
মুহাম্মদ জুবাইর
দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম ৯ (কোতোয়ালি) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।রবিবার (৪ জানুয়ারি) যাচাই বাছাই শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন এ সিদ্ধান্ত দেন। অন্যদিকে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ায় আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, ডা. এ কে এম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পূর্ণরূপে নিষ্পত্তি না হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এবং যারা সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ বা নিষ্পত্তি করেননি, তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। যাচাই বাছাইয়ে তাঁর নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াটি এখনো সম্পন্ন হয়নি উল্লেখ করে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
মনোনয়ন বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডা. ফজলুল হক জানান,তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।তিনি বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর আমি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাই। এর আগে জোটগত কারণে বিষয়টি ঝুলে ছিল। দলের সিদ্ধান্ত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি মার্কিন দূতাবাসে দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিই।২৮ ডিসেম্বর আবেদন করি, আমাকে ৫ জানুয়ারি অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আমার বিশ্বাস, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাব ইনশাআল্লাহ।
অন্যদিকে বিএনপির চট্টগ্রাম নগর রাজনীতির মুখ হিসেবে পরিচিত আবু সুফিয়ানের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,কোতোয়ালী আসনটি চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। জামায়াত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে চলে গেলে বিএনপি ও অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য হিসাব কিছুটা হলেও বদলে যেতে পারে।
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান,আইনের যে জায়গায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন, সেটাই করা হয়েছে। নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন চলমান থাকা মানেই তা নিষ্পত্তিকৃত এমন নয়।আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত সনদ পাওয়া জরুরি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী,অন্য কোনো দেশের নাগরিক হলে অথবা নাগরিকত্ব রাখলে কেউ জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারেন না।তবে নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রমাণপত্র জমা দিলে তবেই প্রার্থিতা বৈধ হতে পারে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,আবেদন করা আর নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া এই দুইটি বিষয় আলাদা।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি ১২/১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি চলবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি আর ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত চলবে আনুষ্ঠানিক প্রচার/প্রচারণা
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ এই আসন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে ভোট অঙ্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আদালতের হাতেই।
বিএনপি সমর্থকরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জামায়াতের স্থানীয় নেতারা বলছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক সিদ্ধান্ত। তবে নির্বাচন কমিশন বরাবরের মতোই নিরপেক্ষ থাকার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



