দুর্নীতির তথ্য দিন ব্যবস্থা নেব …..শেখ হাসিনা

0
400

নিজস্ব প্রতিবেদক:‘কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) যে কথা বলা হচ্ছে সেটা আদালত দ্বারা অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। এ রায়ের ভিত্তিতেই ১৫তম সংশোধনী হয়েছে। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা আমি দেখি না’ সম্প্রতি ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ/সমপর্যায়ের বিচারকদের জন্য দশম ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো: গোলাম সাওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) শেখ আশফাকুর রহমান বক্তৃতা করেন।  অনুষ্ঠান শেষে আগামী নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানে আছে যে সরকার থাকে, তার স্থায়িত্বকালেই জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য যে সহযোগিতা লাগে এবং যেসব সরকারি ডিপার্টমেন্ট তার আওতায়, সেগুলো নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় চলবে। সরকার ডে টু ডে রুটিন কাজ করবে। সেভাবে সেই আদলেই নির্বাচন হবে। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা আদালত দ্বারা অবৈধ ঘোষিত হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতিতে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, সামাজিক অস্থিরতা বা অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। আর সমাজ নিয়েই যেহেতু রাষ্ট্র, তাই অস্থিতিশীল সমাজ মানেই অস্থিতিশীল রাষ্ট্র।

এরূপ রাষ্ট্রের সঙ্গে বিদেশী রাষ্টগুলো বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক স্থাপন করতে অনীহা দেখায়, তারা বিনিয়োগ করতে ভয় পায়। পরিণতিতে ওই রাষ্ট্র বিশ্বসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, উন্নয়ন বিঘ্নিত হয়। তাই জাতির পিতা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সবসময় তৎপর থেকেছেন।

এমনকি পাকিস্তানি শাসনামলে তিনি যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠে কথা বলেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো দেশে সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অপরাধকর্মে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক এবং এসব বিচার যথাসম্ভব দ্রুতগতিতে হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শুরু থেকেই বিচার বিভাগকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ও সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত মামলাজট কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যার সুফল এরই মধ্যে জনগণ পেতে শুরু করেছে। প্রায়ই খবর পাওয়া যাচ্ছে, দেশের অনেক আদালতেই এখন একক সময়ে মামলা দায়েরের সংখ্যার চেয়ে মামলা নিষ্পত্তির হার বেশি হচ্ছে, যা আমাদের আশান্বিত করছে।’

তিনি বিশ্বাস করেন, সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বিজ্ঞ বিচারকদের উদ্ভাবনীমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ, বিচারিক কর্মঘণ্টার সঠিক প্রয়োগ, কার্যকর মামলা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, দক্ষ আদালত ব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি তাদের সুদক্ষ নেতৃত্বের কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগ মামলার বোঝা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে। বিচার প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব ক্ষেত্রে সব বিচারক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

আইনমন্ত্রী এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে একটি মামলার অনেকগুলো পক্ষ তৈরি হয়ে যায়। কোনো পক্ষ চায় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। কোনো পক্ষ চায় মামলা নিষ্পত্তির সময় প্রলম্বিত হোক। কেউ কেউ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করে আদালতের কালক্ষেপণ করেন। এসব বিষয় মাথায় নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দ্রুতগতিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আবার এক্ষেত্রে ভুলে গেলে চলবে না, বদান্যতা, মহানুভবতা, কৃতজ্ঞতা, বন্ধুত্ব ও করুণা থেকে ন্যায়বিচার আলাদা। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মর্মমূলে রয়েছে নিরপেক্ষতার ধারণা।’

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 + nineteen =