ওসির কক্ষে ধর্ষণের অভিযোগ দিনাজপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের এস আই কাজল’র বিরুদ্ধে

0
189

মাহবুব আলম মানিক :
সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলার অাওতাধীন দিনাজপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক
( এস আই) কাজল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায় মোমেনা বেগম (২৮) পিতা মনতাজ আলী স্বামী অজিত কালা নামিয়, এক নারীকে মোবাইল চুরির অভিযোগে থানায় ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর ওসির কক্ষে থাকা টয়লেটের ভিতরে জোরপূর্বক দৈহিক মেলামেশা করেন এবং ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই নারীর বিরুদ্ধে ৩৭৯ ধারায় ১৮৬০ পেনাল কোডে চুরির মামলা দায়ের করে পরদিন কোর্টে প্রেরণ করেন এস আই কাজল চন্দ্র রায়।
উক্ত ঘটনার পরে ভুক্তভোগী মোমেনা বেগম জামিনে বের হয়ে এস আই কাজল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে দিনাদিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত ১৩-০৯-২০২৩ ইং তারিখে ভুক্তভোগী মোমেনা বেগম ট্রেন যোগে পীরগঞ্জ হতে দিনাজপুরে এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্য রওনা দিলে পথিমধ্যে এক ব্যাক্তির স্কুল ব্যাগ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও কিছু টাকা হারিয়ে যায়, এতে ওই ব্যক্তি রেলওয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতা চাইলে এস আই কাজল চন্দ্র রায় ও একজন নারী পুলিশ সদস্য মোমেনা বেগম সহ আরও একজন নারীকে সন্দেহভাজন ভাবে জোরপূর্বক আটক করে দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় নিয়ে যান। থানায় নিয়ে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মোমেনা বেগমের কাছে ১৫০০০ হাজার টাকা দাবি করেন ওই নারী পুলিশ সদস্য, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দৈহিক মেলামেশা করে এস আই কাজলের মনোরঞ্জন করার প্রস্তাব দেন তিনি তাতেও রাজি না হলে বেধড়ক মারপিট করে ওসির কক্ষে ঢুকিয়ে টয়লেটের ভিতরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন কাজল চন্দ্র রায় ধর্ষণের কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি।

ভুক্তভোগী মোমেনার স্বামী অজিত অভিযোগ করে আরও বলেন,
আমার স্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে থানার ভিতরে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে। সেদিন আমি খবর পেয়ে দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় দেখা করতে গেলে তারা আমাকে দেখা পযন্ত করতে দেয়নি, আমার স্ত্রীর জামিনের পরে আমি দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় কাজলের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে তারা আমাকে তাড়িয়ে দেয় উপায় পরে কোন উপায় না পেয়ে কোর্টে মামলা করেছি। মামলার পর থেকে এস আই কাজল ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে হয়রানি করা শুরু করেছে, এমনকি আমার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে কৌশলে আরও একটি চুরির মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে এবং কি আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মোবাইলফোন সহ বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে আমি সহ আমার পরিবারের লোকজন এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি আমি আমার স্ত্রীর সাথে জেল হাজতে দেখা করতে যেতে পারিনা গেলে আমাকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করাই।

অন্যদিকে মোমেনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলার বাদী বিপ্লব সরকারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সেদিন ট্রেনে আমার মেয়ের স্কুল ব্যাগ থেকে কিছু টাকা ও মোবাইল ফোন হারিয়েছে এটা সত্য তবে কে নিয়েছে সেটা দেখিনি । আমিতো শুধু রেলওয়ে থানা পুলিশকে বিষয়টি একটু জানিয়ে ছিলাম কিন্তু এতোদূর গড়াবে বুঝতে পারিনি তাছাড়া মহিলার কাছে তো মোবাইলটি পাওয়া যায়নি। আমি মামলা হামলা এমনিতেই পছন্দ করি না ওইদিন আমি মামলা করতে চাইনি এস আই কাজল চন্দ্র রায় আমাকে বললো শুধু একটা সাক্ষর করে যান বাকিটা আমরা দেখবো। আমি সাক্ষর করে চলে আসার পর জানতে পারি ওই মহিলাকে চালান করে দিয়েছে, যাইহোক পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে ওই মহিলার স্বামীর সাথে একটি লিখিত আপোষ মিমাংসা করা হয়েছে।

মিথ্যা মামলা এবং ধর্ষণের বিষয়ে এস আই কাজল চন্দ্র রায়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে সাক্ষাতে কথা বলার প্রস্তাব দিয়ে কলটি কেটে দেন এর পর একাধিক বার কল করলেও তিনি আর কোন কল রিসিভ করেননি। তবে দিনাজপুর রেলওয়ে থানার ওসি হারুন অর রশিদ মামলা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন ওই নারীর বিরুদ্ধে আরও একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তাছাড়া যে অভিযোগে আমার এস আই এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সেটা হতেই পারেনা কারণ আমার থানার সব যায়গায় সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো আছে এমন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এটা উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে মামলা করেছে মামলাটি বর্তমান পিবিআই তদন্ত করছেন বলেও জানান তিনি (ওসি)।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 4 =