বিফলতা-সফলতায় বিএনপি দায় কার ?

0
32

মোহাম্মদ মোশাররাফ হোছাইন খানঃ ক্ষমতার মসনদ থেকে প্রশাসন ব্যবস্হাকে ব্যবহার করে ক্ষমতাশীন হওয়া আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে ক্ষমতারোহন দুটি ভিন্ন ধারা।

রাজনৈতিক ধারায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর হার-জিতের সংঘটিত কারনগুলো নির্নিত করা যায়। ক্ষমতার মসনদে থেকে প্রশাসনকে সর্বস্তরে ব্যবহার করে নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতাশীন হওয়ার সফলতা-ব্যর্থতা নির্নায়ক নয়। এ ক্ষেত্রে বিরোধীদের রাজনৈতিক শক্তিমত্তা ও কৌশলগুলো স্পষ্ট হয়।

এক কেন্দ্রিক নির্বাচন ও বিজয় অর্জন সরল অংক সূত্রের ছক বাধা সমাধান মাত্র । যদিও এক কেন্দ্রিক নির্বাচনে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাখা হয় তারাও ক্ষমতাশীনদের আশির্বাদ পুষ্টই হয়। অর্থাৎ  “যে কিং হয়, সেই রাজা।

ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে ক্ষমতা গ্রহণই যখন  প্রধান চুডান্ত  লক্ষ্য হয়, তখন প্রতিপক্ষের আন্দোলন, রাজনৈতিক কৌশল, কৌশলের ভীত, নেতৃত্বের গতি-প্রকৃতি নিখুতভাবে আয়ত্বে নিয়ে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও পরবর্তী বিজয়ের প্রথম চুডান্ত ধাপ। এই ধাপের সফলতা বিফলতার উপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকা বা না থাকা ।

ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগ ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি সাধারন নির্বাচনে যে কোন মূল্যে বিরোধী শক্তি বিএনপিকে  সফলভাবে মোকাবিলা করেছে । তাদের নেতৃত্ব ও আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি, প্রতিটি পদক্ষেপ সুক্ষভাবে নির্নয় করে  পাল্টা রোড ম্যাপ ও ডিজাইন ঠিক করে  সব কয়টি নির্বাচনী বৈতরনী পার হয়েছে।

এই নির্বাচনগুলোতে জন সম্পৃক্ত করন  রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে বিরোধীদের দমন, আন্দোলন স্হবির করন ও নেতৃত্বহীন করন কৌশলই প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ হতে দেখা গেছে। এতে তাদের জন সম্পৃক্ততা নিম্ম মূখী হলেও ক্ষমতার পথ  সুগম ও স্মুথ হয়েছে। ক্ষমতাশীনদের এই পেন্টা কৌশলের কাছে বিএনপি পরাজিত হয়েছে।

গত পনের বছর বিএনপির হাতের নাগালে বহু ইস্যু পেয়েছে। কোন ইস্যুতেই কঠোর কোন আন্দোলন দাড় করাতে পারে নি। যা কিছু করেছে তাও খুব সহজে সরকারের কব্জায় যেতে দেড়ি হয় নি।

বিএনপির চেয়ারপরাসনকে সাজা অতঃপর কারারূদ্ধ, অসুস্থ বেগম জিয়ার চিকিৎসা, তারেক রহমানের মামলার রায় এমন অনেক অনেক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে ২০২৪ সালের একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবী ছিলো ব্যাপক গনভিত্তিক।

আওয়ামীলীগের কৌশলের কাছে এবারও ব্যাপক ভিত্তিক এ দাবী আদায়ে নিরন্কুশভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একদফা দাবী আদায়ের ট্রার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিগত ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ ডাক দেয়। এতে কয়েক লাখ বিএনপি কর্মী ঢাকায় জমায়েত হয়।

পরিকল্পনাহীন এই মহাসমাবেশ শুরুর মাত্র এক দের ঘন্টার মধ্যেই সরকার সমাবেশকে ভন্ডুল করে দিতে স্বক্ষম হয়। ২৮ অক্টোবরই সরকার মাঠ দখল করে নেয়। বিএনপি নেতাদের কয়েকজন গ্রেফতার হন বাকীরা আত্নগোপনে চলে যায়।

গ্রেফতারকৃত নেতাদের কাউকে কাউকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে নিরাপত্তা আশ্রয় গ্রহনের গুন্জন শোনা যাচ্ছে।অথচ ২৮ অক্টোবরের পরও বিএনপির গন ভিত্তিক আন্দোলন করার জন্য এবং মাঠ রাজনীতিতে ঘুরে দাড়াতে ২ মাসাধিক সময় ছিলো।

২৮ অক্টোবরের পর পর সরকার তাদের নির্ধারিত পরিকল্পনা মাফিক বিএনপির মহাসচিব সহ সিনিয়র কয়েকজন নেতাকে আটক করে। এতে রূহুল কবির রিজভী সহ অন্যরাও আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থেকে ভার্চুয়ালভাবে দলীয় কর্ম সূচি ঘোষণা করে। মা‌ঝে মধ্যে চোরা গোপ্তাভাবে বিভিন্নস্হানে জনাকীর্ন মিছিল করতেও দেখা গেছে।

ব্যাপক ভিত্তিক একটি গণ আন্দোলনে দাবী আদায়ের লক্ষ্যে হাতে গোনা কয়েকজন মিলে চোরাগোপ্তা মিছিল কিছুতেই কাম্য ছিলো না।দলের বিভিন্ন পর্যায়ে  ৮০ দশক, নব্বই দশক নিয়ে দলাদলিতে থাকা নেতাদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপির গন ভিত্তিক দাবী আদায়ের আন্দোলনের ব্যর্থতা নিয়ে বিএনপিসহ নানা মহলে এর বিচার বিশ্লেষণ হচ্ছে। এ ছাড়া দলটির বর্তমান কর্ণধার লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের রাজনৈতিক যোগ্যতা, দক্ষতা, কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এমনো প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে, বিএনপির মতো একটি বড় দল কতিপয় মোসাহেব বেষ্টিত তারেক রহমান ভবিষ্যৎ দলীয় নেতৃত্ব ও প্রবীনদের টিকিয়ে রাখতে পারবেন তো? যদিও বলা হচ্ছে নির্বাচনের আগে যেহতু সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বিএনপিকে ভাঙ্গাতে পারে নি। তাই বিএনপি এবং নেতৃত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে, দীর্ঘ সংগ্রামেও বিজয়ী হবে।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবার ভিন্ন কথাও বলেছেন, সরকার বিএনপিকে ভাংগার চেয়ে বিএনপিতে সরকারী এজেন্ট রাখা বেশী নিরাপদ। এই এজেন্টরা দিনের আলোয় সরকার বিরোধী জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে আন্দোলন দাড় করাবেন, সুবিধামতো সময়ে সরকারকে তাদের গৃহিত কৌশল সমূহ ডেলিভারি দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার পথ করে দিবেন। এতে সাপও মরবে লাঠিও ভাংবে না।

আবার অনেকে এমনও বলেছেন, বিএনপির আগামী দিনের রাজনৈতিক পথ পরিক্রমা যথেষ্ট কঠিন হয়ে উঠার সম্ভাবনা প্রকট। দলটিতে দক্ষতাপূর্ন বিশ্বস্ত নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দলটির ভিতরে ভিন্ন দলীয় ঘাপটি মারা এজেন্টদের চিহ্নিত করতে হবে। এ কাজটি যতটা শক্তিশালী হবে আন্দোলনে ততটাই সফলতা আসবে।

বিএনপির তৃনমূল ও মধ্য সারির অনেকেই বলেছেন, ফখরুল-রিজভীদের প্রতি তৃনমূল পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলনের প্রবল দাবী ছিলো। এতদসত্ত্বেও ব্যাপক ভিত্তিক কোন আন্দোলন গড়ে তুলে স্হায়ী করতে পারেনি বিএনপি। আন্দোলন যা দাড় করানো গেছে তাও সরকার নিমেষে ভেস্তে দিয়েছে। এর জন্য ম্যানেজ নেতাদের দায়ী করেছেন অনেকে।

এ ছাড়া অনেকে গত পনের বছর যাবৎ বিএনপির কেন্দ্রীয় কোন কোন নেতার  কমিটি বিক্রি ছিল একটি রমরমা বানিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন।এই কমিটি বানিজ্য দলকে পতনের দোড় গোড়ায় নিয়ে ঠেকিয়েছে। আগামীতে কমিটি বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ এমনো অভিযোগ শোনা গেছে।

এই বেচা-কেনা বানিজ্যের ফলে ত্যাগী ও যোগ্যরা  যাদের যোগ্য নেতৃত্বে আন্দোলনের প্রান পেত তারা দল থেকে স্বসম্মানে সরে দাঁড়িয়ে যার যার মতো উপার্জন কাজে মনোনিবেশ করেছেন। এতে বিএনপি বিভিন্ন স্তরে যোগ্য নেতৃত্ব শূন্যতা দেখা দেয়। তারা দলীয় টানে ঘোষিত প্রোগ্রামে হাজিরা দিলেও অন্য কোন কাজে নাক গলায় নি।

 এ জন্য দলের একজন যুগ্ন মহা সচিব, অংগ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে দায়ী করেছেন অনেকে । টাকায় কেনা গুরুত্বপূর্ণ পদবীর  ফেসবুকিশ নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থেকে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণই ছিলো মূল লক্ষ্য। আন্দোলনের মাঠে তাদের কাউকে খুজে পায় নি।

এমনো দেখা গেছে ২৮ অক্টোবরের পর অনেক কেন্দ্রীয় নেতা দশ-বিশ জনের বা ফটো সেশনের মিছিল একটি করে ফেইসবুকে আপলোড দিয়ে  সক্রিয়তার জানান দিয়েছে, বিভিন্ন মাধ্যমে এই গুটি কতেকের মিছিলের চিত্র দিয়ে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মরিয়া ছিলো। অথচ তাদের পদ পদবীতে হাজার হাজার কর্মী নিয়ে রাজপথ মু‌খরিত থাকার কথা ছিলো।

অনেকে আবার এমনো প্রশ্নও করেছেন রূহুল কবির রিজভীর মতো লোক জনাকীর্ন মিছিল করা কতটা তেজী আন্দোলনের বহি:প্রকাশ? তার প্রতি কর্মীদের আস্হা থাকলেতো তার ডাকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী তার সাথে মিছিলে শরীক হওয়ার কথা ছিলো।

রূহল কবির রিজভী তো নূরুল হক নূরুর মতো ভূমিকা রাখতেও পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনাকীর্ন, চোরাগুপ্তা মিছিলগুলো বিএনপির মতো একটি জনবান্ধব দলের জন্য ছিলো অপমান জনক ও সরকারের কাছে ছিলো হাস্যকর বিষয়।  

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত করতে ২০১৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনৈতিক গতি, প্রকৃতি, কৌশল নেতৃত্বের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সমূহ নিখুতভাবে  নজরদারি করতে স্বক্ষম হয়।

সেমতে বিএনপির গৃহিত কৌশলগুলোকে  পর্যায়ক্রমিকভাবে ভন্ডুল করার নীতি প্রয়োগ করে। সরকার একেকটি কৌশল একেকভাবে সফলভাবে লন্ডভন্ড করে দিতে স্বক্ষম হয় । সরকারের এ মনিটরিং কাজে সাহায্য পেয়েছে কয়েক জন ম্যানেজ নেতার মাধ্যমে এমন অভিযোগও রয়েছে অনেকের।

২০০৮,২০১৪,২০১৮, ২০২৪ এ চারটি   নির্বাচনে  আওয়ামীলীগ ভিন্ন ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে। চারটি নির্বাচনে নির্বাচনী কৌশল বুঝে উঠতে বিএনপি নীতি নির্ধারক নেতৃত্ববৃন্দ পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যখন কৌশল বুঝতে পেরেছে ত‌খন সরকারের কৌশলী কাজ শেষ।

একই  কৌশল বারবার প্রয়োগ না করে  বিএনপির আন্দোলনের সাথে মিল করে ভিন্ন ধরনের কৌশল প্রয়োগ করে। এই কৌশলের চুডান্ত রুপ প্রকাশ পায় ২৮ অক্টোবরের একটি অপরিকল্পিত মহাসমাবেশে। কোন আন্দোলনকে বেগবান করতে বিএনপি  সফলতার স্বাক্ষর  রাখতে পারে নি।

এছাড়া আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী নেতারা আস্হার পরিচয় দিতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

এদিকে বিএনপির ২৮ অক্টোবরের ডাকডোল পিটানো অপরিকল্পিত মহা সমাবেশ বিপর্যস্ত করে দিতে পারাটা ছিলো আওয়ামী লীগের টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকার সুস্পষ্ট মাইল ফলক। ২৮ অক্টোবরের পরেই আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ নিজেদের দখলে নিয় নেয়।

এই সফলতার রেশ ধরেই আওয়ামীলীগ নিজস্ব প্লান মাফিক ৭ জানুয়ারী ২০২৪ এর নির্বাচন সম্পন্ন করে। যদিও নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে সংখ্যানুপাতিক ভোটার উপস্থিত করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

অথচ ২৮ অক্টোবর মহা সমাবেশ ভন্ডুল হওয়ার পরও সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন দাড় করানোর মতো বিএনপির হাতে দুই মাস দশ দিন সময় ছিলো।

দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেফতারের পরও ডজন ডজন নেতা ও ক্ষমতাধর কর্মচারীরা বাহিরে ছিলো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য , লাখ লাখ কর্মীও অপেক্ষায় ছিলো কেন্দ্রীয়  কর্মসূচি ডাকের সাথে মাঠের নেতৃত্বের জন্য ।এ সময় ত্যাগী বা পরিক্ষিত হিসেবে পরিচিত কোন নেতাকে রাজপথে পাওয়া যায় নি।

দলের একমাত্র কর্ণধার তারেক রহমান নিয়মিত অনলাইনে ব্রিফিং এর পর ব্রিফিং দিয়েও আন্দোলনের মাঠে নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে পারে নি।

অনেকে বিষয়টি অন্যভাবেও বিশ্লেষণ করেছেন, ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে তারেক রহমানের আশেপাশে থাকা অপু, তপ,  মামুনরা  হবে ক্ষমতার মূল নিয়ামক ।এ বিষয়টিও বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্বের সামনে ছিলো।

অপু, তপু, মামুন বেষ্টিত ও প্রভাবিত তারেক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যে ব্যর্থ ২৮ অক্টোবর পরবর্তী পরিস্হিতি তারই একটি বড় নজির। সরকারও চায় যে তারেক রহমানের মোসাহেবীপনার জালে আবদ্ধ থাকুক।  তার বাবা-মায়ের নীতিতে আসলে সরকারের জন্যও অশনিসংকেত।

কেউ কেউ আবার এমনো বলেছেন,তারেক রহমান ইয়াং নেতৃত্ব তৈরীতে যাদের নির্বাচন করছেন বিএনপিকে ডুবানোর জন্য তারাই যথেষ্ট। ইতোমধ্যেই এর নজির দেখা গেছে।

জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যাদের সম্মানের আসনে রেখেছেন সেখানে অপু, তপু, মামুন প্রমু‌খরা যদি দলের প্রভাবশালীদের কাতারে এসে জায়গা দখল করে নেয়, কেন্দ্রিয় প্রবীন নেতাদের উপর এ সকল আর্বাচিন খবরদারী করতে যায় সে দলটি আন্দোলনের মাঠে সফল হবে এটি একটি দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিইবা হতে পারে।

বিএনপির মতো একটি বড়ো দল যার হাজার হাজার ত্যাগী নেতা কর্মী থাকার দাবীদার, সে দল আন্দোলনের মাঠ থেকে উধাও হয়ে যায় এবং তাদেরকে ক্ষমতার মসনদে বসিয়ে দেবার অবতার পিটার ডি হাসের তৎপরতাও স্তিমিত হয়ে যায়।

লক্ষ লক্ষ ডেডিকেটেড কর্মী বাহিনীর এই দলটি আন্দোলনের মাঠে এভাবেই দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিবে যা খোদ আওয়ামীলীগের কাছেও বিস্ময়কর বিস্ময় হিসেবে দেখা দেয়।

আন্দোলনকে বেগবান রাখতে লন্ডনে থাকা  বিএনপির কর্ণধার তারেক রহমান নেতা কর্মীদের প্রতি বিভিন্ন বক্তব্য, নির্দেশনা দিয়েছেন কিন্তু দলীয় নেতা কর্মীরা তার আহ্বানে খুব একটা সারা দেয় নি।

এর মুল কারন অনেকে আবার এভাবে বিশ্লেষন করেছেন, আন্দোলনে সফলতায় পট পরিবর্তন হলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দে চলে আসবে লন্ডন প্রবাসে থাকা তারেক রহমানের আশপাশে থাকা কিছু মোসাহেব, মামুন পরিবার ।

এরা দলীয় নেতাতো দূরে থাক প্রবীণদেরও কোন পাত্তা দিবে না, আকন্ঠ দূর্নীতিতে আবারো মেতে উঠবে। অনেক প্রবীণ নেতারা এ কারনেও রিক্স নিতে চাচ্ছেন না।  

অনেক প্রবীণ নেতা আছেন যাদের পক্ষে শেষ বয়সে এসে অন্যদল করা যেহতু  সম্ভব নয়, তাই বিএনপির সাথে থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন।অপু-তপু, মামুনদের কর্মকাণ্ড নিরবে হজম করে যাচ্ছেন।

কেউ কেউ আবার এমনও বলেছেন, মামুন পরিবারের এখনো দাবী তারা জিয়া পরিবার টিকিয়ে রেখেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপিকে এমনকি কেন্দ্রিয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের রয়েছে বিশেষ প্রভাব। এই প্রভাবের রেশে দীর্ঘদিনের বিএনপির রাজনীতিতে থাকা অনেকে আত্ম সম্মান নিয়ে সরে দাঁড়াচ্ছে।

কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ বানচালের পর বিএনপির হাতে যথেষ্ট সময় এবং সুযোগ ছিলো তারেক রহমানের রাজনৈতিক অযোগ্যতাই বিএনপি সে সময় ও সুযোগ কাজে লাগাতে পারে নি।তারেক অনুসারীরাই মাঠ আন্দোলনের ইমেজকে নষ্ট করেছে।

আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাহাড়ের কোনায়, ধান ক্ষেতে বা অন্য কোন  স্হানে পলায়ন করে। এধরনের পলায়নপরতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুগান্তকারী একটি কালো অধ্যায়। মাঠ রাজনীতি থেকে  উধাও হয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে কোন বিজয় আজ পর্যন্ত অর্জিত হয় নি।

বিজয় অর্জন করতে যে ত্যাগ স্বীকার করা আবশ্যক, তা করতে বিএনপি পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ।

কেউ কেউ আবার বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে দায়ী করেছেন, তারা বলেছেন বিএনপি দল হিসেবে একটি বড় দল কিন্তু সাংগঠনিক দিক থেকে দলটি যথেষ্ঠ নরবরে একটি দল। গত পনের বছর দলটিকে যেভাবে সুসংগঠিত করার সুযোগ সুযোগ ছিলো তারেক রহমান তা করতে পারেনি।

এছাড়া যে দলে দলীয় প্রধানের কর্মচারীরা দলের কর্মকাণ্ডে এবং কেন্দ্রিয় নেতাদের উপর খবরদারী করতে সাহস রাখে সে দলটি শক্তিশালী সাংগঠনিক দল হতে পারে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে  মধ্য সারির অনেকেই বলেছেন, দলের কর্ণধার যেহতু প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন দলীয় নানা খোজ খবর নিতে তিনি বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলেন।

যার সাথে তিনি ফোনে কথা বলেন সেই বনে যান গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারক , হয়ে যায় ভাইয়ার লোক। এতে করে দলের চেইন অফ কমান্ড বলতে যা বোঝায় তা ভংগুর অবস্হায় গিয়ে ঠেকে।

এমন কথাও চাউর রয়েছে, দলের মহা সচিবের সাথে একজন যুগ্ন মহা সচিবের সাথে  সব সময়ই স্নায়ু যুদ্ধ বিরাজমান ছিলো। মহা সচিবকে আনুষ্ঠানিক সম্মান দেখালেও বাস্তবে পাত্তাই দিতেন না ঐ  যুগ্ন মাহা সচিব ।

এ ছাড়া তারেক রহমান যাদের সাথে যোগাযোগ করতেন তারাও দলের দায়ীত্বশী পদ পদবীধারীদের পাত্তা দিতেন না। তাদের অতি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বিএনপির মাঠ রাজনীতিকে বিপর্যস্ত করে। অনেকে আবার এমনও বলেছেন, অংগসংগঠনগুলোর অনেক নেতাই তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠতা সূত্রে দলের মহা সচিবকে, যুগ্ন মহাসচিবকে পাত্তাই দিতেন না, যেহতু তারা ছিলো ভাইয়ার লোক। এ কারনেও দলের চেইন অফ কমান্ড বলতে কিছু ছিলো না।

বিএনপির ২৮ অক্টোবর মহা সমাবেশ পরবর্তী পরিস্থিতি এক দফা দাবী আদায়ের এ আন্দোলন ছিলো একটি যৌক্তিক এবং গনদাবী যা দেশের আপামর জনসাধারণের দাবীতে পরিনত হয়।

একটি গণ দাবীর  আন্দোলন কেন সর্ববৈব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এ নিয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা  দৃষ্টকোন থেকে বিচার বিশ্লেষণ করছেন।

৭ জানুয়ারির নির্বিঘ্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার পর অনেকে খোদ দলটির বর্তমান সর্বেসর্বা লন্ডনে অবস্হানরত তারেক রহমানের নেতৃত্বের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

কেউ কেউ এমনও বলছেন, “তারেক রহমানের বহুমূখীতা, অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়ীত্ব দেয়া দলের বিপর্যয়ের মূল কারন।এমনো শোনা যায় তার ঘনিষ্ঠজন দাবীদার শত শত। তার সাথে ঘনিষ্ঠজন দাবীদাররাই দলকে ডুবিয়েছে”।

কেউ কেউ আবার বলেছেন, বিএনপির চেইন অব কমান্ড লন্ডন নির্ভর। গণতান্ত্রিক শৃংখলা দলটিতে একেবারেই অনুপস্থিত। অথচ দলীয় শৃংখলাহীন কোন বৃহৎ আন্দোলন সংগ্রামে সফল হওয়া অসম্ভব।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক চর্চার কোন মানদণ্ডে বিচার্য নয়।এই  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্ষমতার মগডাল থেকে গোটা রাস্ট্ট ব্যবস্হাকে দলীয় করনের মাধ্যমে। এ নির্বাচনে যে পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়েছে বিশ্ব রাজনীতির অংগনে হতে পারে একটি নতুন ফর্মুলা।  

আগামীর বিশ্বে বাংলাদেশের মতো দেশ সমূহে এটিও হতে পারে এটিও হতে পারে একটি অনুকরনীয় আদর্শ। নির্বাচনের আগে বিএনপি এবং সরকার বিরোধীরা রাজনৈতিক যে শক্তি মত্তার সাথে আন্দোলন করার কথা ছিলো তা না করে বিদেশীদের নিষেধাজ্ঞা নামক নিয়ামকের দিকে তাকিয়ে ছিলো।

এ নিয়ামক কখনো একটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ফলপ্রসূ কিছুই নয়। এ সরল অংক তারা না মিলেয়ে আমেরিকা-ইউরোপের দিকে তাকিয়ে থেকে আন্দোলনের গতি ও তাল হারিয়ে ফেলে।

৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিনে ভোট কেন্দ্র সমূহে ভোটাররা  না যাওয়াটাই কী বিএনপির প্রতি সাধারন মানুষের সমর্থন? নাকি পদ্ধতিগত কারনে এ ভোটারহীনতা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৭ জানুয়ারি স্বল্প ভোটার উপস্থিতি তারেক রহমানের আহ্বানের সারা হিসেবে মানতে নারাজ অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তারা বলেছেন, যেহতু বিএনপির মত জনবান্ধব দল নির্বাচনে আসে নি তাই ভোটাররা বুঝতে পেরেছে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে। যে কারনে আওয়ামী লীগেরও অনেক ভোটার কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। এতে বিএনপি বা তারেক রহমানের কোন অর্জন নেই।

সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে বিএনপি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ যখন টানা চতুর্থ দফায় সরকার গঠন করেছে, তখন বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনেকের মুখেই শোনা যাচ্ছে  এত মামলা, গ্রেপ্তার, অত্যাচার, চাপ ও প্রলোভনের পরও দল ভাঙেনি এবং মানুষ ভোটে সাড়া দেয়নি;আওয়ামীলীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

একে সফলতা হিসেবে দেখছেন দলটির কর্ণধার থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকলে। এটি তাদের একটি আত্ম শান্তনা ছাড়া আর কিছুই নয়। আওয়ামীলীগ গত পনের বছর বিএনপির সাথে যে আচরন করেছে তা মূলত বিএনপিরই শিখানো।

২০০৬ সালে মামুন নির্ভর তারেক রহমানের অতি রাজনীতিই বিএনপির ক্ষমতাহীনতার  অন্যতম কারন হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

টানা ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। এর মধ্যে এক যুগেরও বেশি সময় কেটেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে। গত দেড় বছর দলটি ছিল সরকার হটানোর ‘এক দফার’ নানা কর্মসূচিতে। ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছেড়েছে বিএনপি।

এরপর দীর্ঘ আন্দোলনে সরকারের পতন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন—কোনোটিতেই সফল হয়নি দলটি। যদিও ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় সমাবেশসহ অনেকগুলো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছে।

দেশের অন্যতম প্রধান এই রাজনৈতিক দলটির দেশব্যাপী সমর্থন ও শক্তি থাকার পরও আন্দোলন কেন বিফল হলো—এ প্রশ্ন এখন বিএনপির নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে।নির্বাচন পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মত বিনিময় করলে উপরোক্ত বিষয়গুলো উঠে আসে।

এ নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা হয়।এ প্রশ্নে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকম মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ পাওয়া গেছে।

তাঁদের বেশির ভাগই মনে করেন, বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার প্রধানতম কারণ রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি নজর না দিয়ে অতিরিক্ত মাত্রার আমেরিকা তার মিত্র শক্তির উপর নির্ভরতা, সরকার ও প্রশাসনের নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা, গ্রেপ্তার, জেল-জুলুম, বিচার ও শাস্তি প্রভৃতি।

পাশাপাশি দলের নেতৃত্ব ও ভংগুর সাংগঠনিক কাঠামো, তারেক অনুসারীদের অযাচিত হস্তক্ষেপ এমন কথাও বলেছেন অনেকে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও বিএনপি সফল হয়নি, সেটা উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ।

কেউ কেউ আবার এমনো বলেছেন, দলটি জোট বদ্ধতা থেকে বের হয়ে যাওয়া করুন পরিনতির অন্যতম কারন।

আন্দোলনের ব্যর্থতার দায় কার

একটি আন্দোলনকে চুডান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে যে রাজনৈতিক যে অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি দরকার, সেটা বিএনপির নেতৃত্ব দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেনি।

বিশেষ করে, আন্দোলন ব্যর্থ করতে সরকারের যেসব ব্যবস্থা ও কৌশল ছিলো , তা মোকাবিলায় পাল্টা কৌশল বা প্রস্তুতি ‌ছিলো না বিএনপি নেতৃত্বের।আন্দোলন সফল করতে এ বিষয়টি ছিলো সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।জানা যায়, দলটির কর্নাধার রাজনৈতিক অনভিজ্ঞ ও কিছু বিশ্বস্ত কর্মচারীদের এ আন্দোলন মনিটরিং এ যুক্ত করে, এতে আন্দোলন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ অনেকের ইগোতে লাগে, আবার এদের কেউ সিনিয়রদের উপর অবান্চিতভাবে প্রভাব বিস্তার করে, যে কারণেও আন্দোলন সফলতার মুখ দেখতে পারে নি।   

একটি নিশ্চিত সাফল্য প্রত্যাশী আন্দোলনের গতি – প্রকৃতিহীনতা ও ব্যর্থতার  দায়ভার কার ? এমনো প্রশ্ন রয়েছে বিএনপি ঘরানার লোকজনের মুখে।

অনেকে বলেছেন, এ দায়ভার অবশ্যই দলটির একক কর্নাধার তারেক রহমানের। তিনি সিনিয়র নেতাদের মর্যাদা দিতে পারেন নি। তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়া যাদের সম্মান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন সেখানে তারেক রহমান নীতি নির্ধারক হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন তপু-অপু মামুনদের মতো লোকদের। আগামীর রাস্ট্র নায়ক শুনতে ভাল লাগা বাস্তবে রাস্ট্র নায়ক হওয়া আসমানে জমিনে ফারাক। যতদিন তারেক রহমানের সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে অপু-তপু মামুনদের  প্রভাবে থাকবেন ততদিন তাকে এ পরিণতিতেই থাকতে হবে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বোদ্ধা। সরকারও চায় তারেক রহমান অপু-তপু মামুনদের প্রভাবে আবদ্ধ থাকুক।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − 5 =