সুরা আল আলাক তাফসির পর্ব ২

0
205

মানব সৃষ্টির কথা বর্ণনার পর এখানে মানুষের শিক্ষার প্রসঙ্গটি উল্লেখিত হয়েছে। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী যে, তিনি মানুষকে কলমের মাধ্যমে তথা লেখার শিক্ষা দান করেছেন। তা না হলে মানুষের মধ্যে জ্ঞানের উন্নতি, বংশানুক্রনিক ক্ৰমবিকাশ সম্ভব হত না। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, পূর্ববর্তীদের জীবন-কাহিনী, আসমানী কিতাব সব কিছুই সংরক্ষিত হয়েছে লেখনির মাধ্যমে । কলম না থাকলে, স্থান এবং দুনিয়ার কোন কিছুই পূর্ণরূপে গড়ে উঠত না। [ফাতহুল কাদীর] হাদীসে এসেছে, রাসূলু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তা’আলা যখন প্রথম সবকিছু করেন, তখন আরশে তাঁর কাছে রক্ষিত কিতাবে একথা লিপিবদ্ধ করেন যে, আমর রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রবল থাকবে।” [বুখারী: ৩১৯৪, ৭৫৫৩, মুসলিম ২৭৫১] হাদীসে আরও বলা হয়েছে, “আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করে এবং তাকে লেখার নির্দেশ দেন । সেমতে কলম কেয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, লিখে ফেলে ।” [মুসনাদে আহমাদ: ৫/৩১৭] (২) পূর্বের আয়াতে ছিল কলমের সাহায্যে শিক্ষা দানের বর্ণনা। এ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকৃত শিক্ষাদাতা আল্লাহ তা’আলা । মানুষ আসলে ছিল সম্পূর্ণ জ্ঞানহীন । আল্লাহর কাছ থেকেই সে যা কিছু জ্ঞান লাভ করেছে। [সা’দী] কলমের সাহায্যে যা শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তিনি এমন সব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা মানুষ জানত না । কেউ কেউ বলেন, এখানে মানুষ বলে আনন আলাইহিস্ সালামকে বোঝানো হয়েছে । আল্লাহ্ তা’আলা তাকে বিভিন্ন বস্তুর নাম ও গুণাগুণ শিক্ষা দিয়েছেন । যেমনটি সূরা আল-বাকারায় বর্ণনা করা হয়েছে। [ফাচ্ছন কাদীর] (3) 56 বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে, ৮- বা বাস্তবেই, অবশ্যই হয় এমন। [মুয়াসসার, তাফসীরুল কুরআন লিল উসাইমীন: ১/২৬১। ( ৪) অর্থাৎ দুনিয়ায় ধন-দৌলত, সম্মান-প্রতিপত্তি যা কিছু সে চাইতো তার সবই সে লাভ করেছে এ দৃশ্য দেখে সে কৃতজ্ঞ হবার পরিবর্তে বরং বিদ্রোহের পথ অবলম্বন করেছে

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

four + 9 =