চট্টগ্রামে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান পলাতক আসামি নুর হাসান গ্রেফতার

মুহাম্মদ জুবাইর
আকবরশাহ থানা এলাকার আলোচিত ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লো পলাতক নুর হাসান
চট্টগ্রামে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার পলাতক আসামি নুর হাসান গ্রেফতার চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানার একটি ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার এজাহারনামীয় প্রধান পলাতক আসামি মোঃ নুর হাসান (২৮)কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)৭, চট্টগ্রাম।দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি র্যাব নিশ্চিত করেছে। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অবস্থানরত নুর হাসানকে শনাক্ত করে র্যাবের একটি দল তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। র্যাবের প্রাথমিক তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত নুর হাসানের বিরুদ্ধে আকবরশাহ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।
মামলায় অভিযোগ আনা হয়, ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত গোপন মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা পর্নোগ্রাফি আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।এসব অভিযোগের পর আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলা রুজু হলে তিনি পলাতক হয়ে যান বলে জানা গেছে। এরপর গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে র্যাব ৭ তার অবস্থান শনাক্ত করে এবং পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব বলছে,পর্নোগ্রাফি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তারা শূন্য সহনশীল নীতি অনুসরণ করছে এবং যেকোনো অবস্থান থেকে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুর হাসান বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে,যা তদন্তের স্বার্থে আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে আকবরশাহ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত তথ্য, সাক্ষ্য প্রমাণ যাচাই বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, পলাতক আসামি গ্রেফতারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, শুধু গ্রেফতারই নয়, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।



