বিক উন্নয়নের কথা না বলে নিজেকে স্বঘোষিত উন্নয়নের রূপকার বলে ঘোষণা করেন। তাহার অসাংগঠনিক, লাগামহীন দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কথা বললে তিনি তাদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে হাত-পা ভেঙ্গে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ায়ে জেলে পুড়েন অথবা এলাকা ত্যাগে বাধ্য করেন। যার ফলে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আজ গৃহবন্দী। পংকজ নাথের সর্বত্র খবরদারি, জুলুম-অন্যায় ও অত্যাচারের কারণে এলাকায় দলের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। বরিশাল-৪ আসনের এমন কোন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বা শুভাকাঙ্খী খুঁজে পাওয়া যাবে না-যিনি পংকজ নাথ ও তাঁর অনুগত সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনীর প্রতিহিংসার শিকার হন নাই। পংকজ নাথ দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের অনাস্থা কুঁড়ানোর পাশাপাশি গোটা জেলায় আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর ছোট ভাই মনোজ নাথ, চাচাতো ভাই রামকৃষ্ণ নাথ, ভাগিনা-রিপন নাথ এর ইশারায় চলে সমস্ত প্রশাসন ও অবৈধ বাণিজ্য ও লুটপাট। দলীয় কোনো নেতা-কর্মী পংকজ নাথের বিরাগভাজন হলে তাদের দূর্দশার আর সীমা থাকে না- সন্ত্রাসী হামলা, একের পর এক মামলা। সহ পুলিশ পাঠিয়ে তাদের গ্রেফতার করানো পংকজ নাথের অপরাজনীতির কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যত হামলা ও মামলা হয়েছে তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা এখন এখানে। পংকজ নাথের নির্যাতন, সন্ত্রাস, হামলা ও মামলার ভয়ে হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আজ এলাকা ছাড়ে। বরিশাল-৪ আসনের ৩ থানায় এ যাবত যত হামলা ও মামলা রয়েছে তার ৯৫% ই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। সারা এলাকার যুব সমাজের হাতে আজ তিনি তুলে দিয়েছেন ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিলসহ নানা ধরণের অবৈধ অস্ত্র। পংকজ নাথের সাথে মাদক ও চোরাচালানীদের সাথে সু-সম্পর্কের কারণে ভোলা জেলার লক্ষীপুর হয়ে মেহেন্দিগঞ্জের ইলিশা নদী দিয়ে কালীগঞ্জ রুট হয়ে সমস্ত মাদক এখন দক্ষিণাঞ্চলে। যার নেপথ্যে পংকজ নাথ নিজেই।

দলীয় নেতা কর্মিদের উপর নির্যাতনের  ষ্টিম রোলার চালিয়ে জিরো থেকে হিরো পংকজ নাথ

পংকজ নাথের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রেসক্লাবে এলাকার প্রতিবাদী লোকজন সাংবাদিক সম্মেলন করেন।   তারা উল্লেখ করেন পংকজ নাথ একজন অতি সাধারণ পরিবারের ছেলে। পংকজ নাথ টিউশনি আর গরীবের ফান্ডের টাকায় লেখা-পড়াকালীন জাতীয় ছাত্রলীগের ব্যানারে তাঁর আবির্ভাব ঘটে। তিনি ২০০১ সালে ৪ দলীয় জোট সরকারের কেন্দ্রবিন্দু

“হাওয়া ভবন” এর দৃষ্টি কাঁড়তে সক্ষম হন সারা এলাকায় যখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ৪ দলীয় জোট সরকারের অমানবিক নির্যাতন, হামলা ও মামলা হচ্ছে তখন তিনি পুলিশী প্রহরায় এলাকায় সফর করতেন এবং নিজেকে হাওয়া ভবনের অদৃশ্য শক্তি ও একান্ত লোক বলে প্রচার করতেন। সেই সময়েই হাওয়া ভবনের বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে রাতারাতি তিনি শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। তিনিই একমাত্র দুর্নীতিবাজ যিনি ১/১১ এর সময় প্রথম শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বস্ত্রীক গ্রেফতার হন। অভাবনীয় সেই সুযোগ এসে যায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পরে আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তাঁর নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-৪ সহ উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল বাড়ী, অভিজাত এলাকায় নামে ও বেনামে একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট ও গামেন্টস। পংকজ নাথ বিহঙ্গ গাড়ীর রুটের। মালিকানাসহ ইন্ডিয়াতে একাধিক বাড়ী ও মার্কেট। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় এযাবৎ তিনি হুন্ডি, মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে দেশের বাহিরে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন। কিছুদিন আগেও পংকজ নাথের স্ত্রী মনিকা নাথের চাকুরীর টাকায় তাদের সংসার চলতো-আজ তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক কিভাবে হয়েছেন তা বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানতে চায়? এক নজরে বরিশাল-৪ আসনের পংকজ নাথের সামান্য কিছু নির্যাতন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদক ও অপকর্মের খতিয়ান পাঠকদের সদয় অবগতির জন্য পেশ করা হলো।

 আঃ লীগের বিরুদ্ধে যত কর্মকান্ড:

পংকজ নাথ বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বিভিন্ন অন্যায়-অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি দলীয় গ্রুপিং এর মাধ্যমে দলের ভিতরে বিভেদ সৃষ্টি করে দলীয় ভাবমূর্তি দারুনভাবে ক্ষুন্ন করেছেন এবং করে চলছেন। তিনি দলীয় চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করে নিজের ইচ্ছা ও খেয়াল খুশি মতো আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নামে একাধিক কমিটি ঘোষণা দিয়ে দলীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন এবং করছেন। পংকজ নাথের নির্দেশে কাজীরহাট থানার ২০১৭ সালের মহান বিজয় দিবস ও আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে তার অনুগত ক্যাডার ও সন্ত্রাসী বাহিনীরা হামলা চালিয়ে বহু নেতা-কর্মীকে আহত করে এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণের ১০০ পাতার একটি বহি কাজীরহাট থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ জব্বার খান এর হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পংকজ নাথ বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ নিধনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। পংকজ নাথ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের দলীয় অফিসে তাঁর শুভ পদার্পণ ঘটেনি। তাঁর আমলের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই বেশি লাঞ্চিত ও নির্যাতিত হয়েছেন।

নেতাকর্মিদের খুন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড:

পংকজ নাথের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁরই নির্দেশে বিগত ২০১৬ সালের রমজানের ঈদের দিন দুপুর বেলা আলতু সরদারের নেতৃত্বে পংকজ নাথের সন্ত্রাসী বাহিনী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক চেয়ারম্যান-জামাল মোল্লা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রায় ২০, জনকে মারাত্মক জখম করেন। হামলার দৃশ্য ও ভয়াবহতা শুনে পথিমধ্যেই পংকজ নাথ বাহিনীর একজন হার্টষ্টোক করে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। কিন্তু পংকজ নাথ উক্ত হামলায় আহতকারীদের বিরুদ্ধেই হত্যামামলা দায়ের করান। ভাষানচর ইউপি নির্বাচনে পংকজ নাথের মনোনিত বিদ্রোহী প্রার্থীকে জয়লাভ করানোর জন্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি “সমীর চারুকে তিনি খুন করার নির্দেশ দেন এবং খুন করান। জয়নগর ইউপি নির্বাচনে পংকজ নাথের মনোনীত বিদ্রোহী প্রার্থী মনির হোসেন হাওলাদারকে জয়লাভ করানোর জন্য পংকজ নাথের নির্দেশে তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী নৌকা মার্কা প্রার্থী অধ্যাপক সেকান্দর আবু জাফর এর পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালানোর সময় ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ৫ সন্তানের জননী “শান্তনা বেগম (৪০) এর উপর পংকজ নাথের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করে ফলে শান্তনা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ দিন পরে ৪ বহুরের ১টি শিশু সন্তান রেখে মারা যান।

চানপুর ইউপি নির্বাচনে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মজিদ ফরাজীকে পংকজ নাথের নির্দেশে বিদ্রোহী প্রার্থী বাহাউদ্দীন ঢালীর সমর্থকরা বেদম মারধর করেন ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ০৪ দিনের মাথায় মজিদ মারা যান।পংকজ নাথের অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে কাজীরহাট থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক সঞ্জয় চন্দ্র-পংকজ নাথের ছোট ভাই মনোজ নাথের স্ত্রী কল্যানী নাথ এর বিরুদ্ধে দুদকে মামলা (স্মারক নং-৩৮১ তাং ০৫/০৩/২০১৭ ইং) করায় পংকজ নাথের নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনী তার হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেন এবং সঞ্জয়ের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠান। যার জি.আর- ২৬/ ১৭, সি আর-৩৩/১৭, সি আর- ৩৪/১৭, সি আর-৩৭/১৭, সি আর-৩৯/১৭। এমনিভাবে করিম, মানিক, অমিত শাহা, রিপন মাঝি, মালেক আকন, বারেক, ইকবাল শাহীন, মাওলানা জসিম, শিপন, জাহেদুল ইসলাম, হযরত আলী বেপারী, নাসির উদ্দিন সান্টু, অলি উদ্দিন, রিপন মাঝি, জালাল উদ্দিন তালুকদার, নাগর আলী, বেল্লাল মাওলানা, টিপু, মজিবুর রহমান কান্টু, নিজাম ঢালী, ডিকেন ও আতিক মাষ্টার সহ শত শত নেতাকর্মীকে তিনি হাত-পা ভেঙ্গে মারাত্বক জখম করার নির্দেশ দেন এবং করান।

 নিয়োগ বাণিজ্য:

পংকজ নাথ ২০১৭ সালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় সরকারী রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৫ জন নৈশ প্রহরী কাম-দপ্তরী নিয়োগ দিয়ে এমপি পংকজ নাথ, শিক্ষা অফিসার আক্তারোজ্জামান মিলন এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে প্রতি জনের কাছ থেকে ৫-৭ লক্ষ টাকা, কলেজ-হাইস্কুল-মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ডোনেশনের কথা বলে প্রতিজনের কাছ থেকে আদায় করেন। ১০-১৫ লক্ষ টাকা যাহার মধ্যে উত্তর সাহবাজপুর জজ ইনষ্টিটিউশন, উলানিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অন্যতম। প্রতি বছর পুলিশ আর্মি-বিজিবি সহ অন্যান্য নিয়োগ দিয়ে প্রতি জনের কাছ থেকে ৫-২০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। ২০১৩ সালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ০৯টি রেজি: কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ০২ জন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে প্রজ্ঞাপন জারীর পর তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সীল ও স্বাক্ষর জাল করে ঐসব বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকের সংখ্যা ০৪ জন করে দেখিয়ে অতিরিক্ত ১৮ জনের কাছ থেকে পংকজ নাথ ও তাঁর ছোট ভাই মনোজ নাথ ১০-১৫ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নেন। (উক্ত নিয়োগের ব্যাপারে দুদকে মামলা চলমান) ইহা ছাড়াও আরো প্রায় ৩০ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন, যাদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে পংকজ নাথ ১০-১৫ লক্ষ টাকা করে গ্রহণ করেছেন।

 নির্বাচন বাণিজ্য:

পংকজ নাথের বরিশাল-৪ আসনের মোট ২১ টি ইউনিয়ন, ২টি উপজেলা, ১টি পৌরসভা, ৩টি থানা নিয়ে গঠিত। ২০১৬/১৭ ইউপি নির্বাচনে পংকজ নাথ প্রতিজন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ১০-৬০ লক্ষ টাকা, ২৫১ জন ইউপি মেম্বার ও ১২ জন পৌর কাউন্সিলরের কাছ থেকে ৫-১৫ লক্ষ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান ও মেয়রের কাছ থেকে ২০-৩০ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। যাহা সর্বজন স্বীকৃত। শুধু মাত্র অনৈতিক সম্পর্কের কারণে জামাতের রোকনের মেয়ে রওশান বিনতে শফিকুল ইসলাম রোমানাকে তিনি নিজের অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করেন। সর্বশেষ আশ্চর্যের বিষয় তিনি ২১ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি যথাক্রমে-ধুলখোলা, চানপুর, জয়নগর, জাঙ্গালিয়া, দড়িচর খাজুরিয়া, আন্দারমানিক ইউনিয়নে আ:লীগ মনোনীত নৌকা মার্কা প্রার্থীর বিরুদ্ধে তাঁর মনোনীত বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করায় এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিজয়ী করেন এবং করান। নির্বাচন বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি ধুলখোলা ইউপি নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব ইকবাল মাতব্বর এর বিরুদ্ধে ধানের শীষ প্রার্থী মকবুল দপ্তরীর নিকট থেকে ৫০ লক্ষ টাকা সেলামী হিসেবে গ্রহণ করিয়া তিনি ধানের শীষ প্রার্থীকে জয় লাভ করান। চানপুর ইউপি উপ-নির্বাচনে পংকজ নাথ বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে-নৌকা মার্কা প্রার্থী লায়ন মাহে আলম সহ তার নির্বাচনী এজেন্টদের ভোট সেন্টারে পর্যন্ত যেতে দেন নাই। প্রার্থীর নিজের এবং তার পরিবারের জীবন রক্ষার্থে নির্বাচন বর্জন করে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তদ্ধপ পংকজ নাথ জেলা পরিষদ নির্বাচনেও নির্লজ্জের মতো নৌকা মার্কায় প্রার্থী ও দলীয় প্রার্থীদের বিরোধীতা করেন। এমনিভাবে জয়নগর, আন্দারমানিক, জাঙ্গালিয়া, দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনে পংকজ নাথ বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেটে, কেন্দ্র দখল করে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে বিদ্রোহী প্রার্থীদের জয়লাভ করান। এমনিভাবে পংকজ নাথ ২১ টি দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচন বাণিজ্য করেন।

 কমিশন বাণিজ্য:

পংকজ নাথ শুরু থেকেই সরকারী উন্নয়নমূলক কাজের উপর ১৫% থেকে ২০% টাকা, অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্প, ৪০ দিনের কর্মসূচির উপর ৩০-৪০% টাকা, মাদক, চোরাচালান ও সিন্ডিকেট ব্যবসার উপর ৪০-৫০% টাকা, টিআর, কাবিখা, কাবিটা এর উপর ৬০% টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

 মাদক বিক্রয় বাণিজ্য:

বরিশাল-৪ এখন মাদক সেবন ও বিক্রয়ের অভয়ারন্য। এলাকা বাসি সহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কাছে পংকজ নাথ এখন মাদক সম্রাট ও বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। পংকজ নাথের অনুগত সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনীর চৌকষ সদস্যরা ইয়াবা সহ নানা ধরণের মাদক ব্যবসায় জড়িত। আইন শৃংখলা বাহিনী কিছু অসাধু সদস্যরা ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। তিনি আজ যুব সমাজের হাতে মাদক তুলে দিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছেন।

 লুটপাট:

পংকজ নাথ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী গঠন করে খেয়াঘাট, টেম্পু। স্ট্যান্ড, জলাশয়, লঞ্চ টার্মিনাল, হাট-বাজার, নদীর বালু, মাছের পাড়া, খাদ্য গোডাউন, ভূমি অফিস, ইটের বাটা, সরকারী রাস্তার গাছপালা ইত্যাদি হতে প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট করছে।

 আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন:

আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন নেতাকর্মী পংকজ নাথের লাগামহীন দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, লুটপাট, জমি দখল, মাদক সহ অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাদের উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। পংকজ নাথের প্রকাশ্যে নির্দেশ-আমার কর্মকান্ডে কেউ প্রতিবাদ করলে বা বাধা দিলে তাদের হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে এলাকা ছাড়া কর। আজ শত শত নেতা-কর্মী তাঁর প্রতিহিংসা শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম কয়েক জন-আলহাজ্ব মেজর (অবঃ) মহসিন। সিকদার (২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী), বাবুল স্যার, মজিবুর রহমান জন্টু, মহিউদ্দীন বিশ্বাস, জামাল মোল্লা, আজম বাঘা, ইকবাল শাহীন, সঞ্জয় চন্দ্র, জামাল চৌধুরী, ডিকেন, আতিক মাষ্টার সহ শত শত নেতা কর্মী। পংকজ নাথের নির্দেশে স্থানীয় থানায় নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের মামলা গ্রহণ করতে দেয়া হয় না। এ যাবত পংকজ নাথ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। যাহার বাদী শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ ও পাঠাগার পক্ষে আনোয়ার হোসেন সাগর বনাম পংকজ নাহ গং দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ৬৬/১৬, আদালত অবমাননা মামলা নং ০১/১৮।

সঞ্জয় চন্দ্র বনাম পংকজ নাথ গং সি আর মামলা নং ১৩৬/১৮। দুদকে মামলা নং ৩৮১/১৭। দেওয়ানী মোকদ্দমার মামলা নং ৩৩/১৮। রুমানা বেগম বনাম পংকজ নাথ গং সি.আর মামলা নং ১৬৯/১৮। তাং ০২/০৮/১৮।

লঞ্চ যাত্রীদের ঈদ দূর্ভোগ :

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া বাজার সংলগ্ন কালীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল দিয়ে প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ লঞ্চ যোগে ঢাকা শহরে যাতায়াত করে। পংকজ নাথ এই রুটের লঞ্চ ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখেন। সন্ধা ৭ টার লঞ্চ তিনি রাত১/২ পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন এতে যাত্রীগণের বিশেষ করে মৎস্য ব্যবসায়ী, শিশু ও রোগীদের ভীষণ দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গত কোরবানী ঈদের আগে টিপু লঞ্চ কোম্পানীর এমবি ফারহান এবং এমবি টিপু লঞ্চ তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েক ঘন্টা দাড় করিয়ে রাখার ফলে যাত্রীরা হৈ চৈ শুরু করে। ফলে টিপু লঞ্চটি তাঁকে না নিয়েই ঢাকা চলে যেতে বাধ্য হয়, একারণে পংকজ নাথ ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ কোম্পানীর কোন লঞ্চ কালীগঞ্জ ঘাটে ভিড়তে না দেয়ায় এবার ঈদে যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখন পর্যন্ত টিপু কোম্পানীর কোন লঞ্চ কালীগঞ্জ ঘাটে ভিড়তে দেয়া হচ্ছে না। যদিও ভিড়ার চেষ্ট করে তবে তার অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ইট পাটকেল, পাথর নিক্ষেপ করে এবং লঞ্চে বড় ধরণের নাশকতা করার চেষ্টা করে যার ফলে জনদুর্ভোগ চরমে। মাঝে মধ্যে পংকজ নাথ ঢাকাবরিশালগামী বহু লঞ্চ-ষ্টীমার-বিমানও আটকে রেখে তার ক্ষমতা জাহির করে।

ইলিশের জাটকা নিধন বাণিজ্য:

ভোলা জেলা ইলিশা থেকে চাঁদপুরের হাইমচর পর্যন্ত নদীতে পংকজ নাথের সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করে জেলেদের দিয়ে প্রতি নিয়ত জাটকা নিধন করে আসছে। আপনারা নিশ্চই জানেন মেঘনা নদীর বিশাল এলাকা মৎস্য সংরক্ষিত অঞ্চল এবং মৎস্য প্রজণন কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। তিনি অসাধু কোস্ট গার্ডদের ম্যানেজ করে প্রতি দিন ৪/৫ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন তা ছাড়া বরিশাল-৪ আসনের প্রায় সকল জনপ্রতিনিধিরাই তার সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি।

 খাস জমি বরাদ্দের নামে বাণিজ্য:

পংকজ নাথ খাস জমি বরাদ্দের নামে নিজের স্বজন ও পরিবারের নামে বেনামে শত শত একর জমির মালিক হয়েছেন। তিনি তার চাচাতো ভাই রামকৃঞ্চ নাথের মাধ্যমে আলিমাবাদ, শ্রীপুর ইউনিয়নের লড়াইপুর মৌজায় রাম খতিয়ান নামে ১৬৪৬ একর এবং অন্যান্য মৌজায় আরও ৫ হাজার একর জমি দখল করে নিয়ে দরিদ্র ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে বরাদ্দের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

 ফসলী জমির ধান কেটে নেয়া বাণিজ্য:

পংকজ নাথের নির্দেশে তার অনুগত সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী চলতি মৌসুমে বরিশাল-৪ আসনে উলানিয়া, গোবিন্দপুর, জাঙ্গালিয়া, জয়নগর, খাগের চর, লালপুর, বিশকাঠালি, নাছুকাঠি, চরকোশিয়া, মেঘা, বিরমপুর, শাওরা, ছৈয়দখালী, শিবপুর, দাদপুর, আলিমাবাদ, বামুনেরচর সহ চরাঞ্চলের ভিবিন্ন মৌজায় প্রায় ৫ হাজার একর জমির ধান, সয়াবিন ও অন্যান্য ফসলাদী জমির প্রকৃত মালিকদের না দিয়ে প্রশাসনের সহযোগীতায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে জোর পূর্বক কেটে নিয়ে গেছে।

 দখল বাণিজ্য:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কনিষ্ঠ পূত্র শহীদ শেখ রাসেল এর নামানুসারে ১৯৮৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী জন নেত্রী শেখ হাসিনার প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় কেন্দ্রীয় শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের শাখা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতে পরিষদে নামের সাথে পাঠাগার অর্šÍভূক্ত করা হয়। উক্ত পরিষদ ও পাঠাগারে নামে. ০২৩৫ শতাংশ রেকর্ডীয় জমির উপরে উহা প্রতিষ্ঠিত। যাহার রেজি: নং ০০১/১১, পৌর হোল্ডিং নং-৫৭০, পৌর প্ল্যান নং-৪৩১। উক্ত পরিষদ ও পাঠাগারে জমি অবৈধভাবে দখল করিয়া পংকজ নাথের পিতা স্বর্গীয় হরিনারায়ণ নাথের নামে অডিটরিয়াম করার পায়তারা করিলে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আ: লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, উক্ত সংগঠনের পক্ষে সভাপতি আনোয়ার হোসেন সাগর পংকজ নাথ সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতিকারে মামলা করেন। যাহার নং ৬৬/১৬, তাং-২৩/০৮/২০১৬। আদালত উক্ত জমিতে স্থিতিবস্থায় নির্দেশ দিলেও পংকজ নাথ ক্ষমতার প্রভাবে উক্ত জমি বেশ কিছু অংশ দখল করে কাজ চালিয়ে যান। বাদী নিরুপায় হয়ে মহামান্য হাইকোর্টের স্বরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিবস্থা বলবৎ থাকার নির্দেশ দেন যাহার সিভিল রিভিউশণ মামলা নং-১৩৩১/১৭ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পংকজ নাথ উক্ত জমিতে কাজ চালিয়ে গেলে বাদী পংকজ নাথের বিরুদ্ধে আদলত অবমাননা মামলা করেন যাহার নং-০১, তাং ০৪/০১/২০১৮। মামলার কারনে বাদীকে পংকজ নাথ জীবননাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন।

 মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত:

পংকজ নাথ প্রতিবছর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে মসজিদের নামে উন্নয়নের বরাদ্দ এনে সিংহভাগ টাকাই মন্দির সংস্কার ও ণির্মানে ব্যয় করেন। তিনি মৃত ব্যক্তির কফিন নিয়ে টাকা হেঁচড়া করা, কবর জিয়ারত, মসজিদ মাদ্রাসায় ডােকে মিলাদ মাহফিলে অংশ গ্রহণ, ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত রাখতে প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করেন এবং নিজের গুণকীর্তন বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার হোগলটুলী মাদ্রাসা অত্র উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা । প্রতিষ্ঠান। আজ থেকে প্রায় ৭১ বছর আগে জৈনপুরী পীর হযরত মাওলানা আবদুজ জাহের সিদ্দিকী এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মাদ্রাসাটির সঙ্গে অত্র এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি জড়িত। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ অবদি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। গত বছর ওয়াজ মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথী হতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন এবং পবিত্র কোরান তেলওয়াতের পরে পংকজ নাথ গীতা পাঠ করায়। যার ফলে অধিকাংশ মুসল্লি ওয়াজ মাহফিলে মাঠ ত্যাগ করেন এবং এলাকাবাসি অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিরুপ মনোনাভাব প্রকাশ করে মাদ্রাসায় অনুদান ও ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করানো থেকে বিরত থাকেন। এবছর উক্ত মাদ্রাসা গভর্ণিং বডির সিদ্ধান্তে বরিশাল জেলা আ:লীগের যুগ্মসম্পাদক ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান এডভোকেট মুনসুর আহম্মেদকে প্রধান অতিথি করে ওয়াজ মাহফিলের ব্যবস্থা করলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পংকজ নাথ মাদ্রাসায় তার ক্যাডার ও সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত: ওয়াজ মাহফিলের সমস্ত ব্যানার ফ্যান, লিফলেট জোর করে নিয়ে যান এবং ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে দেন। উক্ত ঘটনা এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বস্তরের ধর্ম প্রিয় মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। পংকজ নাথ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার খড়কি গ্রামের কাশিনাথ মাস্টারের বাড়ীর নিকট এক গরিব মুসলমানের বসত ঘর ভেঙ্গে দিয়ে মন্দিরের জন্য রাস্তা নির্মাণ করান। পংকজ নাথ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চানপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে উদ্দেশ্য প্রণীতভাবে রাতের অন্ধকারে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদের পাশে মন্দির নির্মাণ করেন। যার ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কা বিদ্যমান । তিনি কিছু দিন পর পর ভারত সফর করেন। তিনি পাশ্ববর্তী দেশ ভারত গিয়ে সরকারের ভাব মূতি নষ্ট করার লক্ষে সংখ্যালঘু নির্যাতিত হচ্ছেন বলে অল্পকাহিনী তৈরী করে নিজের শুনাম ও খ্যাতি অর্জন করার মানসে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানছেন। যা ইতি পূর্বে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ফলাওভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

 পংকজ নাথের জনপ্রিয়তা এখন  শূন্যের কোঠায়:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলে নিশ্চিত তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। উক্ত আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় জনগণ কাজেই পংকজ নাথের পরিবর্তে যে কোন সৎ-যোগ্য-ন্যায়নিষ্ট এবং আওয়ামী লীগ আদর্শে বিশ্বাসী যে কোন একজনকে মনোনয়ন দিলে এ আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিশ্চিত ভাবে উপহার দেওয়া যাবে।

 পংকজ নাথের অসাংগঠনিক কার্যকলাপ:

দলীয় নেতাকর্মীদের উপর অমানবিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, দুর্ণীতি, সন্ত্রাস, মাদক, নৈরাজ্য, লুটপাট ও জমি দখলের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জন নেত্রী শেখ হাসিনা এমপি, সাধারণ সম্পাদক জন নেতা ওবায়েদুল কাদের এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক- বরিশাল জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি- জননেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ এমপি ও বিভাগীয় দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক- জননেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি সহ কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দদের লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করানো হয়েছে।

পরিশেষে আপনারা জাতির বিবেক কথার বলার উত্তম আশ্রয়স্থল। উপরোক্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে পংকজ নাথ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 + 6 =