একজন আদর্শ মানুষ গড়তে আদর্শ শিক্ষকের কোন বিকল্প নেই ত্রাণ ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

0
195

মীর জেসান হোসেন তৃপ্তী: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড: মো: এনামুর রহমান এমপি বলেছেন একজন আদর্শ মানুষ গড়তে আদর্শ শিক্ষকের কোন বিকল্প নেই। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সাভারে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন অব কিন্ডারগার্র্টেন এ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষক র‌্যালিতে এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে সব সময় কাজ করে চলেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বাংলাদেশ স্টুডেন্টস্ ওযেলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আওরঙ্গজেব কামাল, ফেডারেশন অব কিন্ডারগার্র্টেন এ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা, টাঙ্গাইল রেসিডেনসিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষে মো: আব্দুল লতিফ, মো: নুরুজ্জামান তালুকদার, মো: কামরুল জামান, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জিতু, মহাসচিব মো: শফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আল আজাদ, অর্থ সচিব মো: মফিজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক উসমান গনি, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস্ ওযেলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব শেখ ফরিদ আহম্মেদ চিশতী, সাংবাদিক মো: হাবিবুর রহমান ভ‚ঁইয়া, মো: রিপোন মিয়া, মো: সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশে ৩০মিলিয়ন শিক্ষক ও ৫০০টি সংগঠন শিক্ষকদের সম্মানার্থে এই দিবসটি মহাধুমধামে পালন করেছে। ১৯৪৭ সালে ইউনেস্কোর সাধারণ অধিবেশনে ‘শিক্ষা সনদ’ প্রণয়নের আলোচনার প্রেক্ষিতে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত করার জন্য ১৯৫২ সালে ‘বিশ্ব শিক্ষা সংঘ’ গঠিত হয়। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্ত: রাষ্টীয় সরকারের বিশেষ সম্মিলনে শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার, কর্তব্য ও মর্যাদা বিষয়ক ঐতিহাসিক ইউনেস্কো আইএলও সুপারিশ প্রণীত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯০ সালে ১৬৭টি দেশের ২১০টি জাতীয় সংগঠনের প্রায় ৩ কোটি সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় বেলজিয়াম ভিত্তিক বা আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংগঠন। বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের ১৭০টি রাষ্ট্রের শিক্ষক সম্প্রদায় ২৪ঘণ্টার জন্য হলেও ৫ অক্টোবর কে ‘বিশ্ব শিক্ষা দিবস’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দাবি জানান ইউনেস্কোর কাছে। শিক্ষক সম্প্রদায়ের তীব্র দাবির মুখে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ড. ফ্রেডরিক প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২৬তম অধিবেশনে ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

১৯৯৫ সালে ৯ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং শিক্ষক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথম বারের মত ‘বিশ্ব শিক্ষা দিবস’ পালিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার এই দিবসটি পালনে নিরব থাকলেও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া আদায়ে সরব রয়েছে। কিন্তু যে ইউনেস্কো আইএলও সনদের ভিত্তিতে এই দিবসটি নির্ধারিত হলো-বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০বছরেও শিক্ষকদের সেই অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়নি।

শিক্ষার গুণগতমান ও শিক্ষকদের চাহিদা নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাধীনতার ৫ দশকেও জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। শিক্ষা নীতিতে অনেক ইতিবাচক দিক থাকলেও সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার চরম বৈষম্যের কারণে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আর শিক্ষকেরা মোমবাতির মতো নিজে পুড়ে অন্যকে শিক্ষার আলো দান করেন।

শিক্ষা মানুষের দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করে। তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ, সবাক, সকর্ম করে তুলে মানুষের মধ্যে ঘুমন্ত মানবতাকে জাগত করে। আর পেশাগত দ্বায়িত্ববোধ, মেধা, প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দক্ষতায় পরিপূর্ণ শিক্ষক হচ্ছে দেশ ও জাতির অনন্য মানব সম্পদ। আর প্রবাহের জন্য যা কিছু উত্তম, যা কিছু সত্য-তাই প্রগতিশীলতা।

তারই মিলনমেলার নব তারুণ্যের মধ্যমণিতে যারা আছেন তারা হলেন শিক্ষক। সমাজের মহাকাশের মাঝে নীহারিকা হয়ে অবস্থান করছে শিক্ষক সমাজ। যে নীহারিকা জন্ম দেয় হাজার হাজার নক্ষত্ররাজি, শিক্ষকদের অনাদি আলোক রশ্মির উৎস থেকে জন্ম হয় আগামীর সমাজ সচলতার একক গুলি। যাদের সমাহারে তৈরি হয় গোটা সমাজ, গোটা বিশ্ব।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight + twenty =