নির্বাচনি তপশিল ঘোষণা হলো বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন

0
176

অনেক হিসাব নিকাশের পর নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা হয়ে গেল। আগামি বছরের প্রথম মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তপশিল ঘোষণার পর পরই কিছু বিরোধী দল তপশিল না মানার জানান দিয়ে রাস্তায় মিছিল করে। বিএনপি সহ সমমনা দলগুলো এই তপশিল প্রত্যাখ্যান করে। ইসলামি আন্দোলন বায়তুল মেকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ করে মিছিল নিয়ে আগারওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করতে রওনা দেয়। প্রশ্ন হলো বায়তুল মোকাররম মসজিদ হতে আগারগাও পর্যন্ত মিছিল করে পায়ে হেটে কত জন আগারগাও পর্যন্ত যেতে পারবে? পথে কতজন অসুস্থ হতে পারে? তবে পায়ে হেটে মিছিল নিয়ে তাদের বেশি দূর যেতে হয় নাই। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর পুলিশের বাধায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর থেকে দলটি থেকে আর অন্দোলনের কথা শোনা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন বলছেন বিএনপি গত পনের বছর ধরে সরকার পতনের অন্দোলন করে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। একটি বৃহৎ দল আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর অন্যান্য দলগুওলো আন্দোলনের ক্ষেত্রে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল থেকে বলা হচ্ছে  বিএনপি রাজনৈতিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করার পর বাকি দলগুলোর সরকার বিরোধী আন্দোলনের গতি মন্থর হয়ে যায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। তখন দলটি থেকে বলা হয়েছিল জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না এমনকি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না ভেবে তারা নির্বাচন বয়কট করেছে। নির্বাাচনে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নির্বাচন প্রত্যাক্ষান করে হরতাল ডাকে। তবে হরতাল ডেকে বিএনপির কোন নেতাকর্মী মাঠে ছিল না। সেই সময় বিএনপির ডাকা হরতালের সময় রাস্তায় যানবাহনের চলাচল সহ ট্রেন, স্টিমার ও বিমান সবকিছুর শিডিউল ছিল স্বাভাবিক।

অর্থাৎ ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রত্যাক্ষান করে বিএনপি লাগাতার হরতাল ডেকে কিছুই করতে পারে নাই। যারা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখতে চান তারা বলছেন ২০১৮ সালের নির্বাচন ও তার পরবর্তী পাঁচ বছর বিএনপি আন্দোলন আন্দোলন বলে অযথা সময় পার করেছে।

অবাধ, সুষ্ঠু ও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দলের পক্ষ থেকে অন্দোলনের নামে বিভাগীয় সমাবেশ, রোড মার্চ, পদযাত্রা তেমন কোন সফলতা বয়ে আনতে পারে নাই। এই অবস্থা দেখে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেছেন, দেখতে দেখতে দশ বছর, আন্দোলন কোন বছর?

ওবায়দুল কাদের এর এই বক্তব্য দেশের সকল প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। দেশে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও অর্থনৈতিক মন্দার শিকার সাধারণ জনগণ বলছেন রাজনৈতিক দলগুলো ভেতরে ভেতরে সবাই ঠিক।

মাঝখান দিয়ে সাধারণ জনগণ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি সহ দেশের সকল ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির  শিকার। তারা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চান।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − 5 =