অপরাধ

আলোচিত দুই শিশুর মধ্যে ছোট্ট শিশু মোর্শেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে,বড় বোন আইসিইউতে ভর্তি

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে ছোট্ট শিশু মোর্শেদ (১৪ মাস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন।সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার।তিনি জানান,শিশুর মরদেহ তার দাদীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং পরে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি লেমুয়া ইউনিয়নের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ইউএনও আরও বলেন,শিশুটি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিল এবং তাছাড়া চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল।শিশু মোর্শেদের বড় বোন আয়েশাও চার বছর বয়সী এবং বর্তমানে ডায়রিয়ার রোগে আক্রান্ত হয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। তার চিকিৎসা চলমান এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে,যখন চট্টগ্রামের পিএবি সড়কের পাশে অভিভাবকহীন অবস্থায় দুই শিশুকে স্থানীয় এক সিএনজি চালক উদ্ধার করেন। মানবিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন শিশু দুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে তাদের সুষ্ঠু পরিচর্যা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে।

এরপর ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা থেকে শিশুদের বাবা খোরশেদ আলম আনোয়ারা থানায় খোঁজ নিতে আসেন।আদালতের নির্দেশে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের অবহেলার অভিযোগে মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

বর্তমানে শিশুর বাবা জেলহাজতে রয়েছেন।খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে এবং শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
শিশু মোর্শেদের শারীরিক অবস্থার বিবরণ অনুযায়ী,৩০ ডিসেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসন এবং ইউএনও তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন, শিশুদের সুস্থতার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বোন আয়েশার চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ চলছে। প্রশাসন বলেছে, শিশুদের যথাযথ পরিচর্যা, সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন এবং শিশু সুরক্ষা ও পারিবারিক কলহের প্রভাব নিয়ে সামাজিক সচেতনতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে,শিশুদের প্রতি সবধরনের তত্ত্বাবধান ও চিকিৎসা সঠিকভাবে চলবে,আইনত দায়িত্বহীন অভিভাবকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এই ঘটনায় শিশু সুরক্ষা,স্থানীয় প্রশাসনের মানবিক পদক্ষেপ এবং সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button