ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

“দাম্পত্যে ভালোবাসার আসল ব্যস্ততা”

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্কঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন না। তাকে অতিরিক্ত ব্যস্ততা দেখাবেন না। স্বামী যখন আপনাকে ডাকবে, অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দেবেন। সে যদি সামান্য কিছুর জন্যও ডাক দেয়, অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দেওয়া উচিত। যদি একটা কাপড় এগিয়ে দিতেও বলে, এক গ্লাস পানি দিতেও বলে, সেটা করাও আপনার দায়িত্ব।

এমন ব্যস্ত হবেন না, বা এমন ব্যস্ততা দেখাবেন না, যেন স্বামী তার প্রয়োজনে আপনাকে পাশে না পায়। স্বামীরা যখন বাড়ি ফিরে, তখন সে চায়—তার স্ত্রী সব সময় তার পাশে থাকুক। তার সাথে কথা বলুক। তার সাথে খাওয়া-দাওয়া করুক। তার ছোটখাটো প্রয়োজন পুরা করুক।

তাই, সবসময় এমন কাছাকাছি থাকুন, যেন এক মুহূর্তের জন্য তার কাছে মনে না হয়—আপনি তার থেকে দূরে আছেন। শারীরিক মানসিক এবং অনুভূতি দিয়ে তার পাশে থাকুন। তার সাথে এমন অনুভূতি নিবেদন করুন, যেন অনুভূতিটিই আপনার মধ্যে ভালোবাসা খুঁজে পায়।

একবার এক মহিলা একজন আলিমের এর কাছে একটা চিঠি দিয়ে তার দাম্পত্য জীবনের সমাধান চাইল। সে চিঠিতে লিখল—”হুজুর, আমি স্বামীর জন্য এত কিছু করি, স্বামীর সংসারের জন্য এত কিছু করি, এরপরও তার মন জয় করতে পারি না। এরপরও তার ভালোবাসা পাই না। সারাদিন গাধার মত মেহনত করি। বিছানাতে শরীরটা লাগানোর সময়টুকুও পাই না। নিজেকে একটুখানি আরাম পর্যন্ত দিই না, এরপরও আমি আমার স্বামীর কাছে অবহেলিত।

কী করি না! কাপড় ধোয়া, রান্নাবান্না করা, ঘর মোছা, ঘর পরিপাটি রাখা, কতকিছু। এতকিছুর পর এই অবহেলা কীভাবে সহ্য করা যায়?”

চিরকুটটি খুলেই ঐ আলিম বুঝে যান—সমস্যা আসলে এই জায়গায়। তিনি চিঠির অপর পাশের সুন্দর করে লিখে দেন—”ঘরের কাজ কমাও, স্বামীর শারীরিক ও মানসিক শান্তির দিকে খেয়াল করো। তার সাথে সময় কাটাও। তার সাথে কথা বল। তাকে ঘিরেই সবকিছু করো। কাজকামের ব্যস্ততা কমিয়ে ফেলো।”

বাস্তবতা এটাই, আজকালকার স্ত্রীরা ঘরের কাজ কাম করতে করতে ভুলে যায়—ঘরের মালিকের প্রয়োজনেই আমার এই ঘরে আসা। ঘরের কাজ করতে গিয়ে যদি মালিকের প্রয়োজনে পুরা করতে না পারি, তবে এত কাজ করে কী-ই‌বা ফায়দা?

এজন্যে শরিয়ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে এভাবে অভিহিত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

অর্থ, তারা তোমাদের পোশাক আর তোমরা তাদের পোশাক।

এর অর্থ কী? যেমনিভাবে মানুষের পোশাক তাকে ঠাণ্ডা-গরম থেকে রক্ষা করে, তেমনি স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে বিপদ-আপদ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। মানুষের শরীরের সবচেয়ে কাছের বস্তু তার পোশাক। পোশাকের চেয়ে কাছের কোনো বস্তু নেই। শরিয়ত বলে দিয়েছে, হে স্বামী, এখন তোমার ব্যক্তিসত্তার সবচেয়ে কাছের হল তোমার স্ত্রী। আর স্ত্রীকে বলে দিয়েছে, তোমার ব্যক্তিসত্তার সবচেয়ে কাছের হল তোমার স্বামী। এজন্যে যে স্ত্রী তার স্বামীর জন্যে বাদী হবে, সেবার কারণে তার স্বামী তার গোলামে পরিণত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button